“আমি এখনও ক্যা*ন্সার পেশেন্ট, সারভাইভার নই!” হঠাৎ কেন এমন বললেন ভরত কল? র’ক্তে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে শ্বেত র’ক্তকণিকা, বায়োপসিতে ধরা পড়ে কোন অ’সুখ? আজও কি পুরোপুরি সুস্থ নন, চলছে ওষুধ, কেমন আছেন তিনি? জীবনের সেই কঠিন সময়ে কীভাবে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী জয়শ্রী, দুঃসময়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন ভরত কল!

বিনোদন জগতে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন অভিনেতা ভরত কল। বড় পর্দা থেকে টেলিভিশন, একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিক থেকে টলিউডের ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও বারবার আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব, কাশ্মীর থেকে কলকাতায় বেড়ে ওঠা, অভিনয়জীবনের সংগ্রাম, গুরুতর অসুস্থতার সময়ের অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ভরত কল। সাক্ষাৎকারে তাঁর কথায় উঠে এসেছে জীবনের নানা ওঠাপড়ার পাশাপাশি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ করে যাওয়ার মানসিকতার কথা।

নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভরত কল স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে ‘ক্যা*ন্সার সারভাইভার’ হিসেবে দেখেন না, বরং এখনও একজন ‘ক্যা*ন্সার পেশেন্ট’ হিসেবেই নিজেকে মনে করেন। তাঁর কথায়, এখনও তাঁকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় এবং ভবিষ্যতে কী হবে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না। ২০০৫ সালে তাঁর রক্তে অস্বাভাবিকভাবে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। প্রথমে WBC কাউন্ট ১৬ হাজার, পরে ২৫ হাজার, ৪০ হাজার এবং শেষ পর্যন্ত ৬৫ হাজারে পৌঁছয় বলে জানান অভিনেতা। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে বায়োপসি করা হয় এবং তাঁর লিউকেমিয়া ধরা পড়ে। সেই সময়ও কাজ থামাননি তিনি।

এমনকি অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর বিদেশে যাওয়ার নির্ধারিত শো-গুলিও করেছিলেন। লন্ডনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ শুরু করেন, যার মাসিক খরচও সেই সময় অত্যন্ত বেশি ছিল বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, ক্যা*ন্সার শব্দটির সঙ্গে মানুষের মনে যে আতঙ্ক জড়িয়ে থাকে, সেটি অত্যন্ত গভীর; তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এখন এই রোগের চিকিৎসার সুযোগ অনেক বেড়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি আরও বলেন, জীবনের কঠিন সময়ে কাজ তাঁকে অনেকটাই এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। অভিনেতার বৈবাহিক জীবন নিয়েও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য।

ভরত কল জানান, ২০০৩ সালে অভিনেত্রী অনুশ্রী দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। বর্তমানে স্ত্রী জয়শ্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে তুলে ধরেছেন ভরত কল। একটি ধারাবাহিকের কাজের সূত্রে তাঁদের পরিচয় হয়। জয়শ্রীর সময়নিষ্ঠা, সাধারণ জীবনযাপন এবং পরিবারের প্রতি টান তাঁকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল বলে জানান অভিনেতা। তাঁর কথায়, জীবনের বহু কঠিন সময়ে জয়শ্রী তাঁর পাশে থেকেছেন এবং তিনি তাঁকে নিজের ‘শীর্ষধারা’ বা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে দেখেন। তাঁদের কন্যা আরিয়ার জন্মও তাঁর জীবনের অন্যতম বড় ঘটনা।

আরও পড়ুনঃ ‘বাড়িতেই তোমার কোনও অস্তিত্ব টের পাই না, বিগ বসে এতজনকে কীভাবে সামলাবে?’ বাবার নতুন সফর শুরুর আগে মেয়ের গুগলি! সানার প্রশ্নে কী জবাব দিলেন ‘মহারাজ’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়?

ভরত কল জানান, আরিয়ার জন্মের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর বাবা মারা যান। তাই মেয়ের জন্ম এবং বাবার শেষ সময়ের স্মৃতি তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ। নিজের পুরনো সম্পর্কগুলির কথাও জয়শ্রী জানেন এবং অতীতকে লুকিয়ে রাখার কোনও প্রয়োজন তিনি মনে করেন না বলে জানান অভিনেতা। বরং তাঁর মতে, জীবনের অভিজ্ঞতাগুলিই মানুষকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দেয়। সাক্ষাৎকারের শেষদিকে ভরত কলের বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে ইতিবাচক থাকার বার্তা। তিনি মনে করেন, নিজের কাজ এবং পরিচয়ই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষকে টিকিয়ে রাখে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থাকা মানুষদের অন্যের জীবন ও সংগ্রামের দিকে তাকিয়ে বাস্তবতাকে বোঝার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ক্যা*ন্সার আক্রান্ত শিশুদের কাছ থেকে তিনি জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়ার কথা জানান।

You cannot copy content of this page