৩৩ বছর বয়সী জনপ্রিয় অভিনেত্রীর অভিযোগ ঘিরে গুরুতর ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭৩ বছর বয়সী এক বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালককে। অভিযোগকারিণীর দাবি, কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরে একটি চিত্রনাট্য পড়ার জন্য তাঁকে অভিযুক্ত পরিচালকের বাড়িতে যেতে বলা হয়। সেখানেই তাঁকে পানীয় দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই পানীয় খাওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী। জ্ঞান ফেরার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে লোখন্ডওয়ালায় একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রথমবার তাঁদের দেখা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই সময় সিনেমায় কাজের সুযোগের কথা বলে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরবর্তীকালে অভিনয়ের কাজের বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁকে বাড়িতে ডাকা হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। সেখানে যাওয়ার পরই তাঁকে পানীয় দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিনেত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পানীয় খাওয়ার পর তিনি নিজের জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে জ্ঞান ফেরার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে নিজের ফোনে একটি ভিডিও দেখান বলে দাবি। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েই তাঁকে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারিণীর দাবি অনুযায়ী, ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর উপর একাধিকবার যৌ*ন নির্যাতন করা হয়। এমনকি বলপূর্বক যৌ*ন সম্পর্কের পর তাঁকে বারবার গর্ভনিরোধক ওষুধ দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মালবানি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(২)(এম), ১২৩, ৩৫১(২) এবং ৮৮ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৮ আগস্ট ভোরবেলা পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে বোরিভলি হলিডে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত ১২ আগস্ট পর্যন্ত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তি শাকিল নূরানি। ‘জোরু কা গুলাম’ এবং ‘বড়ে দিলওয়ালা’র মতো ছবির পরিচালক হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আইনজীবী বিকাশ সিং গোয়া। তাঁর দাবি, পরিচালককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। আইনজীবীর বক্তব্য, অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং বর্তমানে তদন্ত চলছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত শাকিল নূরানিকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। ফলে অভিযোগ, তদন্ত এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ “প্রাইমারি ইনভেস্টিগেশনে প্রমাণ লোপাট করে বিগত সরকার…” অভয়ার মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে ‘অন্য দিশা’র ইঙ্গিত রুদ্রনীলের! আজও মনে পড়লে শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে আসে ঠান্ডা স্রোত! আজকের দিনেই দু’বছর আগে, আর জি করের নার’কীয় ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা দেশ, তার বিচার অধরা! সরকার বদলেছে, ক্ষমতায় বিজেপি, এবার তদন্তে আসতে চলেছে বড় অগ্রগতি? কী জানালেন তারকা বিধায়ক?
বর্তমানে এই মামলায় পুলিশের তদন্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পরিচালকের আইনজীবী শুরু থেকেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ১২ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতেই থাকবেন শাকিল নূরানি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং আদালতে মামলার অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে।






