মহালয়া মানেই শুধু দূরদর্শনের সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায় নন! আশির দশক থেকে একের পর এক যে সকল অভিনেত্রী বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন, মনে আছে কি সেই নস্ট্যালজিয়ার অংশ মুখগুলি?

মহালয়ার ভোর মানেই একসময় বাঙালির ঘরে ঘরে বেজে উঠত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। রেডিয়োর সেই চেনা আবহের সঙ্গে ধীরে ধীরে যুক্ত হয় টেলিভিশনের মহালয়া অনুষ্ঠান। আশির দশকের মাঝামাঝি কলকাতা দূরদর্শনে মহালয়ার দিন বিশেষ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। তারপর একের পর এক অভিনেত্রী এবং নৃত্যশিল্পী দেবী দুর্গার ভূমিকায় পর্দায় এসেছেন। কখনও ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী, কখনও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রীকে দেখা গিয়েছে এই চরিত্রে। পরবর্তীতে বেসরকারি বাংলা চ্যানেলগুলিও নিজেদের মহালয়া অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় নায়িকাদের দুর্গারূপে তুলে ধরে। ফলে সময়ের সঙ্গে মহালয়ার এই অনুষ্ঠান বাঙালির পুজোর নস্ট্যালজিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

এই তালিকার একেবারে শুরুর দিকে রয়েছেন মালবিকা মিত্র। ১৯৮৫ সালে দূরদর্শন মহালয়ার ভোরে বিশেষ অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সেই অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘ইয়া দেবী সর্বভূতেষু’। সেখানে দেবী দুর্গার ভূমিকায় দেখা যেত মালবিকা মিত্রকে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের নাম বদলে ‘দনুজদলনী দুর্গা’, ‘অসুরদলনী দেবী দুর্গা’ এবং ‘দেবী দুর্গা’ রাখা হয়। এরপর দূরদর্শনের দুর্গারূপে একাধিক বার দেখা যায় ইন্দ্রাণী হালদারকেও। তাঁর দুর্গার সাজ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় হয়েছিল এবং ২০১৬ সালেও তাঁর দুর্গারূপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

মহালয়ার দুর্গা বললেই আরও একটি নাম বহু দর্শকের মনে আসে, তিনি সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৪ সালে কলকাতা দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানে প্রথম বার দেবী দুর্গার ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। তখন তিনি শ্রীশিক্ষায়তন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ফের দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানে দুর্গারূপে দেখা যায় তাঁকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাত থেকে আট বার তিনি দুর্গা সেজেছিলেন। তাঁর অভিনীত মহালয়ার অনুষ্ঠান পরবর্তী সময়েও একাধিক বার পুনঃসম্প্রচার করা হয়েছিল। এরই মাঝে ১৯৯৫ সালে এক বছরের জন্য দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানে দুর্গার ভূমিকায় দেখা যায় বলিউডের ‘ড্রিমগার্ল’ হেমা মালিনীকে।

পরবর্তী সময়ে এই তালিকায় যুক্ত হন আরও বহু পরিচিত মুখ। ২০০৫ সালে কলকাতা দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানে দুর্গা সেজেছিলেন অপরাজিতা আঢ্য। তাঁর চেহারা ও সৌন্দর্যের মধ্যে দুর্গার ছাপ রয়েছে বলেও মনে করতেন দর্শকদের একাংশ। ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী সৌমিলী বিশ্বাসও একাধিক বার মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ২০০৭ সালে ইটিভি বাংলার মহালয়া অনুষ্ঠানে এবং ২০০৮ সালে কলকাতা দূরদর্শনের অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায়। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে দুটি বেসরকারি চ্যানেলের মহালয়া অনুষ্ঠানে দুর্গা হয়েছিলেন দেবশ্রী রায়। তাঁর নৃত্যদক্ষতা এবং অভিব্যক্তি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল।

এরপর মহালয়ার দুর্গারূপে দেখা গিয়েছে প্রিয়াঙ্কা ঘোষ, মালবিকা সেন এবং মহুল মুখোপাধ্যায়কেও। ২০০৯ সালে দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানে দুর্গার ভূমিকায় দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা ঘোষকে। ২০১২ সালেও ফের দুর্গারূপে পর্দায় আসেন তিনি। ২০১৪ সালে দূরদর্শনের মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে মা দুর্গার বিভিন্ন রূপে অভিনয় করেন নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেন। দুর্গার পাশাপাশি পার্বতী এবং অন্নপূর্ণার রূপেও তাঁকে মঞ্চে দেখা গিয়েছে। ২০২৩ সালে দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানে দুর্গা সেজেছিলেন নৃত্যশিল্পী মহুল মুখোপাধ্যায়। বেসরকারি চ্যানেলের ‘দেবী দশমহাবিদ্যা’ অনুষ্ঠানে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে সতী, পার্বতী এবং দুর্গা, এই তিন রূপেই দেখা গিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ জব্বর খবর! মাত্র তিন সপ্তাহেই বিগ বস বাংলার ঘর থেকে বিদায়, এবার কি ওয়াইল্ড কার্ডে ফিরছেন সায়ক চক্রবর্তী? হঠাৎ কীসের ইঙ্গিত দিলেন অভিনেতা তথা নেটপ্রভাবী? ফের ঘরে ঢুকলে বদলে যেতে পারে রাজবীর-সৃজলাদের সঙ্গে পুরনো সমীকরণ?

পরবর্তী প্রজন্মের একাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রীও মহালয়ার অনুষ্ঠানে দেবীর ভূমিকায় দর্শকদের সামনে এসেছেন। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় একাধিক বার দেবীর সাজে অভিনয় করেছেন এবং তাঁর দুর্গারূপ সাড়া ফেলেছিল। কোয়েল মল্লিকও বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলের মহালয়া অনুষ্ঠানে বহু বার দুর্গা সেজেছেন। ২০২৪ সালে ‘নবরূপে দেবী দুর্গা’ অনুষ্ঠানে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে মহামায়া ও মহিষাসুরমর্দিনীর দুই রূপেই দেখা যায়। ২০২৩ সালে নুসরত জাহান মহালয়ার দুর্গা হয়েছিলেন এবং শাঁখা, পলা ও সিঁদুরের সাজ নিয়ে সমাজ মাধ্যমে কটাক্ষের মুখেও পড়েছিলেন। তাঁর মহিষাসুরমর্দিনী রূপের নৃত্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে দুর্গা, পার্বতী এবং তাঁর বিভিন্ন অবতারে দেখা গিয়েছে, আর মিমি চক্রবর্তী মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে মহামায়া ও মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

You cannot copy content of this page