“জন্মদিনে প্রদীপ না জ্বেলে নিজেদের মাথায় একটু আলো জ্বালান!” “কী শুরু করেছেন আপনারা?” “মানুষের বাচ্চার দুধও কেড়ে নেবেন, আবার চারপেয়ে প্রাণীদের থাকার অধিকারও?” রবীন্দ্র সরোবরে সংস্কার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য কুকুর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অগ্নিমিত্রা পালের উপর বেজায় চটলেন শ্রীলেখা মিত্র!

সম্প্রতি কলকাতার ফুসফুস, রবীন্দ্র সরোবরের সংস্কার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটিকে পরিষ্কার রাখার জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে রবীন্দ্র সরোবরে সারমেয়দের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেন অগ্নিমিত্রা। সরোবরের ভিতরে খাবার নিয়ে ঢোকার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেউ যাতে কোনও কুকুর নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে না পারেন, সেই বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, সরোবরের ভিতরে কুকুরেরা যেখানে সেখানে মলত্যাগ করে জায়গাটি নোংরা করে। তবে তিনি বা তাঁর সরকার কুকুরবিরোধী নন বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী, শুধু শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্র সরোবরকে নোংরা হতে দিতে চান না।

অগ্নিমিত্রা পালের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন তিনি, যদিও সেখানে সরাসরি অগ্নিমিত্রা পালের নাম নেননি। তবে তাঁর লেখার বক্তব্য থেকে কার উদ্দেশে এই মন্তব্য, তা স্পষ্ট বলেই মনে করা হচ্ছে। শ্রীলেখা মূলত প্রশ্ন তুলেছেন, শহরের রাস্তা, পার্ক এবং ফুটপাতের ব্যবহার নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না। পথের কুকুর-বিড়ালদের জায়গা নিয়েও নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরেছেন তিনি। ব্যঙ্গের সুরে অভিনেত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, যদি প্রাণীদের রাস্তা বা পার্কে থাকতে দেওয়া না হয় এবং তাদের খাওয়ানোও বন্ধ করা হয়, তাহলে তাদের যাওয়ার জায়গা কোথায় থাকবে। এমনকি পরিস্থিতি এমন হলে তাদের আকাশে উড়ে বেড়ানোর জন্য ডানা বানিয়ে দিতে হবে বলেও কটাক্ষ করেছেন শ্রীলেখা।

শুধু পশুদের প্রসঙ্গেই থামেননি শ্রীলেখা, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, শহরের রাস্তা বা পার্ক কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একার সম্পত্তি হতে পারে না। দূরদূরান্ত থেকে সবজি বা মাছ নিয়ে আসা সাধারণ মানুষ কীভাবে যাতায়াত করবেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী। সাইকেল ব্যবহার বন্ধ হলে তাঁদের কি হেলিকপ্টারে যাতায়াত করতে হবে, এমন ব্যঙ্গও করেছেন তিনি। শ্রীলেখার মতে, মানুষ যেমন এই পৃথিবীতে থাকার অধিকার রাখে, তেমনই অন্য প্রাণীদেরও থাকার অধিকার রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন এবং বিরক্তিকর হয়ে উঠছে বলেও নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন তিনি। নিজের পোস্টে শ্রীলেখা লিখেছেন, “কী শুরু করেছেন আপনারা, আসলে কী দেখাতে চাইছেন? ফুটপাতে মানুষের বাচ্চার দুধও কি কেড়ে নেবেন, গরিব মানুষের রুজি রোজগারও বন্ধ করবেন? সাধারণ মানুষ কীভাবে বাঁচে, সেটাও কি একবার ভেবে দেখবেন না?”

পোস্টের শেষের দিকে অগ্নিমিত্রা পাল এবং তাঁর দলের নীতির সমালোচনাও করেছেন শ্রীলেখা। নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু আত্মসমালোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবনকে অযথা আরও কঠিন করে তোলার কোনও সীমাহীন সুযোগ থাকা উচিত নয়। পশুদের বিষয়ে আগের সরকারের তুলনাও টেনে এনেছেন অভিনেত্রী। শ্রীলেখার দাবি, পশুদের বিষয়টি অন্তত তৃণমূলের আমলে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় ভালোভাবে দেখা হত। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, “সবকিছুরই একটা সীমা থাকা দরকার। মানুষের জীবনে এত সমস্যা তৈরি করার পর আবার প্রদীপ জ্বালানোর কথা ভাবার আগে নিজেদের মাথায় একটু আলো জ্বালানো দরকার। পশুদের বিষয়ে অন্তত আগের সরকার আপনাদের তুলনায় ভালো ছিল বলেই আমার মনে হয়।” এই মন্তব্যের পর শ্রীলেখার পোস্টকে ঘিরে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “চোখের সামনে সেদিন প্রায় ১৫-২০ জন মেয়েকে যৌ*ন নি’র্যাতনের শি’কার হতে দেখেছি… কেঁদে ফেলেছিলাম” চারিদিকে বিধ্বং’সী আ’গুন, হাজার হাজার মানুষের ভিড়েই ভয়াবহ তা*ণ্ডব! কারা করেছিল এমন? বিনোদন জগতের আলোর আড়ালে শিউরে ওঠা এক রাতের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়!

শুধু শ্রীলেখার বক্তব্যই নয়, তাঁর পোস্টের নীচে এক নেটিজেনের মন্তব্যও নজর কেড়েছে। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন বিধায়ক বা মন্ত্রী হিসেবে অগ্নিমিত্রা পাল কি শহরের সব বিষয়ে এককভাবে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন? তাঁর মতে, অগ্নিমিত্রা একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাঁকে ভোট দিয়ে মানুষই ক্ষমতায় এনেছেন। পাঁচ বছর পরে সেই মানুষই চাইলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন ওই নেটিজেন। অতিরিক্ত ক্ষমতা দেখানোর পরিণতি নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন এবং আগের একটি রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেছেন। প্রসঙ্গত, এর কিছুদিন আগে পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথে বসবাসকারী এক মহিলাকে বকাঝকা করার ঘটনায়ও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। পরে নিজের রূঢ় ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি এবং বিজেপি সরকারের তরফে ওই পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়।

You cannot copy content of this page