“চোখের সামনে সেদিন প্রায় ১৫-২০ জন মেয়েকে যৌ*ন নি’র্যাতনের শি’কার হতে দেখেছি… কেঁদে ফেলেছিলাম” চারিদিকে বিধ্বং’সী আ’গুন, হাজার হাজার মানুষের ভিড়েই ভয়াবহ তা*ণ্ডব! কারা করেছিল এমন? বিনোদন জগতের আলোর আড়ালে শিউরে ওঠা এক রাতের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেতা সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়!

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেতা সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। মাত্র ছয় বছর বয়সে পাড়ার নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এরপর একের পর এক নাটক, যাত্রা এবং সিনেমায় কাজ করতে করতে তৈরি হয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন। জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে শুরু করে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে জায়গা করে নেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের নানা অজানা অভিজ্ঞতা, ইন্ডাস্ট্রির কঠিন সময়, যাত্রার ভয়াবহ ঘটনা এবং কাজ হারানোর যন্ত্রণার কথা অকপটে শেয়ার করেছেন অভিনেতা।

অভিনেতা জানান, অভিনয়ে আসার আগে থেকেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক দেওয়ার সময় সিনেমার শুটিং দেখার সূত্রে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ আসে। প্রথম রোজগারও ছিল সিনেমা থেকেই। এরপর প্রতিদিন স্টুডিয়োয় ঘুরে কাজ খুঁজেছেন, জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি থিয়েটার ও যাত্রাতেও কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, যাত্রার সেই সময় ছিল অত্যন্ত কঠিন। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ জনপ্রিয় হওয়ার সময় একের পর এক শোয়ে বিপুল ভিড় হত। তিনি দাবি করেন, ভিড়ের চাপে বহুবার প্যান্ডেল ভেঙেছে, আগুন লেগেছে, এমনকি তাঁদের যাত্রার প্যান্ডেলও বহুবার লুট হয়েছে।

সুমিতের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি যাত্রাশোয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ভিড়ে প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে এবং আগুনও লাগে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তিনি যাত্রার কয়েকজন মহিলা শিল্পীকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে তাঁদের খুঁজতে গিয়ে তিনি এমন দৃশ্য দেখেন, যা তাঁর কথায় আজও ভুলতে পারেননি। তাঁর দাবি, প্রায় ১৫-২০ জন মহিলা শিল্পীকে তিনি যৌ*ন নি*র্যাতনের শি’কার হতে চোখের সামনে দেখেছিলেন। পুলিশকে খবর দিয়ে এবং অন্যদের সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি। সুমিত আরও বলেন, দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ৫০-৬০টির মতো প্যান্ডেল জ্বলতে দেখেছেন। তাঁর এই বর্ণনা মূলত যাত্রাজগতের সেই সময়কার বিশৃঙ্খলা, অতিরিক্ত ভিড় এবং শিল্পীদের নিরাপত্তার অভাবের একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে।

সিনেমার দুনিয়ায় পরিচিতি পাওয়ার পরেও তাঁর জীবনে কঠিন সময় এসেছে বলে জানান সুমিত। তাঁর কথায়, একটি পর্যায়ে একাধিক ছবিতে কাজ করার কথা থাকলেও অজানা একটি ঘটনার জেরে তিনি কয়েকটি সই করা ছবি থেকেও বাদ পড়েন। এরপর প্রায় সাত বছর বড় ছবিতে কাজের সুযোগ পাননি। নিয়মিত ডাবিং করে সংসার চালিয়েছেন। তিনি জানান, পরিচালক স্বপন সাহা তাঁকে ছবিতে নিতে না পারলেও ডাবিংয়ের কাজ দিতেন। এই সময় আর্থিক সংকটও ছিল প্রবল। একদিন প্রায় কোনও টাকা না থাকা অবস্থায় স্টুডিয়োয় গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাঁকে নেওয়া হচ্ছে। প্রযোজক তাঁকে অগ্রিমের চেক দেন। সেই মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেছিলেন বলে জানান অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ “তাঁকে অন্তিম বিদায় জানানো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত!” “পাশে না থাকলেও, তাঁর শেখানো মূল্যবোধই এবার আমার পথ দেখাবে!” অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই ভেঙেছিল দাম্পত্য, সমাজের কটূক্তি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও একাই মেয়েকে বড় করেছেন সানন্দা বসাক! জীবনের একের পর এক কঠিন আ’ঘাত সামলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো অভিনেত্রীর জীবনে ফের কেন নেমে এল শোকের ছায়া?

দীর্ঘ অভিনয়জীবনের নানা উত্থান-পতনের কথাও অকপটে জানিয়েছেন সুমিত। একদিকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে একের পর এক ছবিতে কাজ করেছেন, অন্যদিকে অজানা কারণে কাজ হারিয়ে দীর্ঘদিন ডাবিংয়ের কাজ করে সংসার চালাতে হয়েছে তাঁকে। যাত্রার মঞ্চে ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষী হওয়া থেকে শুরু করে অর্থকষ্টের সময় হঠাৎ করে ছবিতে কাজের সুযোগ পাওয়া তাঁর কথায় উঠে এসেছে বিনোদন জগতের আলো-আঁধারির একাধিক অধ্যায়। আর সেই কঠিন সময় পেরিয়ে ফের কাজের সুযোগ পাওয়ার মুহূর্তটিই তাঁর কাছে ছিল জীবনের অন্যতম আবেগঘন অভিজ্ঞতা।

You cannot copy content of this page