“স্বামী বিবেকানন্দের দেখানো পথেই চলতে চাই এবার…” ব্যতিক্রমী জীবনদর্শন আর জীবনযাপনের ভাবনায় বারবার মুগ্ধ করেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হল না! পরবর্তী জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে অভিনেতা মুখ খুলতেই হইচই! আধ্যাত্মিকতার পথে হাঁটার ইঙ্গিত, তবে কি ধীরে ধীরে অভিনয়জীবনের ইতি টানার প্রস্তুতি শুরু করলেন টোটা রায়চৌধুরী?

বিনোদন জগতের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তাভাবনা এবং জীবনদর্শন নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল বরাবরই তুঙ্গে। পর্দায় যাঁদের দেখে দর্শক অভ্যস্ত, তাঁরা ক্যামেরার বাইরে কীভাবে জীবন কাটান, কী ভাবেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা কী তা জানার আগ্রহ থেকেই বারবার উঠে আসে তারকাদের সাক্ষাৎকার। বিশেষ করে কোনও অভিনেতা যখন শুধুমাত্র অভিনয় নয়, সমাজ, পরিবার, সম্পর্ক কিংবা নিজের জীবনদর্শন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন, তখন সেই বক্তব্য আলাদা মাত্রা পায়। জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারেও উঠে এসেছে এমনই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ। অভিনয়জীবনের ব্যস্ততা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, নতুন প্রজন্মের মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের পরিকল্পনা একাধিক বিষয় নিয়ে নিজের মতামত স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।

বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিনের পথচলায় টোটা রায়চৌধুরী নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে গেলেও ‘ফেলুদা’ চরিত্রে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর কেরিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। পরবর্তীতে ‘শ্রীময়ী’, ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-সহ একাধিক কাজ তাঁকে আরও বড় পরিসরে পরিচিতি দেয়। বাংলা ছাড়িয়ে হিন্দি ও দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করেছেন তিনি। তবে অভিনয়ের বাইরেও তাঁর কথাবার্তায় বারবার উঠে আসে নিজের মূল্যবোধ ও সামাজিক ভাবনা। ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগত রাখার পাশাপাশি নিজের শিল্পীসত্তা এবং নীতির সঙ্গে আপস না করার যে অবস্থান তিনি নিয়েছেন, তা অনেক দর্শকের কাছেই অনুপ্রেরণার।

সাক্ষাৎকারে আগামী দিনের জীবন নিয়ে টোটার পরিকল্পনাতেও ছিল আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। অভিনেতা জানান, ২০৩৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি পূর্ণসময়ের অভিনেতা হিসেবে কাজ করতে চান। এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়কে পার্টটাইম হিসেবে রাখার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। বাকি সময় তিনি অন্য কিছু করতে চান, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে যোগ নিয়ে পড়াশোনা। তবে তাঁর কাছে যোগ মানে শুধুমাত্র শরীরচর্চা বা হঠযোগ নয়। ধ্যানযোগ, রাজযোগ এবং ভক্তিযোগের মতো বিভিন্ন পথের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতার গভীরে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। স্বামী বিবেকানন্দ যে আধ্যাত্মিকতার পথ দেখিয়ে গিয়েছেন, সেই পথ অনুসরণ করেই জীবনের একটা সময় আবাসিকভাবে থেকে এই শিক্ষা অর্জন করতে চান বলে জানান টোটা।

তাঁর কথায়, এই ধরনের সাধনা করতে হলে শহুরে ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে সময় দিতে হবে। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় সেই জীবনযাপন করবেন, আর বাকি সময় কেউ কাজের জন্য ডাকলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী অভিনয় করবেন। তবে সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন জি’ নিয়ে টোটার বক্তব্য। নিজের মেয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই প্রজন্মকে নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্ম অসম্ভব সাহসী এবং নিজেদের শর্তে জীবনযাপন করতে চায়। সমাজ বা পরিবার থেকে নির্দিষ্ট বয়সে নির্দিষ্ট কাজ করতেই হবে চাকরি, বিয়ে, সন্তান এমন পুরনো ছকে তারা নিজেদের জীবনকে বাঁধতে রাজি নয়।

নিজেদের জীবনের পথ নিজেরাই ঠিক করার মতো আত্মবিশ্বাস এবং স্পষ্টতা এই প্রজন্মের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন অভিনেতা। তাঁর মেয়ে অভিনয় জগতে না এসে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছে এ প্রসঙ্গে টোটা জানান, তিনি সন্তানের সিদ্ধান্তে কোনও কিছু চাপিয়ে দিতে চান না। বরং নতুন প্রজন্ম নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভবিষ্যৎ বেছে নিচ্ছে বলেই তিনি তাঁদের নিয়ে আশাবাদী। টোটা রায়চৌধুরীর এই বক্তব্যে আসলে উঠে এসেছে প্রজন্ম বদলের একটি বড় ছবি। তাঁর মতে, বর্তমান তরুণরা শুধু প্রচলিত সামাজিক নিয়ম মেনে জীবন কাটাতে চায় না, বরং নিজেদের পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায়।

আরও পড়ুনঃ এক, দুই নয়, সাত বছরে মোট ছয়টি প্রেম! শ্যামৌপ্তিকে বিয়ের আগে মডেল থেকে অভিনেত্রীদের সঙ্গে একের পর এক সম্পর্ক! সোহিনী থেকে অস্মিতা, রণজয় বিষ্ণুর সম্পর্কের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে কাদের নাম? কেন টিকিয়ে রাখতে পারেননি একজনকেও?

তাঁদের মধ্যে রয়েছে আত্মবিশ্বাস, প্রত্যয় এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায় নেওয়ার মানসিকতা। একই সঙ্গে নিজের জীবনের পরবর্তী অধ্যায় নিয়ে টোটার যে পরিকল্পনা অভিনয়ের পাশাপাশি যোগ, ধ্যান এবং আধ্যাত্মিকতার পথে এগিয়ে যাওয়া সেটিও তাঁর জীবনদর্শনের একটি অন্য দিক তুলে ধরে। একদিকে নতুন প্রজন্মের স্বাধীন চিন্তাকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজের জীবনের শেষপর্বে আত্মঅনুসন্ধানের পথ বেছে নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। ফলে অভিনেতার এই সাক্ষাৎকার শুধুমাত্র তাঁর কেরিয়ার নিয়ে নয়, বরং বদলে যাওয়া সমাজ, নতুন প্রজন্মের মানসিকতা এবং জীবনের অর্থ খোঁজার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়ে গেল।

You cannot copy content of this page