“সরকার পরিবর্তনের পর দুর্গাপুজোর চিত্রটা দেখার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু হল না!” “কলকাতার পুজো বরাবরই প্রিয়”, বলেও কেন শহর ছাড়তে বাধ্য হলেন লোপামুদ্রা মিত্র? আক্ষেপের সুরে পুজোর পরিকল্পনা নিয়ে কী জানালেন গায়িকা?

এই বছর দুর্গাপুজোয় কলকাতায় থাকছেন না সঙ্গীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র। পুজোর আগেই তাঁকে শহর ছাড়তে হচ্ছে। পুজোর চার দিন কলকাতার পরিচিত পরিবেশে থাকা হচ্ছে না তাঁর। লোপামুদ্রার কণ্ঠে কবি জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়’ গানটি শ্রোতাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। অথচ জরুরি প্রয়োজনে পুজোর সময়েই বাংলা ছাড়তে হচ্ছে তাঁকে। পুজোর দিনগুলিতেও যে তাঁর ব্যস্ততা কমে না, সেই ছবিই এবারও স্পষ্ট। তবে শহরের বাইরে থাকলেও কলকাতার পুজোর প্রতি টান যে আগের মতোই রয়েছে, তা জানাতে ভোলেননি গায়িকা।

পুজোর সময়ে কলকাতাকে কতটা মনে পড়ে, জানতে চাওয়া হলে লোপামুদ্রা জানান, প্রতি বছরই এই সময় নিজের শহরকে খুব মনে পড়ে তাঁর। তবে কলকাতার পুজোর অতিরিক্ত ভিড় তাঁর খুব একটা পছন্দ নয়। সেই কারণে পুজোর সময়ে সবসময় সেভাবে বাড়ির বাইরে বেরোনোও হয়ে ওঠে না। কিন্তু এইবার কলকাতায় থাকার ইচ্ছেটা একটু বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের পর শহরের দুর্গাপুজোর চেহারা কেমন হয়েছে, তা নিজের চোখে দেখার আগ্রহ ছিল তাঁর। সেই সুযোগ এবার আর হচ্ছে না। কাজের ব্যস্ততার কারণেই পুজোর আগেই শহরের বাইরে চলে যেতে হচ্ছে তাঁকে। ফলে নিজের শহরের পুজোর আবহ থেকে দূরে থেকেই এবারের উৎসব কাটাতে হবে লোপামুদ্রাকে।

কলকাতার পুজোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও জানিয়েছেন লোপামুদ্রা। তাঁর কাছে কলকাতার দুর্গাপুজো বরাবরই খুব প্রিয়। এর আগে পুজোর সময়ে দুই এক বার বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। সেই সূত্রে রাত জেগে ঠাকুর দেখা, এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, উৎসবের সেই ব্যস্ত পরিবেশ উপভোগ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। পুজোর রাতে শহরের পথে ঘুরে বেড়ানোর মধ্যেই আলাদা আনন্দ খুঁজে পান গায়িকা। তাই এইবার কলকাতায় না থাকতে পারার আক্ষেপ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে শুধু ঠাকুর দেখা নয়, কলকাতার পুজোর শিল্পভাবনাও তাঁকে বিশেষভাবে টানে।

বর্তমান সময়ের পুজোমণ্ডপগুলিতে শিল্পের নানা ধরনের ব্যবহার লোপামুদ্রার চোখে আলাদা করে ধরা পড়ে। তাঁর মতে, পুজোর মণ্ডপে শিল্পের যে ছোঁয়া থাকে, তা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। একইসঙ্গে আধুনিক ভাবনার পাশাপাশি কলকাতার পুরনো বাড়ির সাবেকিয়ানাও তাঁকে টানে। একদিকে নতুন ধরনের শিল্পভাবনা, অন্যদিকে বহু পুরনো বাড়ির ঐতিহ্যবাহী পুজো, দুইয়ের মধ্যেই আলাদা আকর্ষণ খুঁজে পান তিনি। তাই কলকাতার দুর্গাপুজোর স্বাদ তাঁর কাছে শুধু মণ্ডপ ঘোরা বা প্রতিমা দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শহরের পুরনো ঐতিহ্য এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পভাবনা, দুটিই তাঁর পুজোর অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ বার কলকাতায় না থাকলেও শ্রোতাদের একেবারে খালি হাতে রাখছেন না লোপামুদ্রা। পুজোর আবহেই তাঁর নতুন গান মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ শহর থেকে দূরে থেকেও গানের মাধ্যমেই অনুরাগীদের সঙ্গে পুজোর আনন্দ ভাগ করে নেবেন তিনি। পুজোর সময়ে নতুন গান প্রকাশ তাঁর শ্রোতাদের জন্যও বিশেষ উপহার হতে চলেছে। এই বছর মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুতে তাঁর অনুষ্ঠান রয়েছে। একদিকে অনুষ্ঠানের ব্যস্ততা, অন্যদিকে নতুন গানের প্রস্তুতি, সব মিলিয়ে তাঁর পুজো এবার বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। তবে কলকাতার পুজো নিজের চোখে দেখার ইচ্ছেটা যে অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট তাঁর কথায়।

আরও পড়ুনঃ “তোর জন্য কারও সামনে হাত পাতব না, কেউ তোকে লঞ্চ করুক বা কাজ দিক, আমি চাই না!” “খারাপ ভালো বা ভুল ঠিক, তোকেই করতে হবে!” বাবা মৃণাল মুখোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশেই কি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জেদ তৈরি হয়েছিল? ছেলেকে জীবনের কঠিন বাস্তব চিনিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা? আজ নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, করলেন আবেগঘন স্মৃতিচারণ!

সব মিলিয়ে লোপামুদ্রা মিত্রের এবারের পুজো কলকাতার বাইরে হলেও তাঁর মন পড়ে থাকবে নিজের শহরেই। কাজের কারণে মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠান করতে হবে তাঁকে। তাই প্রতিবছরের মতো কলকাতার পুজোর রাত জেগে ঠাকুর দেখা বা শহরের পথে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ মিলবে না। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের পর কলকাতার দুর্গাপুজোর চিত্রটা এবার নিজের চোখে দেখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। তবুও নতুন পুজোর গান নিয়ে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছবেন তিনি। ফলে শহরের বাইরে থেকেও গান এবং স্মৃতির মাধ্যমে কলকাতার পুজোর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বজায় থাকবে।

You cannot copy content of this page