“যে হাত এতদিন ধরে রেখেছি, সেই হাত ধরেই যেন বাকি পথটুকুও হেঁটে যেতে পারি” বাড়ির অমতে বয়সে অনেক বড় অতনুকে বেছে নিয়েছিলেন, সন্তানহীন হতেও এত বছর পর অটুট দু’জনের ভালোবাসা! বর্তমানে ভাঙনের যুগে অনুপ্রেরণা এই তারকা দম্পতির গল্প! এতটুকু আক্ষেপ নেই, উল্টে ৩০তম বিবাহবার্ষিকীতে কোন উপলব্ধি ভাগ করলেন অপরাজিতা আঢ্য?

অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য এবং তাঁর স্বামী অতনু হাজরা এদিন তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ৩০ বছর পূর্ণ করলেন। বিশেষ এই দিনটি উদযাপন করতে সমাজমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি ও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। ৩০ বছর আগের সেই বিশেষ দিনের কিছু স্মৃতিও নতুন করে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। শুধু ছবি বা শুভেচ্ছা নয়, এই বিশেষ দিনে নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে গভীর এক উপলব্ধির কথাও জানিয়েছেন অপরাজিতা। তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার কী, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বরাবরই তিনি নিজের বিয়ের কথা বলেন। ৩০তম বিবাহবার্ষিকীর দিনেও সেই একই কথা জানিয়ে সম্পর্কের নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন পর্দার পরিচিত ‘লক্ষ্মী কাকিমা’।

সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা ভিডিওতে অপরাজিতা বলেন, এই দিনটি তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ। জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার কী, তাঁকে কেউ প্রশ্ন করলেই তিনি বিয়ের কথা বলেন। এর পিছনে রয়েছে তাঁর পরিবারের ভূমিকা। অভিনেত্রী জানান, তিনি একটি যৌথ পরিবারে থাকেন এবং সেই পরিবারের সদস্যরা কখনও তাঁকে ভুলের জন্য বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি। তাঁর কথায়, তিনি একজন মানুষ এবং তাঁর ভুল হতেই পারে। জীবনে অনেক ক্ষেত্রে ভুল হলেও পরিবারের কেউ কখনও তাঁকে জিজ্ঞাসা করেননি, তিনি কেন এমন করলেন। কারণ পরিবারের মানুষ জানেন, কোনও ভুল হয়ে গেলেও তাঁর উদ্দেশ্যের মধ্যে পরিবারের ভাল চাওয়ার বিষয়টি ছিল।

অপরাজিতা আরও জানান, তাঁর এবং অতনুর সম্পর্ক এতটা গভীর হয়ে ওঠার পিছনে একাধিক মানুষের অবদান রয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে বিশেষ একজনের কথা আলাদা করে স্মরণ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি হলেন তাঁর প্রথম পরিচালক জগন্নাথ গুহ। প্রয়াত এই পরিচালকের হাত ধরেই অভিনয় জগতে অপরাজিতার পথচলা শুরু হয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, জগন্নাথ গুহ না থাকলে তিনি আজকের অপরাজিতা আঢ্য হয়ে উঠতে পারতেন না। শুধু অভিনয় জীবন নয়, তাঁর সঙ্গে অতনু হাজরার পরিচয় এবং পরবর্তীতে এই পরিবারে আসার পথও তৈরি হয়েছিল সেই সূত্রেই। তাই জীবনের এই বিশেষ দিনে প্রয়াত পরিচালককে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন তিনি।

জগন্নাথ গুহকে স্মরণ করে অপরাজিতা বলেন, ‘আমার প্রথম পরিচালক, জগন্নাথ গুহ, উনি আর নেই। প্রয়াত হয়েছেন। তবে উনি যেখানেই থাকুন, নিশ্চয় আমাদের দেখছেন, ওঁকে প্রণাম জানাই। উনি না থাকলে আমি অপরাজিতা আঢ্য হতে পারতাম না। অতনুর সঙ্গে আমার আলাপ, এই বাড়িতে আসা কিছুই হতো না। উনি না থাকলে রাস্তাটা এত সুন্দর হতো না।’ তাঁর এই কথাতেই স্পষ্ট, অভিনয় জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও প্রথম পরিচালকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিন দশকের দাম্পত্যের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাই নিজের জীবনের এই বিশেষ মানুষটির অবদানও ভুলে যাননি অভিনেত্রী।

৩০তম বিবাহবার্ষিকীতে প্রকাশ করা ভিডিওর সঙ্গে একটি আবেগঘন বার্তাও লিখেছেন অপরাজিতা। সেখানে তিনি গুরুর আশীর্বাদ ও কৃপায় ভবিষ্যতের পথও একইভাবে ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার প্রার্থনা করেছেন। পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘ পথচলায় যাঁরা কখনও সুর, কখনও ছন্দ, আবার কখনও নীরব সঙ্গী হয়ে পাশে থেকেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে প্রণাম, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অভিনেত্রীর কথায়, এই মানুষগুলির উপস্থিতি না থাকলে জীবন হয়তো জীবনই থাকত, কিন্তু এত সুন্দর হয়ে উঠত না। ২৯ বছরের ভালোবাসাকেও তিনি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ “সুমন চট্টোপাধ্যায় থাকাকালীন কেউ বলেনি হিন্দু ব্রা’হ্মণ হয়ে কেন এই গান গাইছেন, কবীর সুমন হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠল মুস’লমান হয়ে কেন গাইছেন!” ধর্মান্তরের পর ‘আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু’ গেয়ে কটা’ক্ষের মুখে পড়েছিলেন গায়ক, কিন্তু সত্যিই কি সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ের কারণেই বদলেছিলেন ধর্ম? নাকি পিছনে ছিল অন্য কোনও অজানা কারণ? অবশেষে নিজেই জানালেন আসল কথা!

এদিন নিজের এবং অতনুর বিয়ের একাধিক পুরনো ছবিও প্রকাশ করেছেন অপরাজিতা আঢ্য। ৩০ বছর আগের সেই বিশেষ দিনটিকে যেন আরও একবার ফিরে দেখেছেন তিনি। বার্তার শেষে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘যে হাত এতদিন ধরে রেখেছি, সেই হাত ধরেই যেন বাকি পথটুকুও হেঁটে যেতে পারি।’ তিন দশকের সম্পর্কের এই মাইলফলকে তাঁর কথায় উঠে এসেছে ভালোবাসা, বিশ্বাস, পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং একসঙ্গে পথ চলার ইচ্ছা। তাই অপরাজিতার কাছে ৩০তম বিবাহবার্ষিকী শুধুমাত্র একটি বিশেষ দিন নয়, বরং তাঁর জীবনের দীর্ঘ পথচলার অন্যতম মূল্যবান অধ্যায়।

You cannot copy content of this page