বাংলা বিনোদন জগতে তারকাদের সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার গল্প নতুন নয়। কখনও দীর্ঘদিনের প্রেম পরিণতি পায় বিয়েতে, আবার কখনও সেই সম্পর্কই সময়ের সঙ্গে পৌঁছে যায় বিচ্ছেদের পথে। পর্দার জনপ্রিয় জুটির বাস্তব জীবনের সম্পর্কেও তাই নানা ওঠাপড়ার সাক্ষী থেকেছে টলিপাড়া। এমনই এক পুরনো সম্পর্কের অধ্যায় ফের সামনে এসেছে টেলিভিশন অভিনেত্রী অনুশ্রী দাসের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে। প্রাক্তন স্বামী তথা অভিনেতা ভরত কলের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য, বিচ্ছেদের সময়কার অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।
বাংলা টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ অনুশ্রী দাস। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও চরিত্রে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। তবে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে একাধিক ওঠাপড়ার অধ্যায়। অভিনেতা ভরত কলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অনুশ্রী। কিন্তু বিয়ের পর তাঁদের দাম্পত্যে তৈরি হয় নানা টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং ২০০৩ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে অনুশ্রী জানান, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আর সহ্য করতে না পেরে একসময় ভরতকে ফোন করে শুধু বলেছিলেন, “আমি যাচ্ছি।” এরপরই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। নিজেদের দাম্পত্যের শেষপর্বকে বোঝাতে গিয়ে অনুশ্রী ব্যবহার করেছেন একটি বিশেষ শব্দবন্ধ “ফ্রিজের দাম্পত্য”। তাঁর কথায়, সম্পর্কের শেষদিকে তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিক উষ্ণতা, যোগাযোগ কিংবা কাছাকাছি থাকার অনুভূতি আর অবশিষ্ট ছিল না। অর্থাৎ একই সম্পর্কে থেকেও যেন দু’জনের মধ্যে তৈরি হয়েছিল গভীর দূরত্ব।
ভরত কলের সঙ্গে বিচ্ছেদের প্রসঙ্গেও অনুশ্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা। বিয়ের আগে বেশ কয়েক বছর তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বিয়ের পর সেই সমীকরণ বদলে যায়। বিভিন্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে ভরত কলের ঘনিষ্ঠতার কথা জানতে পেরেছিলেন বলেও অনুশ্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে। সেই পরিস্থিতির পর নিজেকে আর ওই সম্পর্কে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। যদিও তাঁদের দাম্পত্য ভাঙার কারণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা হয়েছে, অনুশ্রী নিজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই সম্পর্কের শেষপর্বের কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ আপনার প্রিয় ধারাবাহিকের তালিকায় কি অন্যতম ‘গানের ওপারে’? পুপেকে ভুলে যাননি তো? তবে জানেন কি, শুটিং ফ্লোরেই নায়িকার সঙ্গে ঘটে গিয়েছিল কোন মারাত্মক অঘটন? তারপরও কীভাবে কাজ চালিয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী?
তবে বিচ্ছেদের বহু বছর পর অতীতের সেই তিক্ততা পেরিয়ে বর্তমানে তাঁদের সম্পর্ক অনেকটাই স্বাভাবিক। একই স্টুডিও বা ধারাবাহিকে কাজের সূত্রে দেখা হলেও একে অপরের প্রতি সৌজন্য বজায় রাখেন তাঁরা। দ্বিতীয়বার বিয়ে করার সম্ভাবনা নিয়েও অনুশ্রী জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পর আর সংসার করার ইচ্ছা হয়নি এমনটা নয়। তবে বর্তমানে তাঁর জীবনে মা, ভাই এবং কাজই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জুড়ে রয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, “বিচ্ছেদের পরে আবার যে সংসার করার ইচ্ছা হয়নি, সেটা বলব না। তবে চারিদিকে যা হচ্ছে, তাই আর এখন সে ভাবে কিছুই ভাবছি না।” ফলে নতুন করে সংসার বাঁধার দরজা পুরোপুরি বন্ধ না করলেও আপাতত নিজের জীবন ও কাছের মানুষদের নিয়েই থাকতে চান অনুশ্রী।






