ছোটবেলা মানেই নানা রকমের কৌতূহল, আবেগ আর নতুন কিছু জানার অদম্য আগ্রহ। বড়দের জগৎ সম্পর্কে জানতে গিয়ে অনেক সময় এমন কিছু বিষয়ও শিশু-কিশোরদের সামনে আসে, যা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে তারা সংকোচ বোধ করে। সেই বয়সের কৌতূহল থেকেই কখনও লুকিয়ে বই পড়া, কখনও নিষিদ্ধ বলে মনে হওয়া কোনও বিষয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা ছোটবেলার এমন অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে হয়ে ওঠে মজার কিংবা স্মরণীয় ঘটনা। ঠিক তেমনই নিজের ছোটবেলার একটি ব্যক্তিগত এবং বেশ চমকপ্রদ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত।
বাংলা নাট্য ও অভিনয় জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ সোহিনী সেনগুপ্ত। কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের কন্যা হিসেবে ছোট থেকেই থিয়েটারের পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং বেড়ে ওঠার নানা অভিজ্ঞতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। এবার তেমনই এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছোটবেলার এমন একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন সোহিনী, যা শুনে অনেকেরই মনে পড়তে পারে নিজেদের কৈশোরের কৌতূহলের কথা।
সাক্ষাৎকারে সোহিনী জানান, ছোটবেলায় কৌতূহলবশত তিনি বাড়িতে কিছু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা বই লুকিয়ে এনে পড়তেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের কেউ জানতে পারবেন, এমনটা হয়তো তিনি ভাবেননি। কিন্তু একসময় তাঁর বাবা রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের নজরে পড়ে যায় সেই বই। ফলে লুকিয়ে পড়ার বিষয়টি আর গোপন থাকেনি। ছোটবেলায় এমন একটি বিষয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার পর সাধারণত বাবা-মায়ের কাছ থেকে বকুনি বা কঠোর শাসনের আশঙ্কাই থাকে। কিন্তু সোহিনীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম একটি ঘটনা।
বাবার প্রতিক্রিয়ার কথাও সাক্ষাৎকারে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন সোহিনী। তাঁর দাবি, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত তাঁকে বকাঝকা করেননি বা বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতার পাঠ দিয়ে ভর্ৎসনাও করেননি। বরং মেয়েকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন প্রায় ১৫ পাতার একটি দীর্ঘ চিঠি। সেই চিঠিতে মূলত বইগুলির সাহিত্যমান নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি। কেন ওই ধরনের লেখাকে উচ্চমানের সাহিত্য বলা যায় না, সাহিত্য এবং পর্নোগ্রাফির মধ্যে পার্থক্য কোথায় সেই বিষয়গুলিই অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অর্থাৎ শাসনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি বোঝানোর পথই বেছে নিয়েছিলেন সোহিনীর বাবা।
আরও পড়ুনঃ আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতো স্কুলের যেতেই দুর্ঘ’টনার শিকার সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে! পায়ে ও মাথায় গুরুতর চো’ট! তড়িঘড়ি আদিদেবের কাছে ছুটলেন অভিনেত্রী! এমন যেমন আছে সে?
সোহিনী সেনগুপ্তের এই স্মৃতিচারণ তাই শুধু ছোটবেলার একটি চমকপ্রদ ঘটনা নয়, বরং বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের একটি অন্য দিকও তুলে ধরে। একটি শিশুর কৌতূহলকে কীভাবে রাগ বা ভয় দেখিয়ে নয়, বরং যুক্তি এবং আলোচনার মাধ্যমে বোঝানো যায় সেই দৃষ্টান্তই যেন তাঁর এই অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে। ছোটবেলায় লুকিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের বই পড়তে গিয়ে বাবার হাতে ধরা পড়া এবং তার পরেই পাওয়া সেই ১৫ পাতার চিঠি বহু বছর পরও সোহিনীর মনে রয়ে গিয়েছে সেই ঘটনা। আর সেই ব্যক্তিগত স্মৃতিই এবার তাঁর কথায় নতুন করে সামনে এল।






