“কয়েক বছর আগেও খুবই ইনকনফিডেন্ট ছিলাম, এখন…” বাবাকে হারানোর পর কীভাবে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুললেন আভেরী সিংহ রায়? অভিনয় জীবনের শুরুতে রোগা হওয়ার চাপ, কেরিয়ারে আসা একাধিক কু’প্রস্তাব থেকে একের পর এক কঠিন চরিত্রে নিজেকে ভাঙার লড়াই পেরিয়ে আজকের অভিনেত্রী কি তবে নিজের কাছেই জয়ী?

অভিনয় জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন অভিনেত্রী আভেরী সিংহ রায়। কখনও সমবয়সি চরিত্র, কখনও নিজের বয়সের তুলনায় অনেক বেশি বয়স্ক নারীর চরিত্র বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় নিজেকে ভাঙতে ভালোবাসেন তিনি। বর্তমানে ‘বাবলি সুন্দরী’-তে অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে একের পর এক ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের শুরু, থিয়েটার থেকে টেলিভিশনে আসা, বাবাকে হারানোর পরের সময়, চেহারা ও বয়স নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির দৃষ্টিভঙ্গি, অভিনয় জগতের অন্ধকার দিক এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন সবকিছু নিয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন আভেরী।

ছোটবেলা থেকেই নাচের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল আভেরীর। বর্ধমানে বেড়ে ওঠা সেই মেয়েটির অভিনয়ের জগতে প্রবেশ অনেকটা মায়ের হাত ধরেই। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় কলকাতায় অভিনয় শেখার সুযোগ পান তিনি। প্রথমদিকে থিয়েটার দেখে অবাক হলেও খুব দ্রুত অভিনয়ের প্রেমে পড়ে যান। শ্রী রমাপ্রসাদ বণিকের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি থিয়েটারের মাধ্যমে নিজের ভিত তৈরি করেন। এরপর ‘লোমহর্ষক লক্ষ্মী’-তে অভিনয় করতে গিয়ে নজরে পড়েন কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদারের। তাঁর হাত ধরেই ‘দুর্গেশগড়ের কাহিনি’-তে আয়েশার চরিত্রে কাজের সুযোগ আসে। প্রথম শুটেই বাবার মৃত্যুর দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে সত্যিই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আভেরী। তরুণ মজুমদারের প্রশংসা ও স্নেহ তাঁর অভিনয়জীবনের পাশাপাশি মানুষ হিসেবেও তাঁকে অনেক কিছু শিখিয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

তবে শুরুটা যতটা উজ্জ্বল, পথচলা ততটা মসৃণ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি একটা সময় অভিনয়ের একাধিক সুযোগ পেলেও শুধু থিয়েটার করবেন বলে সেগুলি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আভেরী। পরে উপলব্ধি করেন, অভিনয়ই তাঁর আসল জায়গা এবং নতুন করে টেলিভিশনে ফিরতে সিদ্ধান্ত নেন। সেই দ্বিতীয় পর্যায়ে সুশান্ত দাসের হাউস থেকে কাজ শুরু করে প্রায় পাঁচ বছর সেখানে কাজ করেন। ২০২০ সালে বাবাকে হারানোর পর তাঁর জীবনে আসে আরও একটি বড় পরিবর্তন। মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও গভীর হয়। দিদির সঙ্গে মিলে মাকে আগলে রাখার পাশাপাশি নিজের কাজ ও জীবনের পথও নতুন করে সাজাতে হয় তাঁকে। বাবার স্মৃতি এবং বর্ধমানে মায়ের নিজের হাতে তৈরি করা বিউটিশিয়ান স্কুলের সঙ্গে মায়ের আবেগের সম্পর্কের কথাও সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।

অভিনয় জগতে চেহারা, ওজন কিংবা বয়সের ভিত্তিতে চরিত্র পাওয়ার প্রবণতা নিয়েও সরব আভেরী। তাঁর প্রথম কাজেই তাঁকে রোগা হতে বলা হয়েছিল এবং ‘দুর্গেশগড়ের কাহিনি’-র জন্যও ওজন কমিয়েছিলেন। কিন্তু পরে নিজের শরীর ও চেহারাকে মেনে নিয়ে বুঝেছেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে তথাকথিত সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সবসময় প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। ২০১৬ সালে নিজের চেয়ে বয়সে বড় এক চরিত্রের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি, আবার পরবর্তীতে নিজের কাছাকাছি বয়সের চরিত্রও করেছেন। তাঁর মতে, এখন ধীরে ধীরে সেই স্টিরিওটাইপ বদলাচ্ছে। একইসঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার নামে কুপ্রস্তাবের প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। এমন প্রস্তাব নিজেও পেয়েছেন এবং সরাসরি ব্লক করে দিয়েছেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, সাময়িক সুবিধার জন্য আপস নয়, দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে তৈরি করাই আসল।

আরও পড়ুনঃ “আমি যাচ্ছি, আর এই সম্পর্কের মধ্যে থাকতে পারছি না” ভরত কলকে ফোন করে বাড়ি ছেড়েছিলেন অনুশ্রী দাস! কী এমন ঘটেছিল তাঁদের দাম্পত্যে, যে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে? প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের সেই তিক্ত অধ্যায়ের নেপথ্যে কী ছিল আসল কারণ? এত বছর পর কি ফের নতুন করে সংসার পাতার কথা ভাবছেন তিনি?

জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে আভেরী জানান, কয়েক বছর আগের অনিশ্চিত ও আত্মবিশ্বাসহীন নিজেকে অনেকটাই বদলে ফেলেছেন তিনি। নিজের কিছু অভ্যাস এবং অতিরিক্ত মায়া-মমতা কাটিয়ে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর কাছে অভিনেতার কোনও নির্দিষ্ট বয়স বা চরিত্রের সীমা থাকা উচিত নয় কখনও ৮৪ বছরের মহিলার চরিত্র, কখনও নিজের বয়সের চরিত্র, আবার কখনও সম্পূর্ণ অন্যরকম ভূমিকায় অভিনয় করতেই তাঁর আনন্দ। আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন? একটাই বড় ইচ্ছা বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে অভিনয় করা। সাক্ষাৎকারের শেষে সেই স্বপ্নের কথাই জানিয়ে আভেরী দর্শকদের কাছে তাঁর জন্য প্রার্থনা করার অনুরোধও করেছেন।

You cannot copy content of this page