রাজনীতি এবং অভিনয়, দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রুদ্রনীল ঘোষ। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এবার তাঁর দায়িত্বের তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। রাজ্য সরকারের ‘তথ্য ও সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও যুব পরিষেবা’ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন রুদ্রনীল। অভিনেতা তথা বিজেপি নেতার এই নতুন দায়িত্ব ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্কৃতি এবং বিনোদন জগতের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগও এই দায়িত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এবার প্রশাসনিক দায়িত্বের মাধ্যমে সেই ক্ষেত্রেই আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যাবে তাঁকে।
টলিউডের সার্বিক কাজকর্ম এবং শিল্পীদের বিভিন্ন স্বার্থের বিষয়েও আগেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন রুদ্রনীল। দলীয় নেতৃত্বের তরফে তাঁকে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর সংগঠন মজবুত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজেও তাঁকে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়ার সময় থেকেই এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে সরব ছিলেন তিনি। স্থানীয় মানুষের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলির সমাধানের দাবিতেও একাধিকবার কথা বলেছেন। এবার স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের পরিধি আরও কিছুটা বাড়ল। ফলে নতুন পদে তাঁর কাজকর্মের দিকেও রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।
অন্যদিকে, টলিউডের বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত সমস্যা নিয়েও রুদ্রনীলকে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে দেখা গিয়েছে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলেই টলিপাড়ার নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। শিল্পী ও কলাকুশলীদের বিভিন্ন বিষয় একসঙ্গে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল। এবার তথ্য ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ায় সেই কাজ আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ তৈরি হল। সংস্কৃতি জগতের উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। অভিনয় জগতের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ থাকায় এই দায়িত্বে তাঁর অভিজ্ঞতাও কাজে লাগতে পারে। তাই নতুন পদে রুদ্রনীলের ভূমিকা কেমন হয়, সেদিকেই নজর থাকছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের।
তবে রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয়কেও যে তিনি পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখছেন না, সেটাও স্পষ্ট। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর বড় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা কমে গিয়েছিল। এবার একাধিক নতুন কাজ নিয়ে আবারও শুটিং ফ্লোরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেতা। খুব শীঘ্রই তাঁকে দেখা যাবে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’ ছবিতে। রাজনীতির ব্যস্ততার মধ্যেও নতুন ছবিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শকদের মধ্যে। বড় পর্দায় শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং রাইমা সেনের সঙ্গে ‘আবার হাওয়া বদল’ ছবিতে। ফলে নতুন ছবির মাধ্যমে রুদ্রনীলের অভিনয় জীবনে ফের ব্যস্ততা বাড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “এফআইআর আর নব্য বিজেপির পা চাটা ওয়ালো…” চোখের চিকিৎসায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি! সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বিজেপি সমর্থকদের খোঁচা শ্রীলেখার, ফের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক!
একদিকে জনসেবার দায়িত্ব, অন্যদিকে নতুন প্রশাসনিক পদ, তার সঙ্গে আবার অভিনয়ের কাজ। তিনটি আলাদা ক্ষেত্র একসঙ্গে সামলানোর চ্যালেঞ্জ এখন রুদ্রনীল ঘোষের সামনে। তথ্য ও সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং যুব পরিষেবা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কাজের পরিধি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে টলিউডের সঙ্গে তাঁর পুরনো যোগাযোগও এই দায়িত্বে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ফের নিয়মিত অভিনয়ে তাঁকে দেখা যাবে কি না, সেটাও এখন দেখার। নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং রূপোলি পর্দার কাজ কীভাবে একসঙ্গে সামলান অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখন রুদ্রনীলের এই নতুন ইনিংস কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে টলিপাড়ার।






