“স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই করার অধিকার নয়, যত্রতত্র থুতু ফেলছে, মহিলাদের সঙ্গে নোং’রামি…এরপর শুধু ‘জয় হিন্দ’ বললেই বা ১৫ আগস্ট পতাকা তুললেই দেশপ্রেম হয় না!” স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বি*স্ফোরক সুদীপ মুখার্জি! নাগরিক হিসেবে আমরা কি সত্যিই স্বাধীনতার মর্যাদা রাখতে পারছি? সমাজের মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অভিনেতা!

অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের নানা বিষয় নিয়েও বরাবরই নিজের মতামত জানিয়ে এসেছেন অভিনেতা সুদীপ মুখার্জি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে শুধু পর্দার চরিত্রেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের আচরণ, নাগরিক দায়িত্ব থেকে শুরু করে দেশপ্রেম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায় উঠে এসেছে ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং সময়ের সঙ্গে সমাজের বদলে যাওয়ার ছবি। এবারও স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এবং একজন নাগরিকের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সুদীপের কথায় বারবার ফিরে এসেছে তাঁর ছোটবেলার সেই পরিবেশ, যেখানে শৃঙ্খলা ছিল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেনা পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলার একটা বড় সময় আর্মি কমপ্লেক্সে কাটিয়েছেন তিনি। সেই পরিবেশের সঙ্গে শহুরে সাধারণ জীবনের তুলনা করতে গিয়ে অভিনেতা মনে করেন, স্বাধীনতা মানে শুধু নিজের ইচ্ছেমতো কিছু করার অধিকার নয়। বরং স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, একজন মানুষ নিজের স্বাধীনতার কথা বললেও সেই স্বাধীনতা যেন অন্য মানুষের অসুবিধার কারণ না হয়, সেদিকটিও ভাবা প্রয়োজন। আর এখানেই তাঁর বক্তব্যের মূল জায়গা স্বাধীনতা এবং দায়িত্ব একে অপরের থেকে আলাদা নয়।

স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সমাজের বর্তমান মানসিকতা নিয়েও সরব হয়েছেন সুদীপ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক মানুষ স্বাধীনতাকে শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছেমতো চলার সুযোগ হিসেবে দেখেন। যেখানে সেখানে থুতু ফেলা, রাস্তায় আবর্জনা ছুড়ে ফেলা কিংবা নিজের সুবিধার জন্য জনসাধারণের জায়গা নোংরা করা এই ধরনের আচরণকে তিনি প্রশ্ন করেছেন। তাঁর মতে, নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে অন্যের কথা না ভেবে যা খুশি তাই করা যাবে। নাগরিক জীবনে ছোট ছোট দায়িত্ব পালন করাও আসলে একটি বড় সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। আর সেই জায়গাতেই সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন অভিনেতা।

দেশপ্রেম নিয়েও তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সুদীপের মতে, জাতীয় পতাকা তোলা, বিশেষ দিনে দেশাত্মবোধক স্লোগান দেওয়া কিংবা মুখে ‘জয় হিন্দ’ বলা অবশ্যই আবেগের বিষয় হতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র সেখানেই দেশপ্রেম শেষ হয়ে যায় না। একজন নাগরিক প্রতিদিন নিজের দায়িত্ব কতটা সৎভাবে পালন করছেন, সেটিও দেশপ্রেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জাতীয় সংগীত ঠিকভাবে গাওয়া থেকে শুরু করে নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখা, নিয়ম মেনে চলা এবং অন্য মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া এই সাধারণ বিষয়গুলোকেও দেশপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, দেশের প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগে নয়, মানুষের দৈনন্দিন আচরণেও প্রকাশ পাওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ “কোনদিনও ভুলতে পারব না, আমার সারা গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল…” ছয় মাসের সন্তানের সমান টিউ*মারের অ’স্ত্রোপচারের পর পুরীতে গিয়েই অলৌকিক অভিজ্ঞতা! লিঙ্গরাজ মন্দিরে যা ঘটল, তাতেই ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় হল অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়ের! কী অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী থাকলে তিনি?

সুদীপের এই বক্তব্য আসলে স্বাধীনতার অর্থ নিয়েই নতুন করে ভাবার জায়গা তৈরি করে। স্বাধীনতা শুধু নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলা নয়, সেই অধিকারের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বটাও বোঝা জরুরি এটাই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর। ছোটবেলায় সেনা পরিবেশে পাওয়া শৃঙ্খলার শিক্ষা কীভাবে তাঁর সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করেছে, তাঁর কথাতেই তার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাই অভিনেতার এই মন্তব্য শুধু দেশপ্রেমের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করে না, বরং প্রত্যেক নাগরিকের দৈনন্দিন আচরণ নিয়েও ভাবতে বাধ্য করে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা নিজেদের দায়িত্ব কতটা পালন করছি সুদীপ মুখার্জির বক্তব্য সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

You cannot copy content of this page