‘বিগ বস’-এর ঘরে প্রতিযোগীদের প্রতিটি মুহূর্তই দর্শকদের নজরে থাকে। ঝগড়া, আড্ডা, টাস্ক থেকে শুরু করে তাঁদের ব্যক্তিগত কথাবার্তাও শোয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই সবকিছুর মধ্যেই একটি বিষয় প্রায় প্রতি মরশুমেই দর্শকদের কৌতূহলী করে। ফ্যাশনেবল পোশাকের সঙ্গে প্রতিযোগীদের কাঁধে সবসময় ছোট একটি ব্যাগ দেখা যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় সব জায়গাতেই সেই ব্যাগ তাঁদের সঙ্গে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এত ছোট ব্যাগের মধ্যে আসলে কী থাকে? অনেকেই ভাবেন, হয়তো ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জিনিস বা প্রসাধনী রাখার জন্যই এই ব্যাগ ব্যবহার করা হয়।
আসলে সেই ধারণা ঠিক নয়, কারণ ব্যাগটির সঙ্গে প্রতিযোগীদের সাজগোজের কোনও সম্পর্ক নেই। এই ছোট ব্যাগটিকে মূলত ‘মাইক প্যাক’ বা ‘ট্রান্সমিটার ব্যাগ’ বলা হয়। ‘বিগ বস’ একটি ২৪ ঘণ্টার রিয়্যালিটি শো হওয়ায় প্রতিযোগীদের কথাবার্তা সবসময় রেকর্ড করা জরুরি। ঘরের মধ্যে তাঁরা কখন কী বলছেন, সেটি যেন কোনওভাবেই অডিয়োর বাইরে না যায়, সেই ব্যবস্থাই করা থাকে। এমনকী তাঁদের নিঃশ্বাস বা খুব নিচু স্বরে বলা কথাও পরিষ্কারভাবে ধরার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ব্যাগের মধ্যে থাকে একটি ওয়্যারলেস ট্রান্সমিটার এবং শক্তিশালী রিচার্জেবল ব্যাটারি। সেখান থেকে একটি সরু তার পোশাকের ভিতর দিয়ে গিয়ে বুক বা কলারের কাছে থাকা ছোট ল্যাপেল মাইক্রোফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
এই মাইক প্যাক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিযোগীদের সাধারণত এটি সঙ্গে রেখেই চলতে হয়। খাওয়ার সময়, শরীরচর্চার সময় কিংবা কোনও টাস্কে অংশ নেওয়ার সময়ও ব্যাগটি খুলে রাখা যায় না। অর্থাৎ ‘বিগ বস’-এর ঘরে দিনের প্রায় প্রতিটি কাজের সঙ্গেই এই ছোট যন্ত্রটি জড়িয়ে থাকে। তবে সব পরিস্থিতিতে এটি শরীরে রাখার নিয়ম নেই। স্নান করার সময় এবং সুইমিং পুলে যাওয়ার সময় প্রতিযোগীরা মাইক প্যাকটি খুলে রাখতে পারেন। এ ছাড়া রাতে ঘুমানোর সময় ব্যাগ শরীর থেকে সরিয়ে রাখলেও সেটি মাথার কাছে বা বালিশের নিচে রাখতে হয়, যাতে ঘুমের মধ্যেও কোনও ফিসফিস করে বলা কথা রেকর্ডের বাইরে না যায়।
তবে এই নিয়ম মানা শুধু অনুষ্ঠানের অংশ নয়, এর সঙ্গে শাস্তির বিষয়ও জড়িয়ে রয়েছে। কোনও প্রতিযোগী ইচ্ছা করে অডিয়ো ডিভাইসটি হাত দিয়ে চেপে ধরলে বা মাইক প্যাক খুলে রাখলে ‘বিগ বস’-এর তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। কারণ এমন করলে তাঁদের কথাবার্তা বা আশপাশের শব্দ ঠিকভাবে রেকর্ড নাও হতে পারে। নিয়ম ভাঙার ঘটনা বারবার ঘটলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে প্রতিযোগীদের জন্য। সেক্ষেত্রে তাঁদের লাক্সারি বাজেট কমিয়ে দেওয়ার মতো শাস্তি দেওয়া হতে পারে। এমনকী গুরুতর বা বারবার নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে এলিমিনেশনের জন্যও নাম উঠে আসতে পারে। তাই দর্শকের চোখে ছোট ও সাধারণ দেখতে হলেও প্রতিযোগীদের জন্য এই ব্যাগটি আসলে ‘বিগ বস’-এর ঘরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
আরও পড়ুনঃ “মা-ই আমার জীবন…” অন্ধকার ভেদ করে মায়ের খোঁজ, তীব্র অপ’মান ও লাঞ্ছ’নাতেও থামেনি তাঁর সাধনা! কৌশিকী অমাবস্যার পরের সকালেই প্রকাশ্যে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র টিজার! বড় পর্দায় মেগা এন্ট্রির পথে সব্যসাচী চৌধুরী, প্রচারঝলকেই কাড়লেন মন? মা তারার ভূমিকায় কে? প্রেক্ষাগৃহে কবে মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি?
ফলে কাঁধে ঝোলানো সেই ছোট ব্যাগের রহস্য এখন অনেকটাই পরিষ্কার। এটি কোনও ব্যক্তিগত ব্যাগ নয়, বরং প্রতিযোগীদের সঙ্গে থাকা একটি প্রয়োজনীয় অডিয়ো সিস্টেমের অংশ। ব্যাগের ভিতরের ট্রান্সমিটার এবং ব্যাটারির সাহায্যে শরীরে লাগানো মাইক্রোফোন কাজ করে। তার মাধ্যমেই ঘরের ভিতরের কথাবার্তা এবং নানা ধরনের শব্দ ক্যামেরার পাশাপাশি অডিয়ো টিমের কাছে পৌঁছয়। দিনভর এত কিছু ঘটলেও যেন কোনও গুরুত্বপূর্ণ কথা বাদ না পড়ে, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়। শুধু স্নান বা সুইমিং পুলের মতো নির্দিষ্ট সময়েই এটি সরানোর অনুমতি রয়েছে। তাই পর্দায় বারবার দেখা যাওয়া সেই ছোট্ট ব্যাগটি আসলে ‘বিগ বস’-এর ২৪ ঘণ্টার নজরদারি এবং রেকর্ডিং ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।






