বাংলা বিনোদন জগতের ইতিহাসে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাম এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দায় তাঁর উপস্থিতি সবকিছু মিলিয়ে তিনি এমন এক উচ্চতা তৈরি করেছিলেন, যা ১০০ বছর পরেও বাঙালির কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পালিত হয়েছে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও আজও তাঁর অভিনয় ও কাজের ধারা থেকে অনুপ্রেরণা নেন। তবে মহানায়কের প্রতি মুগ্ধতার পাশাপাশি তাঁর মতো হতে না পারার আক্ষেপ বা ঈর্ষাও কি কখনও জন্মায়?
বাংলা ছবির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে উত্তম কুমার শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি অভিনেতা নন, তিনি তাঁর অত্যন্ত কাছের ‘উত্তম জেঠু’। ছোটবেলা থেকেই মহানায়ককে কাছ থেকে দেখেছেন প্রসেনজিৎ। তাই তাঁর অভিনয় কিংবা পর্দার জনপ্রিয়তার বাইরেও উত্তম কুমারের ব্যক্তিত্ব এবং কর্মজীবনের নানা দিক সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মহানায়কের এমন একটি গুণের কথা প্রকাশ্যে আনলেন প্রসেনজিৎ, যেটিকে তিনি নিজের কাছে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষা করার মতো বলে মনে করেন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ বলেন, উত্তম কুমারের মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত প্রতিটি জিনিসই ঈর্ষা করার মতো। তাঁর কথা বলার ধরন থেকে শুরু করে অভিনয়ের প্রতিটি মুহূর্তেই এমন কিছু ছিল, যা অন্যদের মুগ্ধ করার পাশাপাশি ঈর্ষাও জাগাতে পারে। তবে এত কিছুর মধ্যে মহানায়কের ধৈর্যকেই সবচেয়ে বেশি ঈর্ষা করেন বলে জানান প্রসেনজিৎ। তাঁর কথায়, উত্তম কুমারের এই গুণই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
কেন উত্তম কুমারের ধৈর্যকে এতটা বিশেষ বলে মনে করেন প্রসেনজিৎ? অভিনেতার ব্যাখ্যা, ব্যক্তিগত জীবনে যত সমস্যাই থাকুক না কেন, তার কোনও ছাপ তিনি কখনও কাজের মধ্যে পড়তে দিতেন না। শুটিংয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেই যেন সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষ হয়ে উঠতেন মহানায়ক। প্রসেনজিৎ আরও বলেন, ক্যামেরার একটি লেন্সও বলতে পারবে না যে উত্তম কুমার কোনও ফ্রেমে নিজের সেরাটা দেননি। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পরিস্থিতি কখনও তাঁর পেশাদারিত্বকে প্রভাবিত করেনি।
আরও পড়ুনঃ “এমন এক য*ন্ত্রণা আমাকে ছুঁয়ে যায়…তুমি নিখুঁত ছিলে না আর কোনও ল্যাবে তৈরিও নও, নিজের ভুলগুলোর জন্য বয়ে বেড়িয়েছিলে…” আজ বেঁচে থাকলে পা দিতেন ৬৮ বছরে, প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তায় চোখ ভেজালেন অর্ধাঙ্গিনী নন্দিনী পাল! দাম্পত্যের চার দশক পেরিয়ে কোন কোন উপলব্ধি হলো তাঁর?
প্রসেনজিতের মতে, ক্যামেরার সামনে উত্তম কুমার বারবার নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে দিতেন। তাঁর মনের মধ্যে কী চলছিল, কিংবা কোনও সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন কি না তা বাইরে থেকে কেউ বুঝতে পারতেন না। এই অসাধারণ আত্মসংযম এবং পেশাদারিত্বই মহানায়কের প্রতি তাঁর সবচেয়ে বড় ঈর্ষার কারণ।






