“বাবা আর নেই, মাত্র ১৫ দিনেই সবটা শেষ হয়ে গেল…” পিতৃহারা হয়ে শো’কস্তব্ধ শতাব্দী রায়! কোনও পুরনো অ’সুখ ছিল না কিন্তু হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হন! যাঁর হাত ধরে জীবনের কঠিন অধ্যায় পার, সেই আজ নেই! কী হয়েছিল অভিনেত্রীর বাবা শৈলেন রায়ের?

পর পর শোকের খবর আসছে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে। কিছু দিন আগেই মাকে হারিয়েছেন অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়। সেই শোকের আবহ কাটতে না কাটতেই এ বার পিতৃহারা হলেন অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। গত সপ্তাহেই প্রয়াত হয়েছেন শতাব্দীর বাবা শৈলেন রায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বাবাকে হারানোর খবর নিজেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে এখনও স্বাভাবিক ভাবে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি।

বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। শতাব্দীর কথায়, প্রত্যেক মানুষের কাছেই নিজের মা-বাবা বিশেষ প্রিয়। তবে তাঁর বাবা শুধু পরিবারের মানুষ ছিলেন না, কাজের সময়ও সবসময় তাঁর পাশে থাকতেন। অভিনেত্রী যেখানে শুটিং করতে যেতেন, বাবাকেও প্রায় সবসময় সঙ্গে পেতেন। তাই আচমকা বাবাকে ছাড়া দিন কাটানোর বাস্তবতাটা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শতাব্দী বলেন, ‘‘বাবা সবসময় আমার সঙ্গে থাকতেন। আমি যে জায়গাতেই শুটিং করতে গিয়েছি, সেখানেই বাবাকে পাশে পেয়েছি। তাই এখন বাবা আর নেই, এই কথাটা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’’

শতাব্দী জানিয়েছেন, তাঁর বাবা মৃত্যুর আগে পর্যন্ত যথেষ্ট সুস্থই ছিলেন। তাঁর কোনও পুরনো শারীরিক সমস্যা ছিল না বলেই জানান অভিনেত্রী। হঠাৎ শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে ফুসফুসে ক্যানসার রয়েছে। এর আগে এমন কোনও অসুস্থতার লক্ষণ তাঁরা বুঝতে পারেননি বলেই জানিয়েছেন শতাব্দী। অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘বাবার সুগার ছিল না, রক্তচাপও ছিল না। অথচ মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে কী ভাবে সবকিছু এতটা বদলে গেল, এখনও সেটা ভাবতে পারছি না।’’

হাসপাতালে প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন শতাব্দীর বাবা। এর মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকে। শতাব্দী জানিয়েছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে বাবার চলে যাওয়া তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত আকস্মিক। তাঁর কথায়, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে কষ্ট পাওয়ার সুযোগ বাবার হয়নি। এই বিষয়টিই একমাত্র কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে অভিনেত্রীকে। তবে সেই স্বস্তির মধ্যেও বাবাকে হারানোর শূন্যতা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শতাব্দীর কথায়, ‘‘বাবাকে খুব বেশি দিন কষ্ট পেতে হয়নি, এটুকুই এখন একমাত্র শান্তির জায়গা। কিন্তু বাবা আর নেই, এই সত্যিটা মেনে নেওয়া এখনও সম্ভব হচ্ছে না।’’

আরও পড়ুনঃ “এটা কোনও ব্যাপারই নয়, জাস্ট একটা অ্যা*ক্সিডেন্ট!” “নন্দিনী খুব ভালো মেয়ে, ওর কোনও দোষ নেই, বিতর্ক তৈরি করতেই রিয়্যালিটি শোতে মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়!” সৃজলার চো*ট নিয়ে যখন উত্তাল নেটপাড়া, ‘পর্দার বোন’ নন্দিনী দত্তের পাশে দাঁড়ালেন ভিভান ঘোষ! টাস্কের উত্তেজনাকে বড় করে দেখিয়ে অযথাই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে নন্দিনীকে, দাবি অভিনেতার?

বাবার মৃত্যুর পর আপাতত গভীর শোকের মধ্যেই দিন কাটছে শতাব্দী রায়ের। পরিবারের সদস্যরাও এই আকস্মিক ক্ষতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। মাত্র কয়েক দিনের অসুস্থতার মধ্যেই এমন পরিণতি হবে, তা তাঁরা কেউই ভাবতে পারেননি। সুস্থ থাকা একজন মানুষ হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর শরীরে গুরুতর অসুখ ধরা পড়ে। তারপর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই দ্রুত পরিবর্তনই এখনও অভিনেত্রী এবং তাঁর পরিবারের কাছে অবিশ্বাস্য হয়ে রয়েছে। বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই শোক কাটিয়ে ওঠা শতাব্দীর জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

You cannot copy content of this page