“এখন অবাক করার মতো শিল্পী নেই… কেউ ৭ বছর এমন সাধনা করবে না, বর্তমান জেনারেশন অনেক দুর্বল!” আজকের প্রজন্মের শিল্পচর্চা নিয়ে আক্ষেপ পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর! রিয়্যালিটি শো-র জনপ্রিয়তা আর ৩০ সেকেন্ডের রিলে কি হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পের সাধনার গভীরতা?

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের জগতে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী এক অত্যন্ত পরিচিত ও সম্মানিত নাম। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতের সাধনায় যুক্ত তিনি। শিল্পী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে সংগীতের তালিম দিয়েছেন। কন্যা কৌশিকী চক্রবর্তীও তাঁর কাছ থেকেই সংগীতের শিক্ষা পেয়েছেন এবং নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবন, সাধনা, বর্তমান প্রজন্ম, রিয়্যালিটি শো, সোশ্যাল মিডিয়া এবং শিল্পের পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে একাধিক বিষয়ে নিজের আক্ষেপের কথা জানান অজয় চক্রবর্তী।

অজয় চক্রবর্তীর কাছে গান কোনও সাধারণ পেশা নয়, বরং জীবনের নিঃশ্বাস। তাঁর কথায়, গান শেখা বা একজন প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘদিনের সাধনা ও কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। নিজের জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, বছরের পর বছর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নিয়ম করে রেওয়াজ করেছেন। এমনকী সাত বছর ধরে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যেই সেই ধৈর্য এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনও কিছুর পিছনে লেগে থাকার মানসিকতা কমে যাচ্ছে।

এই জায়গা থেকেই বর্তমান সময়ের শিল্পীদের নিয়ে তাঁর আক্ষেপ আরও স্পষ্ট হয়। অজয় চক্রবর্তীর দাবি, আজকের দিনে অনেক প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে থাকলেও প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য যে সাধনা দরকার, সেখানে ঘাটতি রয়েছে। তাঁর মতে, সহজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার প্রবণতা শিল্পচর্চার গভীরতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রিয়্যালিটি শো বা সোশ্যাল মিডিয়ার ৩০-৬০ সেকেন্ডের রিলের মাধ্যমে কোনও শিল্পীকে বিচার করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর যুক্তি, এত অল্প সময়ে একজন শিল্পীর প্রকৃত দক্ষতা ও সংগীতের গভীরতা বোঝা সম্ভব নয়।

বর্তমান গানের মান নিয়েও সরাসরি নিজের মত জানিয়েছেন অজয় চক্রবর্তী। সাক্ষাৎকারে তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, আজকের কোনও শিল্পীর গান তাঁকে সত্যিই অবাক করে কি না, তখন তাঁর উত্তর ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট “অবাক করার মতো শিল্পী নেই এখন।” যদিও শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিং, সোনু নিগমসহ একাধিক শিল্পীর গানের কিছু কিছু দিক তাঁর ভালো লাগে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা আর প্রকৃত শিল্প দুটি এক জিনিস নয়। ফুলের স্বাভাবিক গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তুলনা টেনে তিনি বোঝান, সাময়িক জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘ সাধনায় তৈরি শিল্পের মূল্য অনেক বেশি।

আরও পড়ুনঃ “১৮ বছর বয়সে খুব ছোট ছিলাম, লোকে যা বলত তাই করতাম…” বিয়ের পর ভয়ংকর মানসিক নি’র্যাত’নের শি’কার, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ছাড়তে বাধ্য হন শ্বশুরবাড়ি! ২৫ বছর পেরিয়েও কেন এখনও ডিভোর্স হয়নি স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের? শাঁখা-সিঁদুর পরেই নিজের বৈবাহিক জীবনের অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন নতুন ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’?

একইসঙ্গে ভারতীয় সংগীতের প্রচার ও প্রসার নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন অজয় চক্রবর্তী। তাঁর মতে, ভারতীয় সংগীতের অসাধারণ শক্তি থাকলেও তা সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্টভাবে পৌঁছনো হয়নি। তবে তরুণ প্রজন্মের প্রতি তাঁর সম্পূর্ণ অনাস্থা নেই। বরং তিনি মনে করেন, কঠিন পরিশ্রম ও সাধনার গুরুত্ব যদি নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে, তাহলে তারাই ভবিষ্যতে বড় কিছু করতে পারবে। এআই (AI) প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তি তথ্য ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে কাজে লাগলেও মানুষের অনুভূতি, সৃষ্টিশীলতা এবং তাৎক্ষণিক সংগীতের গভীরতাকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছে সংগীতই জীবন তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁকে মনে রাখুক বা না রাখুক, গানের মধ্যেই নিজের অস্তিত্ব রেখে যেতে চান এই কিংবদন্তি শিল্পী।

You cannot copy content of this page