“মন শান্ত করতে এইসব করতেই হবে, এমন একটা দলে যোগ দিয়েছে…” না ঘরকা, না ঘাটকা! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পরামর্শ নিয়ে শতাব্দী রায়ের মন্তব্যে, তাঁর নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চাঁচাছোলা ময়না বন্দোপাধ্যায়! ঠিক কী বললেন তৃণমূলপন্থী অভিনেত্রী?

রাজ্য রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তৃণমূলত্যাগী সাংসদ শতাব্দী রায়কে ঘিরে নতুন সমীকরণ। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিয়েছিলেন শতাব্দী। এরপর NDA-র বৈঠকেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৈঠকের পর শতাব্দী নিজেই জানান, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান, তাঁর সাংসদ এলাকা এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, বড় কিছু পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক হলে পরে তা প্রকাশ্যে আনবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁর কথা মন দিয়ে শোনা হয়েছে এবং রাজ্যের বর্তমান ও আগের পরিস্থিতি নিয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানান শতাব্দী।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁর পরবর্তী মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শতাব্দী স্পষ্ট করেন, এখনও এই বিষয়ে কোনও কথা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করা বা ছবি তোলার অর্থ বিজেপিতে যোগ দেওয়া নয়। কাজের সূত্রে এর আগেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শতাব্দী। এর আগে NDA-র বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি সেই বৈঠকের অভিজ্ঞতাকেও ইতিবাচক বলে জানিয়েছিলেন। আগামী দিনে কী কী বিল আসবে, সরকারের বিভিন্ন কাজ এবং নতুন নতুন দফতরে কীভাবে কাজ হচ্ছে, সেসব নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

এই আবহেই শতাব্দী রায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের অন্দরেও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের অনুগামী হিসেবে পরিচিত অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য আগেও দলত্যাগীদের নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর দাবি ছিল, যারা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের চলে যাওয়ায় তৃণমূল আরও পরিষ্কার ও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে দলের ‘শুদ্ধিকরণ’ বলেও ব্যাখ্যা করেছিলেন। ময়নার স্বামী অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ও তৃণমূলের যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সেই ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়কেই এবার শতাব্দীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রকাশ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।

সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, শতাব্দী জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে যোগাভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে ময়না বলেন, “ভালো তো, যোগ অভ্যাস করা ওদের পক্ষে এখন খুব জরুরি! কারণ এমন একটা দলে যোগ দিয়েছে…না ঘরকা, না ঘাটকা! মনটাকে শান্ত করতে এইসব করতেই হবে এখন ওদের।” অর্থাৎ শতাব্দীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে নিয়েই তাঁকে কটাক্ষ করেন অভিনেত্রী। তবে একইসঙ্গে ময়না জানান, এই মুহূর্তে তিনি আর তাঁদের নিয়ে ভাবতে চান না। বরং সামনে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবস রয়েছে এবং সেই কর্মসূচি নিয়েই তিনি ব্যস্ত।

আরও পড়ুনঃ “আমি এখনও ক্যা*ন্সার পেশেন্ট, সারভাইভার নই!” হঠাৎ কেন এমন বললেন ভরত কল? র’ক্তে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে শ্বেত র’ক্তকণিকা, বায়োপসিতে ধরা পড়ে কোন অ’সুখ? আজও কি পুরোপুরি সুস্থ নন, চলছে ওষুধ, কেমন আছেন তিনি? জীবনের সেই কঠিন সময়ে কীভাবে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী জয়শ্রী, দুঃসময়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন ভরত কল!

ময়নার কথায়, আসন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসকে একুশে জুলাইয়ের মতোই সফল করে তুলতে চান তাঁরা। সেই কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তাঁর আসা বলে জানান অভিনেত্রী। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শতাব্দী রায়ের সাক্ষাৎ, অন্যদিকে সেই সাক্ষাতের পর ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন কটাক্ষ, দুই ঘটনাকে ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও শতাব্দী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে বিজেপিতে যোগদানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। অন্যদিকে ময়না স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলত্যাগী নেতাদের নিয়ে সময় নষ্ট না করে দলের আগামী কর্মসূচি নিয়েই এগোতে চান তিনি।

You cannot copy content of this page