‘আম দুধে মিশে যায়, আঁটি গড়াগড়ি খায়’ আর নয় ডিম ও কাদা ছোড়াছুড়ি, এবার শুধু কেক মাখামাখি? তিক্ততা ভুলে একই মঞ্চে কৌস্তভ বাগচির সঙ্গে গলা মেলালেন রাজ চক্রবর্তী! উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আয়োজিত অনুষ্ঠানে জমল নতুন সমীকরণ! তৃণমূল অতীত, এবার বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন পরিচালক? জোর চর্চা টলিপাড়ায়!

উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাতে নন্দনে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি এবং টলিপাড়ার একাধিক পরিচিত মুখ। উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যদেরও এদিন অনুষ্ঠানে দেখা যায় মঞ্চে। মহানায়কের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজনও করা হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে অন্য একটি দৃশ্য। ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি এবং বিধানসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকে একসঙ্গে গান গাইতে দেখা যায়। দুজনের এই যৌথ পরিবেশনাই রাতারাতি নজর কেড়ে নেয় নেটপাড়ার।

মঞ্চে কৌস্তভ এবং রাজ একসঙ্গে গেয়েছেন ‘পৃথিবী বদলে গেছে, যাতে কী নতুন লাগে’ গানটি। গান গাওয়ার সময় কোনও অংশের কথা ভুলে গেলে রাজই কৌস্তভকে তা মনে করিয়ে দেন। দুজনের এই স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে। এমনকী তাঁদের যৌথ পরিবেশনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিরও বেশ পছন্দ হয়। তিনি উঠে এসে দুজনের বুকে হাত রেখে তাঁদের প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, রাজ এবং কৌস্তভের এমন ‘ভাইচারা’ দেখে অবাক নেটিজেনদের একাংশ। কারণ মাত্র মাসখানেক আগেও ভোটের প্রচারে দুজনেই একে অপরকে নিয়ে তীব্র আক্রমণ ও কটাক্ষ করেছিলেন।

এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। একজন মন্তব্য করেন, ‘আম দুধে মিশে যায়, আঁটি গড়াগড়ি খায়’, যা নিয়ে তৈরি হয় নানা আলোচনা। আরেকজনের বক্তব্য ছিল, এবার নিচুতলার কর্মীদেরও এই রাজনৈতিক সমীকরণ থেকে শেখা উচিত। তাঁর মন্তব্যে আগের ডিম ছোড়াছুড়ির প্রসঙ্গ টেনে এবার কেক মাখামাখির কথা বলা হয়। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর এমন ঘনিষ্ঠতা নিয়েই মূলত চর্চা শুরু হয়েছে। ভোটের সময় যে দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই দেখা গিয়েছিল, সেই ছবিই এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের মঞ্চ তাই রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও বিশেষ আলোচনার জায়গা হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কৌস্তভ বাগচি। তিনি জানান, এটি কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, বরং সংস্কৃতির মঞ্চ। তাঁর কথায়, এখানে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সকলের একসঙ্গে থাকা উচিত। ব্যারাকপুরের কিছু কার্যকর্তার বিষয়টি খারাপ লাগতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তবে তাঁর মতে, সেটাই স্বাভাবিক হলেও এই অনুষ্ঠানে ‘আমরা-ওরা’ রাখার কোনও কারণ নেই। তিনি আরও জানান, শুধু রাজ চক্রবর্তী নন, এমন অনেকেই এদিন মঞ্চে ছিলেন যাঁরা ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে থাকতেন। কৌস্তভের বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী সংস্কৃতির জগতে এই বিভাজন মুছে দেওয়ার যে পথ দেখিয়েছেন, তাঁরা সেই পথেই এগোচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ ‘কলার খোসা’ মন্তব্যে মনামীর রাগ, তারপরই বিগ বসের ঘরে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেললেন ঝিলম! ছোটবেলার কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আবেগপ্রবণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর? ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে ফাঁস কোন কাণ্ড?

কৌস্তভ আরও বলেন, পরিবর্তনের পরেও যদি সংস্কৃতির মঞ্চে ‘আমরা-ওরা’ থেকে যায়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী। উত্তম কুমারকে ঘিরে বাঙালির আবেগের কথাও এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, মহানায়কের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাই তাঁর জন্মদিন উদযাপন হওয়াই স্বাভাবিক। এরপর তিনি আগের সরকারের বিরুদ্ধে টলিউডের শিল্পীদের নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির প্রশংসা করে বলেন, তিনিই সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে বিভাজন মুছে দেওয়ার পথ দেখিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন রাজ চক্রবর্তীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর গণনাকেন্দ্র ছাড়ার সময় কয়েকজন বিজেপি সমর্থক তাঁর দিকে কাদা ছোড়েন। তখন ‘চোর’ স্লোগানও ওঠে এবং সেই ঘটনার পর শুভশ্রীর স্বামীকে অনেকটাই রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে দেখা যায়, আর কৌস্তভ সেই সময় ঘটনাটিকে নিচুতলার বিজেপি কর্মীদের জনরোষ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

You cannot copy content of this page