“দিঘার মন্দিরে ঢুকতেই দেয়নি, দিদির সামনে যেতে না দেওয়াই ছিল ওদের মূল উদ্দেশ্য” আমন্ত্রণ পেয়েও কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি ইমন চক্রবর্তী? ৩-৪ কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছেও মেলেনি সুযোগ, দূরে এক কোণায় বসতে হয়েছিল গায়িকাকে! কেন এমন ব্যবহার করা হয়েছিল তাঁর সঙ্গে? সরকার বদলাতেই, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনীতে ঠিক কী ঘটেছিল, ফাঁস করলেন নিজেই?

তারকা হলেই যে সবসময় পথটা মসৃণ হয়, তা নয়। পরিচিত মুখ হয়েও কখনও কখনও নানা প্রোটোকল, নিয়ম কিংবা পরিস্থিতির কারণে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তারকাদেরও। বিশেষ করে কোনও বড় সরকারি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ থাকলেও সেখানে পৌঁছে প্রত্যাশিত সুবিধা না পাওয়ার ঘটনা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের কথাতেও উঠে এসেছে এমনই এক অভিজ্ঞতা, যেখানে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েও মঞ্চে পৌঁছতে তাঁকে বেশ কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়েছিল।

বাংলা গানের জগতে পরিচিত নাম ইমন চক্রবর্তী। গান গাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মঞ্চে তাঁর উপস্থিতিও দর্শকদের কাছে পরিচিত। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের দিনের ঘটনাও তুলে ধরেন গায়িকা। তাঁর কথায়, ওই অনুষ্ঠানে তাঁকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে পৌঁছে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট গাড়ি বা প্রয়োজনীয় গাড়ির নম্বরের ব্যবস্থা ছিল না বলে জানান তিনি। ইমনের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে যাওয়াটাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল না।

তাঁর আসল লক্ষ্য ছিল মঞ্চে থাকা মাইক্রোফোনের সামনে গিয়ে গান গাওয়া। তিনি নাকি নিশ্চিত ছিলেন যে কোনওভাবে সেই মাইক্রোফোনের সামনে তিনি যাবেনই। সেই লক্ষ্যেই তৎকালীন ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার পায়ে হাঁটেন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছেও আরেক সমস্যার মুখে পড়েন। মন্দিরের ভিতরে ঢোকার জন্য প্রয়োজনীয় পাস তাঁর কাছে ছিল না। ইমন জানান, অনেকে তাঁকে চিনলেও মন্দিরের নির্দিষ্ট প্রোটোকলের কারণে পাস ছাড়া তাঁকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। এরপর অডিয়েন্সদের জন্য নির্ধারিত গেট দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন ইমন।

তাঁর কথায়, কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিক সম্ভবত তাঁকে চিনতে পেরে এবং হয়তো তিনি ভুল করে ওই গেট দিয়ে ঢুকছেন ভেবে তাঁর কাছে পাস চাননি। ফলে কোনওভাবে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে সক্ষম হন গায়িকা। কিন্তু সমস্যার সেখানেই শেষ হয়নি। মঞ্চ থেকে অনেকটা দূরে তাঁকে বসতে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। সেখান থেকেই অনুষ্ঠান দেখছিলেন ইমন। তখনই তাঁর দিকে নজর পড়ে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। এরপর অরূপ বিশ্বাস বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনেন বলে জানান গায়িকা।

আরও পড়ুনঃ শুরুতেই বাঁধলেন লঙ্কাকান্ড! রাজবীর ও নন্দিনীর সর্ম্পকে সুচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোনোর চেষ্টা? বিগ বস বাংলায় নতুন মুখ, কিন্তু একেবারেই অচেনা নন অনুষ্কা ঘোষ! মিস ওড়িশা’র মুকুট থেকে ‘স্প্লিটসভিলা’, এর আগের রিয়েলিটি শোতে কী কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন এই সুন্দরী? জানলে চমকে যাবেন!

এরপর পরিস্থিতি বদলায়। ইমনকে সামনে নিয়ে আসা হয় এবং কিছুক্ষণ পর আচমকাই সঞ্চালক তাঁর নাম ঘোষণা করেন। অবশেষে সেই মঞ্চেই গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘হরে কৃষ্ণ’ গান পরিবেশন করেন। অর্থাৎ আমন্ত্রণ পাওয়া থেকে মঞ্চের মাইক্রোফোনের সামনে পৌঁছনো পর্যন্ত তাঁর পথটা মোটেই সহজ ছিল না। সাক্ষাৎকারে ইমনের বর্ণনায় উঠে এসেছে, পরিচিত ও খ্যাতনামা শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও একটি বড় অনুষ্ঠানে মঞ্চে পৌঁছতে তাঁকে কীভাবে একাধিক ধাপ পেরোতে হয়েছিল।

You cannot copy content of this page