“একজন সিনিয়র মানুষকে ধাক্কা দিয়ে মুখে পোকা মা’রার স্প্রে করে সরী বললে সব মিটে যাবে?” রাজবীরের হাতে বারবার অপদস্ত ভরত কল, আওয়াজ তুললেন রাজা! “শুধু বয়সে বড় হলেই সম্মান পাওয়া যায় না, ভরতদারও নিজের আচরণ দেখা উচিত!” “কাউকে বারবার উস্কে দিলে এটাই হয়, উনিই আগে অসম্মান করেছেন!” পরিবার তুলে কথা বললে চুপ করে থাকবে কেন?রাজবীরের পাশে দাঁড়িয়ে অভিনেতাকেই পাল্টা দাওয়াই নেটপাড়ার!

‘বিগ বস বাংলা’র সাম্প্রতিক পর্ব ঘিরে এবার সরব হলেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা রাজা গোস্বামী। নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে তিনি প্রতিযোগীদের খেলার ধরন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রাজবীর দে এবং ভরত কলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাই তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়। রাজা মনে করেন, ভরত কল বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় রাজবীরের থেকে বড়, তাই তাঁর সঙ্গে সেই অনুযায়ী সম্মানজনক আচরণ করা উচিত। কিন্তু শোয়ে বারবার ভরতকে অসম্মানিত করা হচ্ছে বলেই মনে হয়েছে অভিনেতার। অন্যদিকে, জেতার তাগিদে এমন কিছু করা হচ্ছে, যা তাঁর কাছে মানবিকতার প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে। গতকালের একটি টাস্কে প্রতিযোগীদের আচরণ দেখেই তাই নিজের বক্তব্য দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাজা।

রাজা তাঁর ভিডিয়োয় প্রথমেই জানান, তিনিও অন্য দর্শকদের মতো নিয়মিত ‘বিগ বস’ দেখেন। তবে এবার থেকে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান দেখা নয়, নিজের ভাল লাগা বা আপত্তির জায়গাগুলিও প্রকাশ্যে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকালের টাস্কটির প্রসঙ্গ তুলে রাজা বলেন, “ভাই, এটা কী হচ্ছে, বুঝতে পারছি না! তোমরা যেমন দেখো, আমিও তেমনই দেখি। ‘বিগ বস’ আমার ভালো লাগে, তাই এবার থেকে যা মনে হবে তোমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব। তোমরাও নিজেদের মতামত জানাবে।” এরপর টাস্কে জেতার জন্য প্রতিযোগীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ঘোড়ার আদলের একটি কাঠামোর উপর যে প্রতিযোগী বেশি সময় থাকতে পারবেন, তিনিই জিতবেন, এমনই ছিল ওই খেলার নিয়ম বলে জানান রাজা। নিজের ‘স্মার্ট জোড়ি’র অভিজ্ঞতার কথাও টেনে এনে তিনি বোঝান, খেলায় জেতার লড়াই তিনি নিজেও দেখেছেন।

তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জেতার জন্য মুখে পোকামাকড় মারার স্প্রে বা শৌচাগার পরিষ্কারের তরল ব্যবহার করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি রাজা। তাঁর প্রশ্ন, “জেতার জন্য আমি কাউকে পোকামাকড় মারার স্প্রে মুখে করে দেব? শৌচাগার পরিষ্কারের তরল দিয়ে দেব? এটা কী হচ্ছে ভাই? মানবিকতা বলে কি কোনও জিনিস নেই?” তিনি আরও বলেন, কাউকে টেনে ফেলে দেওয়া এবং মুখে ক্ষতিকর স্প্রে দেওয়া এক বিষয় নয়। কারণ নরম মেঝেতে কাউকে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে এমন কোনও পদার্থ মুখে দেওয়ার তুলনা চলে না বলেই তাঁর বক্তব্য। রাজা মনে করিয়ে দেন, পোকামাকড় মারার স্প্রে বা এই ধরনের স্পষ্ট ব্যবহারের জিনিস মানুষের মুখে দেওয়ার জন্য তৈরি নয়। এমনকি স্প্রে বা সুগন্ধি সরাসরি কারও মুখে না দেওয়ার সতর্কতাও থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাই খেলার মধ্যেও কোথাও একটা মানবিক সীমা থাকা উচিত কি না, সেই প্রশ্নই তুলেছেন অভিনেতা।

নিজের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রবীণ অভিনেতাদের সম্মান করার বিষয়টিও জোর দিয়ে বলেছেন রাজা। নিজের জেতার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তিনিও। তাঁর কথায়, “আমরাও অনেক অনুষ্ঠানে খেলেছি, জিতেছি। ‘স্মার্ট জোড়ি’তে আমি আর মধুবনী বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু ভরতদা একজন সিনিয়র মানুষ। যে ছেলেটি ভরতদাকে ধাক্কা মারছে, পরে সেই ভিডিয়ো দেখলে সেও লজ্জা পেতে পারে।” রাজা স্পষ্ট করেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই জেতার ইচ্ছা থাকা স্বাভাবিক এবং তিনি কাউকে খেলা ছেড়ে দিতে বলছেন না। কিন্তু জেতার পরেও দিনের শেষে প্রত্যেককে সমাজে ফিরে মানুষের সামনে দাঁড়াতে হয় বলেই মনে করিয়ে দেন তিনি। তাই তাঁর প্রশ্ন, “আমি একজন সিনিয়র মানুষকে ধাক্কা দেব? আমি কারও মুখে স্প্রে করে দেব? কী হচ্ছে ভাই?”

আরও পড়ুনঃ “বাঙালি যেভাবে মাথায় তুলেছে, সেভাবেই নামিয়ে দিতেও সময় লাগবে না!” “নন্দিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, এভাবে চললে ট্রফি ও জনপ্রিয়তা হারাবেন!” “নন্দিনীর জন্যই বারবার সবার সঙ্গে ঝামেলা, এইভাবে নিজের খেলাটা নষ্ট করছেন কেন?” যা করেছে তারপরও ঘনি*ষ্ঠতা কেন? দূরত্ব রাখলেই ভালো, বাথরুমে চু*মুর দৃশ্যের পর রাজবীরকে সতর্ক করলেন দর্শকরা!

তবে রাজা গোস্বামীর এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সমর্থন পায়নি বলেই দেখা যাচ্ছে। বরং তাঁর ভিডিয়োর মন্তব্যের জায়গায় একাংশের মানুষ রাজবীরের পক্ষেই কথা বলেছেন। কেউ লিখেছেন, বড়রা ছোটদের সম্মান করলেই ছোটদের কাছ থেকে সম্মান আশা করা উচিত। আবার কারও বক্তব্য, বয়স এবং অভিজ্ঞতায় যিনি বড়, তাঁর নিজের আচরণ এবং কথাবার্তাতেও সেই পরিণত ভাব থাকা প্রয়োজন। আরও এক জনের দাবি, প্রথম দিন থেকেই পরিবার এবং মা বাবাকে নিয়ে মন্তব্য করে ভরত কল রাজবীরকে ছোট করছেন এবং অন্য প্রতিযোগীদের মনেও তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির ক্ষেত্রে ভরতের ভূমিকা রয়েছে। কেউ আবার লিখেছেন, রাজবীরকে তাঁরা যথেষ্ট নম্র হিসেবেই দেখেছেন এবং তিনি সহজেই রেগে যেতে পারেন জেনেও তাঁকে বারবার উত্তেজিত করে তাঁর খারাপ আচরণ সামনে আনার চেষ্টা হচ্ছে। আর একটি মন্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কারও পরিবার নিয়ে কুমন্তব্য করা হলে তিনি ছোট হোন বা বড়, তাঁর কি সবসময় চুপ করে থাকা উচিত?

You cannot copy content of this page