“পাক্কা কালো বিড়াল, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ দেখলেই দিন খারাপ যায়… চাড্ডা নই যে চাড্ডি হয়ে যাব!” নির্বাচনী প্রচার থেকে ফলাফলের পরেও মুখে ছিল বড় বড় কথা! হঠাৎ ঘাসফুলে এলা’র্জি, মনে ধরেছে পদ্ম! মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা থেকে মোদির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক! ‘লেজ নেড়ে ঘুরতে কেমন লাগছে?’, ‘এখন নাম নিলে দিন-রাত সবই ভালো কাটে’ পুরনো মন্তব্য টেনে ‘ভালো তৃণমূল’ সায়নীকে ধুয়ে দিল নেটপাড়া!

বঙ্গ রাজনীতিতে ফের চর্চার কেন্দ্রে সায়নী ঘোষ। একদিকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তাঁর একের পর এক তীব্র মন্তব্য, অন্যদিকে ভোটের ফলের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁকেই দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের শিবিরে। ফলে সায়নীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর পুরনো বক্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে যাঁকে একসময় প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছিলেন, সেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিল্লিতে একই রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর উপস্থিতি নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলে ভাঙনের আবহ তৈরি হয়েছে এবং সায়নী ঘোষের নামও সেই বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে জড়িয়েছে।

অভিনেত্রী থেকে রাজনীতির ময়দানে সায়নী ঘোষের উত্থানও ছিল যথেষ্ট দ্রুত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে দলের যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর থেকে জয়ী হয়ে সংসদে যান তিনি। একসময় তৃণমূলের অন্যতম সক্রিয় যুব মুখ হিসেবে পরিচিত সায়নী নিয়মিত বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সামনে থেকেছেন। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তিনি যুব তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকেও সরে দাঁড়ান এবং পরবর্তীতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের শিবিরে তাঁর নাম উঠে আসে। দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে সায়নী-সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদের বৈঠক এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

অথচ ভোটের আগে ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় বিজেপিকে নিশানা করতে গিয়ে সায়নী ঘোষের একাধিক মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এমনকি এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি চাড্ডা নই যে চাড্ডি হয়ে যাব।”এমনকি শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছিলেন, “কালো বিড়ালের মতো, ফট করে রাস্তা কেটে বেরিয়ে যায়…শুভেন্দু অধিকারীর মুখ দেখলেই আমার দিন খারাপ যায়।” সেই সময় তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক অবস্থান। ফলে ভোটের পর সেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়ে একই সায়নীকে শুভেন্দুর উপস্থিতিতে দিল্লির বৈঠকে দেখা যাওয়াই এখন বিরোধীদের কটাক্ষের অন্যতম কারণ।

শুধু শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক নয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সায়নীর সাম্প্রতিক যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দিল্লিতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের একাধিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং জাতীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণে তাঁর সক্রিয়তা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। একসময় যে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, সেই সায়নীকে এখন বিজেপি নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিসরে দেখা যাওয়াকে অনেকেই ‘রং বদল’ হিসেবে কটাক্ষ করছেন। যদিও প্রকাশ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়ে জল্পনা যে তীব্র হয়েছে, তা স্পষ্ট। এমনকি তাঁকে পুরনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিল্লিতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি শুধু আমার ভোটারদের উত্তর দেব।”

আরও পড়ুনঃ ‘কাউকে জানালে ভিডিও ছড়িয়ে দেব’, ভয় দেখিয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে একাধিকবার ধ*র্ষণ! দিনের পর দিন যৌ*ন অ’ত্যাচারের শি’কার হয়ে অবশেষে হলেন পুলিশের দ্বারস্থ, গ্রেপ্তার ৭৩ বছরের বর্ষীয়ান পরিচালক!

এরই মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাতেও সায়নীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে সমাজমাধ্যমে নতুন করে কটাক্ষ শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা। একসময় শুভেন্দুকে আক্রমণ করা সায়নী এখন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এই দুই ছবির তুলনা টেনেই বিরোধী মহল প্রশ্ন তুলছে, তাহলে কি সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে সায়নীর রাজনৈতিক অবস্থান? তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেই আদর্শ বদলেছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সায়নীর নিজের অবস্থান স্পষ্ট হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত তাঁর বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরে অবস্থান, বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুরনো বক্তব্য এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই বঙ্গ রাজনীতিতে জল্পনা ও কটাক্ষের ঝড় অব্যাহত।

You cannot copy content of this page