“সৃজলা কি সত্যি জাস্টিস পেল?” “এতো বড় অপরাধ করার পরও কোনও শাস্তিই হলো না নন্দিনীর, টিআরপির জন্য কি সব মাফ?” “লাস্ট ওয়ার্নিং নয়, ঘর থেকে বের করুন!” সৃজলার ডিম্বাশয় ও হাঁটুর বন্ধনী ক্ষ’তিগ্রস্ত, দর্শকরা বলছেন ‘ন্যায় বিচার চাই!’ ৬০-৭০ শতাংশ দর্শক তুলছেন নন্দিনীর এভিকশনের দাবি! ফের কাঠগড়ায় বিগ বস বাংলা?

বিগ বস বাংলায় সৃজলা গুহর চোটের ঘটনা ঘিরে ফের সরগরম বিগ বস বাংলার অন্দরমহল। ক্যাপ্টেন্সির কাজ চলাকালীন নন্দিনী দত্তর ধাক্কায় ঘোড়া থেকে পড়ে গুরুতর চোট পান সৃজলা। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। সম্প্রতি ঘরে ফিরে ‘দাদার দরবারে’ সৌরভ গাঙ্গুলির সামনে সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সৃজলা। তিনি জানান, হাসপাতালে থাকার সময় সারা শরীরে অসংখ্যবার সূঁচ ফোটানো হয়েছে এবং নিয়মিত ক্ষতস্থানের পরিচর্যা করতে হয়েছে। অচেনা শহরে একা পাঁচ দিন কাটানোর কষ্টের কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এই ঘটনার পর নন্দিনী কেঁদে ফেললেও, তাঁকে শুধু শেষবারের মতো সতর্ক করা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন দর্শকদের একাংশ।

দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, এত বড় একটি ঘটনার পর নন্দিনীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ আশা করেছিলেন তাঁরা। তাঁদের প্রশ্ন, সৌরভ গাঙ্গুলির বকুনি, কড়া কথা এবং শেষ সতর্কতাই কি এই ঘটনার শাস্তি হিসেবে যথেষ্ট? সৃজলা নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে এবং হাঁটাচলাতেও সমস্যা হচ্ছে বলে দর্শকদের নজরে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে নন্দিনীর বহিষ্কারের দাবি আরও জোরালো হয়েছে বলে নেটমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশের দাবি, নন্দিনীকে বাদ দেওয়ার কথা অনেক দর্শকই ইতিমধ্যে বলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, নন্দিনীর সমর্থকরাও এই দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারবেন না যে, বিপুল সংখ্যক দর্শক তাঁর বহিষ্কারের পক্ষে সরব হয়েছেন।

ফলে শুধু শেষ সতর্কতা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে দর্শকদের মধ্যে। এই প্রসঙ্গে দর্শকদের একাংশের প্রতিক্রিয়ায় উঠে এসেছে, “সৃজলা কি আজ শুধু বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়ে গেল? এত বড় ঘটনার পরও নন্দিনীর কি কোনও শাস্তি হলো না?” তাঁদের কথায়, “সৌরভ গাঙ্গুলি বকেছেন, ঝেড়েছেন, কড়া কথা বলেছেন এবং শেষ সতর্কতাও দিয়েছেন। কিন্তু শুধু এটুকুই কি শাস্তি? এটাকে কি সত্যিই ন্যায় বিচার বলা যায়?” আরও প্রশ্ন উঠেছে, সৃজলার চোটের গুরুত্ব সামনে আসার পরও কেন নন্দিনীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না।

তাঁদের দাবি, সৃজলার অবস্থার কথা শুনে নন্দিনী নিজেও কেঁদেছেন এবং নিজের ভুল বুঝেছেন। নন্দিনী রাজবীরের কাছে জানিয়েছিলেন, তাঁর জন্য কারও এতটা ক্ষতি হবে তিনি ভাবেননি এবং ঘটনাটি তাঁর কাছে সারা জীবনের অভিশাপ হয়ে থাকবে। তবে দর্শকদের একাংশের মতে, অনুশোচনা প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। এই জায়গাতেই নন্দিনীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। আবার দর্শকদের আলোচনায় উঠে এসেছে নিরঞ্জনের প্রসঙ্গও। একাংশের দাবি, পুরো ঘটনার দায় শুধুমাত্র নিরঞ্জনের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য, নিরঞ্জন ঘটনাস্থলে থাকলেও মূল পরিকল্পনার সঙ্গে নন্দিনীর ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তাই তাঁদের মতে, শুধু নিরঞ্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটিকে সম্পূর্ণ বিচার বলা যেত না। বরং নন্দিনী এবং নিরঞ্জন দুজনের বিরুদ্ধেই একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে দর্শকদের কাছে বিষয়টি আরও গ্রহণযোগ্য হতো বলে তাঁদের মত। বিশেষ করে নন্দিনীর বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তার পরও তিনি ঘরে থাকায় নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চোটের ধরন নিয়েও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে সৃজলার বলা হাঁটুর গুরুতর চোটের প্রসঙ্গে। যদি সত্যিই হাঁটুর সামনের ক্রুশীয় বন্ধনীতে ছিঁড়ে যাওয়া বা গুরুতর চোট থাকে, তাহলে ব্যথা, দ্রুত ফোলা, হাঁটুর নড়াচড়া কমে যাওয়া এবং পায়ে ভর দিতে সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ “সকাল শুরু হয় ঝগড়া দিয়ে আর দিন শেষও হয় ঝগড়ায়, চলতেই থাকে টানাপোড়েন!” তবুও এত বছর একই ছাদের নীচে, ভালোবাসা ও দায়িত্ব নিয়ে একে অপরের হাত ধরে পথচলা, কী রহস্যে আজও অটুট ফাল্গুনী-রুমকির দাম্পত্য? চটজলদি প্রেম নয়, সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল কীভাবে? হাজারো ঝড় পেরিয়ে টিকে যাওয়ার গল্প শুনিয়ে নতুন করে ‘সুখী দাম্পত্য’র সংজ্ঞা শেখালেন আবীর চট্টোপাধ্যায়ের মা-বাবা!

অনেক ক্ষেত্রে হাঁটু অস্থির লাগতে পারে বা হাঁটার সময় হঠাৎ ভেঙে যাওয়ার মতো অনুভূতিও হতে পারে। এই ধরনের চোটের সঙ্গে হাঁটুর তরুণাস্থি, মেনিস্কাস বা অন্য বন্ধনীতেও ক্ষতি থাকতে পারে, তাই সঠিক পরীক্ষা জরুরি। চোটের মাত্রা বুঝতে চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চৌম্বকীয় অনুরণন পরীক্ষা করা হতে পারে। চিকিৎসা চোটের ধরন অনুযায়ী বিশ্রাম, পুনর্বাসন, পেশি শক্ত করার ব্যায়াম থেকে শুরু করে প্রয়োজন হলে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে হাঁটুর অস্থিরতা এবং ক্ষয়জনিত সমস্যার ঝুঁকিও থাকতে পারে বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য জানাচ্ছে।

You cannot copy content of this page