হাতছাড়া হল সুযোগ? চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত গিয়েও শেষ মুহূর্তে কেন সরে দাঁড়ালেন শন বন্দ্যোপাধ্যায়? সৌরভের ‘বিগ বস বাংলা’-য় কি আর দেখা যাবে না তাঁকে? অভিনেতার না থাকার নেপথ্যে কী কারণ?

দীর্ঘ অপেক্ষার পর গতকাল, ৩০ অগস্ট রাতে পর্দা উঠল বহু প্রতীক্ষিত ‘বিগ বস বাংলা’র। রাত ৮টা থেকে শুরু হলো এই নতুন মরশুমের গ্র্যান্ড ওপেনিং পর্ব। এবারের অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ‘দাদাগিরি’র দীর্ঘ যাত্রার পর সম্পূর্ণ অন্য ধরনের একটি রিয়্যালিটি শোয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। ফলে সৌরভকে নতুন ভূমিকায় দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে আগে থেকেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তার উপর অনুষ্ঠানটি ঘিরে প্রতিযোগীদের নাম নিয়েও চলেছিল একের পর এক জল্পনা। নির্মাতারা শেষ পর্যন্ত অনেক তথ্য গোপন রেখেছিলেন। ফলে উদ্বোধনী পর্ব শুরু হওয়ার আগে পর্যন্তও কৌতূহল ছিল তুঙ্গে।

‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে কারা প্রবেশ করতে পারেন, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই টলিপাড়ায় নানা নাম ঘুরছিল। সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের তালিকায় ছিলেন মনামী ঘোষ, ঝিলম গুপ্ত, লাফটার সেন, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় এবং শন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত মুখ, তবে পায়ে গুরুতর আঘাত লাগার কারণে মূল প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন না শন বরং পরবর্তীকালে ওয়াইলকার্ড এন্ট্রি হিসেবে দেখা যেতে পারে তাকে। পাশাপাশি সৃজলা গুহ এবং সোনামণি সাহার নাম নিয়েও জোর আলোচনা চলেছিল। সমাজ মাধ্যমের পরিচিত মুখদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছিল সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে। অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত, খেলাধুলা এবং সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত মুখদের নিয়েও জল্পনা ছিল। ফলে এবারের ঘর যে আগের মরশুমগুলির তুলনায় বেশ বৈচিত্র্যময় হতে চলেছে, সেই ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। তবে সম্ভাব্য তালিকায় থাকা প্রত্যেকের প্রবেশ যে নিশ্চিত ছিল, এমনটা নির্মাতাদের তরফে জানানো হয়নি।

উদ্বোধনী পর্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে একাধিক চমকের প্রস্তুতিও ছিল বলে খবর ছড়িয়েছিল। বিশেষ করে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের গ্র্যান্ড এন্ট্রি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সম্প্রচারের আগেই তাঁর একটি ঝলক প্রকাশ্যে এসেছিল, যেখানে কালো পোশাকে একেবারে অন্য রূপে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। পিছনে শোনা গিয়েছিল ‘বিগ বস বাংলা’র থিম সঙ্গীত। শুধু সৌরভ নন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হরভজন সিংয়ের উপস্থিতি নিয়েও জল্পনা চলেছিল। বাংলা টেলিভিশনের একাধিক পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় সমাজমাধ্যম প্রভাবশালীদের উপস্থিতির কথাও শোনা গিয়েছিল। এমনকি ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসকে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেখা যেতে পারে বলেও আলোচনা ছিল। সব মিলিয়ে গতকালের উদ্বোধনী পর্বকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল যথেষ্ট।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছিল শেষ প্রতিযোগীকে নিয়ে। সম্ভাব্য তালিকায় একাধিক পরিচিত নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত কারা সত্যিই ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে প্রবেশ করবেন, তা নিয়ে নির্মাতারা রহস্য বজায় রেখেছিলেন। ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করা এক অভিনেত্রীকে নিয়েও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এমনকি সেই কারণে তিনি ধারাবাহিকটি মাঝপথে ছেড়েছেন বলেও কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল। যদিও এই দাবির আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ফলে গতকালের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের দিকে নজর ছিল দর্শকদের। সৌরভের হাত ধরে একে একে প্রতিযোগীদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনাই অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। শেষ মুহূর্তের চমক কী ছিল, তা জানতেই অপেক্ষায় ছিলেন দর্শকরা।

আরও পড়ুনঃ শ্যুটিং চলাকালীন একি কাণ্ড! উত্তমকে হারিয়ে অপূর্ণ থেকে গিয়েছিল যে স্বপ্ন, সৌমিত্রকে হাতের মুঠোয় পেয়েই পূরণ করেছিলেন অনামিকা সাহা! শক্ত করে জাপটে ধরেন, বলার পরও ছাড়তে চাননি! তারপর অভিনেত্রী যা করলেন…কী ঘটেছিল সেদিন ‘পাপপুণ্য’-র সেটে?

প্রায় এক দশক পর নতুন রূপে ফিরে এসেছিল ‘বিগ বস বাংলা’। এর আগে ২০১৩ সালে ইটিভি বাংলায় মিঠুন চক্রবর্তীকে সঞ্চালক করে এই অনুষ্ঠানের প্রথম মরশুম শুরু হয়েছিল এবং অনীক ধর বিজয়ী হয়েছিলেন। পরে ২০১৬ সালে জিৎ সঞ্চালিত ‘বিগ বস বাংলা’ কালার্স বাংলায় সম্প্রচারিত হয়েছিল, যেখানে জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজয়ী হয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন চ্যানেল, নতুন সঞ্চালক এবং নতুন আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠানটি ফিরেছিল। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো জনপ্রিয় মুখকে সঞ্চালকের আসনে বসানোয় প্রত্যাশাও বেড়েছিল অনেকটাই। গতকালের গ্র্যান্ড ওপেনিংয়ের পর এবার প্রতিদিনের পর্বে ঘরের প্রতিযোগীদের সম্পর্ক, মতবিরোধ এবং নানা ঘটনার দিকে নজর থাকবে দর্শকদের। সৌরভের সঞ্চালনায় এই নতুন যাত্রা কতটা জনপ্রিয়তা পায়, সেটাই এখন দেখার।

You cannot copy content of this page