“দিদি আমাকে বলেছিলেন, আমি না এলে তুই আমার পাঠটা করিস না”, মাত্র ২৫-২৬ বছর বয়সে সুপ্রিয়া দেবীর মতো কিংবদন্তির চরিত্রে বয়স্ক সেজে মঞ্চ কাঁপিয়েছিলেন তনিমা সেন! সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? কীভাবে সুপ্রিয়া দেবীর আস্থা অর্জন করেছিলেন, জানালেন অভিনেত্রী?

বিনোদন জগতে দর্শকের চোখের সামনে যে গল্পটা দেখা যায়, তার পিছনেও লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অজানা ঘটনা। মঞ্চে কয়েক মিনিটের একটি দৃশ্য তৈরি করতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কতটা প্রস্তুতি নিতে হয়, কিংবা হঠাৎ কোনও পরিস্থিতিতে কীভাবে বদলে যায় পুরো অভিনয়ের পরিকল্পনা, তা অনেক সময় দর্শকদের অজানাই থেকে যায়। এমনই এক স্মরণীয় ঘটনার কথা উঠে এসেছে অভিনেত্রী তনিমা সেনের কথায়। জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে কাজ করার সময় ঘটে যাওয়া সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে।

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ তনিমা সেন দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। মঞ্চ এবং পর্দা দুই মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু বিশিষ্ট শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তনিমা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময়কার নানা স্মৃতি এখনও তনিমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

এক সাক্ষাৎকারে তনিমা জানান, সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে একটি বড় মঞ্চের দৃশ্যে অভিনয় করার সময় তিনি নিজের লেখা একটি সংলাপ ব্যবহার করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির অভ্যাস ছিল তাঁর। সেই দৃশ্যের জন্য নিজের মনে করে লেখা বেশ কিছু কথা তিনি কাউকে আগে থেকে না জানিয়েই মঞ্চে বলেছিলেন। সংলাপ বলতে বলতে আবেগে কেঁদেও ফেলেছিলেন তিনি। দর্শকদের কাছ থেকেও পেয়েছিলেন বিপুল হাততালি। কয়েকটি শো হয়ে যাওয়ার পর একদিন সুপ্রিয়া দেবী উইংসের কাছে দাঁড়িয়ে তাঁর অভিনয় দেখেন এবং পরে জানতে চান, সেই সংলাপ তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন।

তনিমার কথায়, তিনি যখন জানান যে সংলাপটি নিজেই লিখেছেন, তখন সুপ্রিয়া দেবী তাঁর প্রশংসা করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে। সুপ্রিয়া দেবী তাঁকে নিজের চরিত্রের বিকল্প অভিনেত্রী হিসেবে প্রস্তুত করেছিলেন। এমনকি একদিন সুপ্রিয়া দেবী নিজেই তনিমাকে অনুরোধ করেছিলেন, তিনি অনুপস্থিত থাকলে যেন তনিমা তাঁর চরিত্রে অভিনয় করেন। সেই সময় তনিমার বয়স ছিল মাত্র ২৫-২৬ বছর। অথচ মঞ্চে তাঁকে সুপ্রিয়া দেবীর তুলনায় অনেক বেশি বয়সী চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিল। চশমা, বদলে যাওয়া গলার স্বর এবং অভিনয়ের মাধ্যমে সেই চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ “এরা আমায় চেনে না, জানে না, তাই ঢুকতেই দিল না!” শেষে চন্দন সেনকে পরিচয় দিতে হল কার্ড দেখিয়ে! মঞ্চ ও পর্দায় সমান দাপট, বাংলা বিনোদন জগতের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতাকে চিনতেই পারলেন না দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা! বর্ষীয়ান শিল্পীর সঙ্গে এমন আচরণে ক্ষোভ, চূড়ান্ত অপমানের অভিযোগ! উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের বৈঠকে কার্ড দেখানোর পরেও কেন নন্দনে ঢুকতে দেওয়া হলো না তাঁকে, শিল্পীর সম্মান নিয়েই উঠল বড় প্রশ্ন?

সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা ঘটে একদিন সুপ্রিয়া দেবী অনুপস্থিত থাকায় তনিমাকে তাঁর চরিত্রে অভিনয় করতে হলে। শো শেষ হওয়ার পর ম্যানেজার তাঁকে দর্শকদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তখন এক দর্শক এগিয়ে এসে নিজের টিকিট ছিঁড়ে জানিয়ে দেন, তিনি সুপ্রিয়া দেবীকে দেখতে আবার টিকিট কেটে আসবেন। কিন্তু হলের দর্শকরা তনিমার অভিনয়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে মুহূর্তের মধ্যেই হাততালিতে ভরে ওঠে গোটা হল। পরে সুপ্রিয়া দেবী নিজেও তনিমার অভিনয়ের প্রশংসা করে তাঁকে সেই চরিত্র চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেন। তনিমার কাছে সেই স্মৃতি আজও অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।

You cannot copy content of this page