টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী আজ অভিনয়, গান এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একাধিক পরিচয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিত। তবে তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকের দিনগুলিও ছিল যথেষ্ট কঠিন। সেই সময় জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গানের ওপারে’-তে পুপে চরিত্রে অভিনয় করছিলেন তিনি। ধারাবাহিকের এই চরিত্রটি গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফলে নিয়মিত শুটিং চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও ছিল তাঁর উপর। সেই সময়ের একটি সাক্ষাৎকারে মিমি জানিয়েছিলেন, একটি আউটডোর শুটিংয়ে তাঁর সঙ্গে ঘটে যায় গুরুতর দুর্ঘটনা। স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী, তাঁকে দৌড়ে গিয়ে একটি গাড়িতে উঠতে হচ্ছিল। সেই দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন আচমকাই গাড়ির দরজা এসে তাঁর পায়ে জোরে লাগে। প্রচণ্ড ব্যথা পেলেও তখনই শুটিং বন্ধ করে দেননি অভিনেত্রী।
প্রথমবার আঘাত পাওয়ার পর ব্যথা কমানোর জন্য মলম লাগিয়ে ফের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন মিমি। কিন্তু এরপরই ঘটে আরও বড় বিপত্তি। একই পায়ে আবারও ধাক্কা লাগে এবং আশ্চর্যের বিষয়, দ্বিতীয়বারও ঠিক আগের জায়গাতেই আঘাত পান তিনি। ব্যথা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা করানো হয়। এক্স-রে করার পর জানা যায়, তাঁর পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। এমন চোটের পর সাধারণত শুটিং থেকে বিরতি নেওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সময় মিমির ক্ষেত্রে পরিস্থিতিটা এতটা সহজ ছিল না। ‘গানের ওপারে’-র গল্পে পুপে ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাই হঠাৎ করে তিনি পুরোপুরি শুটিং বন্ধ করে দিলে ধারাবাহিকের গল্পের গতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারত। সেই কারণেই চোট নিয়েও কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিনেত্রী।
তবে ফ্র্যাকচারের পর আগের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। মিমি জানিয়েছিলেন, চোট পাওয়ার আগে তিনি দিনে প্রায় ১০টি দৃশ্যে অভিনয় করতেন। কিন্তু পায়ে ফ্র্যাকচার হওয়ার পর সেই সংখ্যা এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র দুই থেকে তিনটি দৃশ্যে নামিয়ে আনতে হয়েছিল। কারণ, বেশি নড়াচড়া করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে তাঁর শুটিংয়ের ধরনও বদলে যায়। যেখানে আগে নিয়মিত চলাফেরা করে একের পর এক দৃশ্য করতেন, সেখানে চোটের পর বেশির ভাগ সময় তাঁকে বসে অথবা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে অভিনয় করতে হয়েছে। শারীরিক যন্ত্রণা এবং সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সেই সময় কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর পেশাগত দায়িত্ববোধেরই পরিচয় দেয়। পর্দায় পুপের স্বাভাবিক উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য শুটিংয়ের পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছিল।
আজকের মিমি চক্রবর্তীকে টলিউডের প্রথম সারির নায়িকা হিসেবে দেখলেও তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলিতে এমন কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই এগোতে হয়েছিল। ‘গানের ওপারে’-তে পুপে চরিত্রটি তাঁর অভিনয় জীবনের অন্যতম পরিচিত কাজ হয়ে ওঠে। সেই চরিত্রের সময়ই ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা তাঁর লড়াইয়ের একটি অজানা অধ্যায়। পায়ে ফ্র্যাকচার হওয়ার পরও পুরোপুরি কাজ ছেড়ে না দিয়ে সীমিত পরিসরে শুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দিনে ১০টি দৃশ্যের জায়গায় দুই থেকে তিনটি দৃশ্যে কাজ করেও ধারাবাহিকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর শুটিংয়ের জন্য বসে থাকা বা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা দৃশ্যকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়েছিল। ফলে শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ ‘চটি ছিঁড়ে গেল, তবু স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট পেলাম না!’ কৃষক স্বামীকে হারিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত বিধবা স্ত্রী, কিস্তি দিতে গৃহপালিত পশু বিক্রি! অসহায় রীতার বেদনাদায়ক জীবনযু’দ্ধের গল্প শুনে প্রতিবাদে সরব সুদীপ্তা! ঘাটালের সাংসদ দেবের উদ্দেশ্যে জানালেন কড়া বার্তা?
মিমির এই পুরনো অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, পর্দায় একজন অভিনেতার স্বাভাবিক অভিনয়ের পিছনে অনেক সময় কতটা পরিশ্রম এবং শারীরিক কষ্ট লুকিয়ে থাকে। ‘গানের ওপারে’-র পুপে চরিত্রটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও সেই চরিত্রের নেপথ্যে মিমির এমন কঠিন সময়ের কথা অনেকেরই জানা নেই। একটি দৃশ্য করতে গিয়ে পায়ে আঘাত, তারপর একই জায়গায় দ্বিতীয়বার ধাক্কা এবং শেষে ফ্র্যাকচার ধরা পড়া, সবকিছুর পরেও তিনি শুটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন। অবশ্যই আগের তুলনায় তাঁর কাজের পরিমাণ কমাতে হয়েছিল এবং শুটিংয়ের পদ্ধতিও বদলাতে হয়েছিল। কিন্তু চোটের কারণে ধারাবাহিক থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তিনি। কেরিয়ারের শুরুর সেই সময়ের এই ঘটনা আজও তাঁর পেশাগত দায়বদ্ধতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।






