বাংলার বিনোদন জগতের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডের একাধিক তারকা অভিনয়ের পাশাপাশি সরাসরি রাজনীতিতে পা রেখেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই সমীকরণেও এসেছে পরিবর্তন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ দলবদল করেছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজনীতি ও অভিনয় দুই ক্ষেত্রকে আলাদা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরলেন মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্য নবমিতা চট্টোপাধ্যায়।
মহানায়ক উত্তম কুমারের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায় নিজেও অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বিনোদন দুনিয়ার নানা ওঠাপড়া তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবন, কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বাংলা বিনোদন জগতের প্রচলিত ‘সিস্টেম’ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে যেমন উঠে এসেছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা, তেমনই রয়েছে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর নিজস্ব উপলব্ধি।
নবমিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিনয়ের কাজ পাওয়ার জন্য তিনি কোনওদিন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যাননি। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অরূপ বিশ্বাস বা স্বরূপ বিশ্বাসের কাছেও তিনি কখনও কাজ চাননি বলে জানিয়েছেন নবমিতা। এমনকী তাঁর দাদা গৌরবও কাজ পাওয়ার জন্য তাঁদের কারও কাছে যাননি বলেই দাবি করেছেন তিনি। অর্থাৎ, রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পথে তিনি বা তাঁর পরিবার হাঁটেননি সাক্ষাৎকারে এমনটাই স্পষ্ট করেছেন মহানায়কের নাতনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একাধিক তারকার দলবদল নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন নবমিতা। তাঁর বক্তব্য, নেতা-নেত্রীদের রাজনৈতিক জীবনেই থাকা উচিত এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিজেদের অভিনয়কেই পেশা হিসেবে ধরে রাখা উচিত। রাজনীতি ও অভিনয় দুটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেললে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, দুটো ক্ষেত্রের ভূমিকা আলাদা হওয়াই ভালো। বিশেষ করে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখের অবস্থান বদলের প্রসঙ্গে তাঁর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ প্রায় ৮৫ বছর বয়সে ক্যা*ন্সারের সঙ্গে লড়াই করেও অভিনয়ের প্রতি টান অটুট! শরীর মা’রণ রোগ ধরা পড়তেই থমকে গিয়েছিল অভিনয় জীবন, অ’স্ত্রোপচারের পর এখন কেমন আছেন চন্ডিদাস কুমার? বয়সের জন্য সম্ভব হয়নি কেমোথেরাপিও, নিত্য চেকআপ ও ওষুধেই কাটছে দিন! আবার কবে ক্যামেরার সামনে ফিরবেন প্রবীণ অভিনেতা?
পাশাপাশি বাংলা বিনোদন জগতের কাজের সুযোগের ‘সিস্টেম’ নিয়েও সরব হয়েছেন নবমিতা। তাঁর মতে, এমন একটি পরিস্থিতি থাকা উচিত নয় যেখানে কিছু মানুষ নিয়মিত কাজ পেয়েই যাচ্ছেন, অথচ অন্যরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি। তাঁর আশা, বাংলা বিনোদন জগতের এই সিস্টেম ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও ইতিবাচক হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রত্যেকে কাজের সুযোগ পাবেন। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই টলিউডে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।






