“প্রাইমারি ইনভেস্টিগেশনে প্রমাণ লোপাট করে বিগত সরকার…” অভয়ার মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে ‘অন্য দিশা’র ইঙ্গিত রুদ্রনীলের! আজও মনে পড়লে শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে আসে ঠান্ডা স্রোত! আজকের দিনেই দু’বছর আগে, আর জি করের নার’কীয় ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ, তার বিচার অধরা! সরকার বদলেছে, ক্ষমতায় বিজেপি, এবার তদন্তে আসতে চলেছে বড় অগ্রগতি? কী জানালেন তারকা বিধায়ক?

আরজি কর-কাণ্ডের অভয়ার মৃত্যুর দু’বছর পূর্ণ হল আজ। ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দুই বছর পরও সেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। অভয়াকে স্মরণ করে এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নীরবতা পালন করা হয়েছে। সেই আবহেই ফের সামনে এসেছে তদন্ত, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। অভয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

অভয়ার মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের সময়ই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর দাবি, “প্রাইমারি ইনভেস্টিগেশনের সময় যাতে প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া যায়, বিগত সরকার পুলিশ সিস্টেমকে কীভাবে আটকে রেখে দিয়েছিল, সেটা আমরা সবাই জানি।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া এবং দ্রুত দেহ সৎকারের মতো ঘটনাও তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের উপরই তাঁর আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তাঁর কথায়, “আমাদের মন যা-ই বলুক না কেন, আল্টিমেটলি আমাদের সবার উপরে আদালত রয়েছে। আর আদালত তথ্য-প্রমাণের উপরে যায়।” অভয়ার পরিবার যাতে সঠিক বিচার পায়, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রুদ্রনীল। তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সরাসরি কোনও তথ্য প্রকাশ না করলেও তিনি ইঙ্গিত দেন, তদন্তে নতুন দিক সামনে আসতে পারে। তাঁর কথায়, “ডেফিনেটলি আরেকটা অন্য দিশা মানুষ দেখতে পাবেন। আর বাকিটা ওইভাবে ডিসক্লোজ করা যায় না যে মুভমেন্ট কী হবে।”

একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ কেউ নিজেদের বাঁচাতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের বিভিন্ন স্তর ধীরে ধীরে খুলছে এবং আইন মেনেই এগোতে হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজ্যে আইনের শাসনের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দল, মত, ধর্ম বা পরিচয় না দেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভয়ার বিচার প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “কে অমিত, কে সুমিত, কে কুমিত ইম্পর্ট্যান্ট নয়, আইনের শাসনটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও পড়ুনঃ “মন শান্ত করতে এইসব করতেই হবে, এমন একটা দলে যোগ দিয়েছে…” না ঘরকা, না ঘাটকা! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পরামর্শ নিয়ে শতাব্দী রায়ের মন্তব্যে, তাঁর নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চাঁচাছোলা ময়না বন্দোপাধ্যায়! ঠিক কী বললেন তৃণমূলপন্থী অভিনেত্রী?

অভয়ার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে রুদ্রনীলের বক্তব্যে তাই মূলত উঠে এসেছে দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়ার দাবি। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের একেবারে গোড়ার দিকে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা হওয়ায় পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়েছে। তবে সেই বাধা পেরিয়ে তদন্ত এগোবে বলেই তিনি আশাবাদী। তাঁর কথায়, “অভয়ার মা-বাবা, তার সমগ্র পরিবার এবং আমরা একটা সঠিক দিশা দেখতে চাই।” দুই বছর পরও যে প্রশ্নগুলির উত্তর অধরা, তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তার উত্তর সামনে আসবে এমনটাই আশা রুদ্রনীল ঘোষের।

You cannot copy content of this page