কৌশিকী অমাবস্যার দিনই প্রকাশ্যে এসেছিল ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ছবির প্রথম পোস্টার। পোস্টার সামনে আসতেই এই ছবি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। কারণ ছোটপর্দায় সাধক বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে ইতিমধ্যেই দর্শকের নজর কেড়েছেন সব্যসাচী চৌধুরী। এবার সেই পরিচিত চরিত্রকেই বড় পর্দায় দেখতে চলেছেন দর্শকরা। শ্রী ভেঙ্কটশ ফ্লিমসের প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছে এই নতুন ছবি। ছবিতে মা তারার ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেত্রী পায়েল দেকে। পোস্টারের পর এবার প্রকাশ্যে এল বহু প্রতীক্ষিত ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র অফিসিয়াল টিজারও।
টিজারে মূলত উঠে এসেছে বামাক্ষ্যাপার সাধনা এবং মা তারাকে খুঁজে পাওয়ার আকুলতার ছবি। অন্ধকার থেকে আলো, মন্দিরের মূর্তি থেকে জল ও স্থল, সব জায়গাতেই মায়ের সন্ধান করেছেন তিনি। তাঁর জীবনের পথ যে মোটেই সহজ ছিল না, তার ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়েছে টিজারের বিভিন্ন দৃশ্যে। জীবনে একের পর এক অপমান, লাঞ্ছনা এবং কঠিন পরিস্থিতি এলেও ভক্তি থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি। বরং প্রতিটি বাধা পেরিয়ে আরও গভীরভাবে মা তারার সন্ধান চালিয়ে গিয়েছেন সাধক। এই আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এবং তাঁর ভক্তির নানা দিকই ছবির অন্যতম প্রধান বিষয়। টিজারের প্রতিটি দৃশ্যেই তাই বামাক্ষ্যাপার সাধনা এবং মাতৃভক্তির আবহকে সামনে রাখা হয়েছে।
বামাক্ষ্যাপার এই কঠিন সাধনার কাহিনিই এবার বড় পর্দায় তুলে ধরতে চলেছে ছবিটি। এর পাশাপাশি তারাপীঠকে ঘিরে থাকা বেশ কিছু অজানা ইতিহাসও সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে আসবে। টিজার প্রকাশের পর থেকেই সব্যসাচী চৌধুরীর অভিনয় নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তাঁর অভিনয়ের কিছু ঝলক দেখে দর্শকদের একাংশের গায়েও কাঁটা দেওয়ার মতো অনুভূতি হয়েছে। ছবির আবহ সঙ্গীতও টিজারে আলাদা করে নজর কেড়েছে। সেই সুর এবং দৃশ্যের মেলবন্ধন দর্শকদের বহু পুরনো সময়ের পরিবেশের মধ্যে নিয়ে যায়। ফলে টিজার প্রকাশের পর ছবিটি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল আরও বেড়েছে।
‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন সায়ন্তন ঘোষাল। ছবির কাহিনি রচনা এবং সৃজনশীল পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন স্বয়ং সব্যসাচী চৌধুরী। সিনেমার সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সব্যসাচী এবং পায়েল দে ছাড়াও এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়। নির্মাতাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী কালীপুজোয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ছবিটি। অর্থাৎ উৎসবের মরসুমেই বড় পর্দায় দেখা যাবে বামাক্ষ্যাপার এই সাধনার কাহিনি। টিজার প্রকাশের পর এখন দর্শকদের অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত সিনেমায় কীভাবে উঠে আসে তাঁর জীবন ও তারাপীঠের ইতিহাস।
আরও পড়ুনঃ একই জ্যাকেট প্রতিদিন কেন পরেন তাপস-কন্যা, আর জামা নেই? আজও কোন স্মৃতি আঁকড়ে ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে এমন পোশাকে সোহিনী পাল? মা নন্দিনীর কথায় প্রকাশ্যে এল আবেগঘন কারণ!
উল্লেখ্য, সব্যসাচী চৌধুরী এবং পায়েল দে এর আগেও একসঙ্গে পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক চরিত্রে কাজ করেছেন। ‘সাধক রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকেও তাঁদের দুজনকে দেখা গিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকে পায়েল দে মা কালীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তবে সাধক বামাক্ষ্যাপা হিসেবে সব্যসাচীর সবচেয়ে বেশি পরিচিতি আসে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। সেই ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। অনেক দর্শকের কাছেই তাঁর অভিনয়ে বামাক্ষ্যাপার চরিত্রটি অত্যন্ত জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। এবার সেই জনপ্রিয় চরিত্র নিয়েই বড় পর্দায় নতুনভাবে ফিরছেন সব্যসাচী, সঙ্গে থাকছেন পায়েল দে।






