রণজয় বিষ্ণু এবং শ্যামৌপ্তি মুদলিকে ঘিরে বিচ্ছেদের জল্পনা এখন টলিপাড়ার আলোচনার অন্যতম বিষয়। যদিও তাঁদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের খবর স্বীকার করেননি, তবুও নানা আলোচনা থামছে না। এর মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছিলেন রণজয়। সেখানে ভিত্তিহীন কথা না ছড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন তিনি। এবার সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি নতুন পোস্ট ঘিরে ফের শুরু হয়েছে চর্চা। সাদা কালো আবহে নিজের শরীরের ছবি দিয়ে সত্য নিয়ে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন অভিনেতা। সেই পোস্টের বক্তব্যকে ঘিরেই অনুরাগীদের একাংশের মনে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের জবাবই দিতে চেয়েছেন রণজয়?
রণজয় এবং শ্যামৌপ্তির বিয়ের বয়স প্রায় ছয় মাস। এর মধ্যেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন সামনে এসেছে। অতীতের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এই পরিস্থিতির জন্য রণজয়কেই দায়ী করা হচ্ছে বলেও আলোচনা রয়েছে। অভিনেতার বিরুদ্ধে টাকা পয়সা সংক্রান্ত লেনদেন এবং সংসারের প্রতি উদাসীনতার মতো অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি ‘প্রতিজ্ঞা’ ধারাবাহিকের এক সহ অভিনেত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে পরকীয়ার গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন রণজয়। তাঁর বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতি না জেনে এমন নানা কথা ছড়ানোয় তিনি যথেষ্ট বিরক্ত এবং মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সমাজমাধ্যমে নিজের সুঠাম শরীরের ছবি প্রকাশ করেন রণজয়। কখনও সাদা কালো, আবার কখনও রঙিন ছবিতে দেখা যায় অভিনেতাকে। সেই ছবির সঙ্গে সত্যকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ বক্তব্যও লেখেন তিনি। রণজয়ের কথায়, “সত্য যেন এক নগ্ন শরীর। লুকানোর কিছু নেই, প্রমাণ করারও কিছু নেই। মিথ্যা ঢাকতে আবরণের প্রয়োজন। কিন্তু, সত্য কখনও আড়াল করার প্রয়োজন হয় না। সত্য সবসময় মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।” তিনি আরও লেখেন, সত্য নিজের ভাষায় নিজেই কথা বলার ক্ষমতা রাখে এবং কারও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তার অনুরোধ করার প্রয়োজন হয় না। নিজের মতো করে সত্যকে গ্রহণ করাই তার বার্তার মূল কথা।
রণজয়ের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই ফের শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তাঁর লেখার প্রতিটি বক্তব্যের মধ্যে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে মিথ্যা প্রমাণ করার ইঙ্গিত রয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। এর আগে প্রকাশ করা ভিডিওবার্তাতেও অভিনেতা জানিয়েছিলেন, শ্যামৌপ্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানা রটনায় তিনি অত্যন্ত বিরক্ত। রণজয় বলেছিলেন, “আমরা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক। আমরা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু প্লিজ কোনও ভিত্তিহীন কথা রটাবেন না।” সহ অভিনেত্রীর সঙ্গে নাম জড়ানোর প্রসঙ্গেও তিনি অনুরোধ করেছিলেন, “আমি একটি রোমান্টিক ধারাবাহিকে অভিনয় করছি। সেখানে আমাকে সেই রকম এক্সপ্রেশন দিতে হয়। আমার সহ অভিনেতাদের সঙ্গে কোনও রটনা প্লিজ বন্ধ করুন।”
আরও পড়ুনঃ পারিবারিক কুটকা’চালি বা পরস্পরের বিরুদ্ধে ষ’ড়যন্ত্র নয়, নায়ক-নায়িকার গল্প ছেড়েও পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হাসি-কান্না, অভিমান, ভালোবাসাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জমজমাট এক ধারাবাহিক! ২০১১-তে শেষ হলেও ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র সেই উষ্ণতা আজও দর্শকের মনে অমলিন! বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া এমন পরিবারকেন্দ্রিক ধারাবাহিক কি আর ফিরবে বাংলা টেলিভিশনে? মিস করেন আপনারা?
নিজের ভিডিওবার্তার শেষে রণজয় সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘বাঁচতে দিন’। সেই বার্তার পর এবার সত্য নিয়ে তাঁর নতুন পোস্ট ঘিরে ফের আলোচনার ঝড় উঠেছে। যদিও পোস্টে তিনি সরাসরি শ্যামৌপ্তির নাম করেননি, তবুও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের যোগ খুঁজছেন অনেকেই। অন্যদিকে, শ্যামৌপ্তির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে বিচ্ছেদের জল্পনা, অভিযোগ এবং অভিনেতার একের পর এক বক্তব্যকে ঘিরে কৌতূহল আরও বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে রণজয় ঠিক কাকে বা কোন অভিযোগকে উদ্দেশ্য করেছেন, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।






