কোভিডের কয়েক মাসের মধ্যেই ফের ডেঙ্গু, তারপর শরী’রে ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির টিউ*মার! অ’স্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দিতে হয় গর্ভাশয়! দীর্ঘ অসু’স্থতায় থমকে যায় অভিনয়জীবন! সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াননি অভিনয় জগতের কেউ? নিজের জীবনের ভয়*ঙ্কর অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অঞ্জনা বসু! এখন কেমন আছেন অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতে কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রীর হাতে থাকা কাজ শেষ মুহূর্তে অন্য কারও কাছে চলে যাওয়া, কিংবা দীর্ঘদিন কাজের সুযোগ না পাওয়া এমন ঘটনা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন নয়। কখনও তারকা বদল, কখনও প্রযোজনা সংস্থার সিদ্ধান্ত, আবার কখনও ব্যক্তিগত বা পেশাগত সমীকরণের কারণে শিল্পীদের হাতছাড়া হয় বহু প্রতীক্ষিত কাজ। তবে কোনও কাজের জন্য প্রস্তুতি, ডেট দেওয়া এবং পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে সেই কাজ থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা যে কতটা বেদনাদায়ক, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই জানালেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। শুধু কাজ হারানো নয়, অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি, গুরুতর অসুস্থতা এবং রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর পেশাগত জীবনে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কথাও প্রকাশ্যে বললেন তিনি। তাঁর কথায় উঠে এল, অভিনেতার জীবন যতটা গ্ল্যামারাস বলে বাইরে থেকে মনে হয়, বাস্তবে ততটাই অনিশ্চিত এবং সংগ্রামের।

বাংলা টেলিভিশন ও সিনেমার পরিচিত মুখ অঞ্জনা বসু দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর অভিনীত একাধিক চরিত্র দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে দৃঢ়, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং কিছুটা গম্ভীর ধরনের চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁকে কম লড়াই করতে হয়নি। সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের পাশাপাশি সংসার, সন্তান, দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। জানিয়েছেন, অভিনয়ের পাশাপাশি পরিবার তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এমনকি ছেলের ভবিষ্যতের জন্য পাটনা থেকে কলকাতায় নিয়মিত প্রায় ১০-১১ ঘণ্টা যাতায়াত করেও শুটিং করেছেন। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর বাড়ির কাচ ঢিল মেরে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী। তবু পরদিনই সমস্ত কিছু সামলে শুটিংয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

অঞ্জনা বসুর কথায়, তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় আক্ষেপের জায়গা হয়ে রয়েছে সুশান্ত সিং রাজপুত অভিনীত ‘দিল বেচারা’। তাঁর দাবি, ছবিতে সুশান্তের সঙ্গে অভিনয়ের কথা হয়েছিল তাঁর। কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া তাঁকে যোগাযোগ করে অডিশনের মতো একটি প্রক্রিয়ার পর মুম্বইয়ে ডেকেছিলেন। সেখানে তিনি সঞ্জনা সাংঘির সঙ্গে কাজের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। দু’বার মুম্বই গিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পর তাঁর ডেটও ব্লক করা হয়েছিল। কলকাতায় ফিরে এসে তিনি জানতে পারেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে যে তাঁর জায়গায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ওই চরিত্রে অভিনয় করছেন। অঞ্জনা জানান, তাঁকে বিষয়টি আলাদা করে জানানো হয়নি। যদিও এই ঘটনা নিয়ে তিনি কাউকে ফোন করে প্রশ্নও করেননি। তাঁর বক্তব্য, ইন্ডাস্ট্রিতে এমন ঘটনা তাঁর সঙ্গে একবার নয়, একাধিকবার ঘটেছে ডেট নেওয়া, কাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে।

অভিনেত্রীর কর্মজীবনে বাধা শুধু কাজ হারানোতেই থেমে থাকেনি। ২০২২ ও ২০২৩ সাল তাঁর জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল বলে জানান অঞ্জনা। ওই সময় দু’বার কোভিডে আক্রান্ত হন তিনি, দু’বারই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান। কোভিডের কয়েক মাসের মধ্যেই ফের ডেঙ্গু হয় তাঁর। এর আগে আরও তিনবার ডেঙ্গু হয়েছিল বলেও জানান তিনি। এরপর শরীরে বড় টিউমার ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হিস্টেরেক্টমি করতে হয়। তাঁর দাবি, শরীর থেকে প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের টিউমার বের করা হয়েছিল। একের পর এক অসুস্থতা ও চিকিৎসার ধাক্কায় প্রায় দেড় বছর কার্যত স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় কাজের সুযোগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। একটি দৈনিক ধারাবাহিক তিন দিনের নোটিসে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও জানান অভিনেত্রী। সেই সময় প্রায় দেড় বছর তাঁকে কেউ কাজের জন্য ডাকেননি বলেও জানান তিনি। তবে এর কারণ সরাসরি রাজনীতি ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করেননি অঞ্জনা।

আরও পড়ুনঃ সেই এক নোং’রা বিতর্কের জেরেই ইন্ডাস্ট্রির ছাড়তে হয়েছিল কৃষ্ণকিশোর মুখোপাধ্যায়? একের পর এক হিট চরিত্র, একসময় বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা কেন হঠাৎ হারিয়ে গেলেন পর্দা থেকে? কোন অভিনেত্রীর সঙ্গে কী এমন ঘটিয়েছিলেন যে বিনোদন জগত থেকে নিজেকে অন্তরালে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তিনি?

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি অঞ্জনা বসু। বরং তাঁর কথায়, এখন নতুন করে কোথাও গিয়ে কাজের জন্য লড়াই বা ‘স্ট্রাগল’ করতে চান না, তবে ভালো কাজের সুযোগ এলে তিনি অবশ্যই কাজ করবেন। বাংলা ও হিন্দি দুই জায়গাতেই কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সারোজ খানের পরিচালনায় নৃত্যনির্ভর কাজ থেকে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনয় বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনের বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কাছে সাফল্যের অর্থ শুধু জনপ্রিয়তা বা বেশি কাজ পাওয়া নয়; নিজের দায়িত্ব পালন করা, পরিবারকে পাশে রাখা এবং নিজের মতো করে ভালো থাকা। অঞ্জনার কথায়, অভিনয় না থাকলেও সংসার, ছেলের সঙ্গে কথা বলা, রান্না করা কিংবা ঘুরে বেড়ানোর মতো নিজের ভালো লাগার জায়গাগুলো তাঁকে মানসিকভাবে শক্তি দেয়। তাই কাজের অনিশ্চয়তা, অসুস্থতা কিংবা হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সুযোগ কোনও কিছুই তাঁর দীর্ঘ অভিনয়যাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

You cannot copy content of this page