“বাঁচতে দিন প্লিজ!” “আমাদের মধ্যে যা হয়েছে, সেটা আমরা বুঝে নেব…” বিয়ের ৫ মাসেই ডিভোর্স জল্পনা! শ্যামৌপ্তির বলা ‘কোনও কথা বলতে আমার রুচিতে বাঁধছে’ থেকে অভিকার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বিত’র্কের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন রণজয় বিষ্ণু! কাঁদো কাঁদো হয়ে ভিডিও বার্তায় জানালেন কোন আবেগঘন আবেদন?

বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু (Ranojoy Bishnu) এবং অভিনেত্রী শ্যামৌপ্তি মুদলির (Shyamoupti Mudly) সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সমাজমাধ্যমে জোর চর্চা চলছে। চলতি বছরের ভালোবাসার মাসে বিয়ের পর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের দাম্পত্যে নাকি সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন দাবি ঘিরে শুরু হয় একের পর এক জল্পনা। পাশাপাশি শোনা যায়, শ্যামৌপ্তি নাকি এখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন। অন্যদিকে, ‘প্রতিজ্ঞা’ ধারাবাহিকে সহঅভিনেত্রী অভিকা মালাকারের সঙ্গে রণজয়ের পর্দার রসায়ন নিয়েও নানান মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই সব দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নেটপাড়ায় আলোচনা থামেনি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই কিছুদিন আগে একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন রণজয় বিষ্ণু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাঁকে বা শ্যামৌপ্তিকে না জিজ্ঞেস করেই নানা ধরনের খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। অভিকা মালাকারের সঙ্গে প্রেমের জল্পনা নিয়েও তিনি বলেন, রোম্যান্টিক ধারাবাহিকে অভিনয় করলে দর্শকদের উচ্ছ্বাস থাকতেই পারে, কিন্তু সেই কারণেই বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নিয়ে অনুমান করে খবর লেখা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, যদি সত্যিই তিনি কোনও সম্পর্কে থাকতেন, তবে তা প্রকাশ্যে এভাবে দেখাতেন না। তিনি আরও বলেন, চ্যানেল এবং প্রযোজনা সংস্থার প্রচারের স্বার্থেই সহঅভিনেতাদের একসঙ্গে ছবি পোস্ট করতে হয়, সেটাকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

এরপর ফের সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে আরও একবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেতা। ভিডিওর শুরুতেই তিনি লেখেন, “বাঁচতে দিন প্লিজ”। সেখানে রণজয় বলেন, “আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। শ্যামৌপ্তি এবং আমার মধ্যে যা হয়েছে, আমরা বুঝে নেব। আমাদেরকে বাঁচতে দিন।” একই সঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, না জেনে বা সত্যতা যাচাই না করেই বিভিন্ন জায়গায় ভুল খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লাগাতার জল্পনা একজন মানুষের মানসিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ধরনের খবর প্রকাশের আগে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আবেদন জানান অভিনেতা।

ভিডিও বার্তায় রণজয় আরও একটি বিষয় নিয়ে সরব হন। ‘প্রতিজ্ঞা’ ধারাবাহিকে তাঁর এবং অভিকা মালাকারের অনস্ক্রিন জুটিকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে যেভাবে কটাক্ষ ও নানা মন্তব্য করা হচ্ছে, তারও প্রতিবাদ করেন তিনি। অভিনেতার দাবি, একটি ধারাবাহিকের চরিত্র বা জুটির জনপ্রিয়তাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কোনও কারণ নেই। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার পেশাগত কাজকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। যদিও এই ভিডিওর কমেন্ট সেকশন তিনি বন্ধ রেখেছেন, তবুও তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

অন্যদিকে, বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে শ্যামৌপ্তি মুদলির প্রতিক্রিয়াও আগে আলোচনায় এসেছিল। সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “এই সম্পর্কে এখনই কোনও কথা বলতে আমার রুচিতে বাঁধছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর জল্পনা আরও বেড়েছিল। একই সময়ে সমাজ মাধ্যমে দাবি ওঠে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি নাকি বাবা-মায়ের বাড়িতেই রয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে দুই পক্ষের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের কথা স্বীকার করেননি। ফলে পুরো বিষয়টি এখনও জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “যে ৩টে অভ্যাস আমার প্রতিটা সকালকে বদলে দিয়েছিল…” ৩২ বছর আগের সেই ছবি পোস্ট করে আবেগঘন মীর! রেডিও জীবনের শুরুর স্মৃতি ভাগ করে কী লিখলেন অভিনেতা-সঞ্চালক? ‘আপনি চলে যাওয়ার পর রবিবারের গল্পগুলোর রোমাঞ্চটাই হারিয়ে গেছে, সেই কণ্ঠের জাদু খুব মিস করি!’ একবার কি ফিরে আসা যায় না? ভেসে এল অনুরাগীদের অসংখ্য অনুরোধ!

রণজয় বিষ্ণুর নতুন ভিডিও বার্তার পর বিষয়টি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল এবং যাচাই না করা খবর একজন শিল্পীর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, অভিনেতার এই আবেগঘন আবেদনও সমাজমাধ্যমে নজর কেড়েছে। এখন দেখার, আগামী দিনে রণজয় বা শ্যামৌপ্তির পক্ষ থেকে এই বিষয় নিয়ে নতুন কোনও বক্তব্য সামনে আসে কি না। আপাতত অভিনেতার একটাই অনুরোধ, “আমাদেরকে বাঁচতে দিন।”

You cannot copy content of this page