“ওই জিতুক আমি চাই”, মায়ের প্রতিদ্বন্দ্বীই মেয়ের পছন্দের প্রতিযোগী! মায়ের সঙ্গে যার নিত্যদিনের ঝগড়া, সেই রাজবীরকেই কেন পছন্দ তনুশ্রীর মেয়ের? মা না জিতলে বিগ বস বাংলার ট্রফি তাঁর হাতেই দেখতে চান, ফাঁস করলেন কোন কারণ?

জলপাইগুড়ির শাড়ি ব্যবসায়ী তনুশ্রী রায় দাস ‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে ঢোকার পর থেকেই আলোচনায় রয়েছেন। পরিচিত তারকাদের ভিড়ে কোনও বড় সেলিব্রিটি পরিচয় ছাড়াই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় শাড়ি ও পোশাকের ব্যবসা থেকেই তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। পরে নিজের বুটিকের ব্যবসা সামলে এবার রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চে এসেছেন তনুশ্রী। শোয়ের শুরু থেকেই তাঁর স্পষ্ট কথা এবং নিজের মতো করে খেলার ধরন নজর কেড়েছে। তবে ঘরের মধ্যে রাজবীর দে-র সঙ্গে তাঁর ঝামেলা বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে। মতবিরোধ, কথার লড়াই থেকে শুরু করে বিভিন্ন টাস্কে দুজনের সংঘাত দেখেছেন দর্শকরা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, মায়ের সঙ্গে যার এত দ্বন্দ্ব, সেই রাজবীরকে নিয়ে বাইরে পরিবারের মত কী?

সেই প্রশ্নের উত্তর এবার দিয়েছেন তনুশ্রীর মেয়ে একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে। মায়ের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর গর্বের কোনও শেষ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে মায়ের খেলার পাশাপাশি রাজবীরের প্রতিও তাঁর আলাদা পছন্দ রয়েছে। বরং মেয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজবীরকে তাঁর খুবই ভালো লাগে। তাই তনুশ্রী শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে না পারলে রাজবীরই যেন বিজয়ী হন, এমনটাই তাঁর ইচ্ছা। মায়ের সঙ্গে রাজবীরের একের পর এক ঝামেলা দেখেও মেয়ের এই পছন্দ বেশ নজর কাড়ার মতো। কারণ পর্দায় দুজনের সম্পর্ক যতটা তিক্ত বলে মনে হয়, ঘরের বাইরে তনুশ্রীর মেয়ের চোখে রাজবীরের ছবিটা একেবারেই আলাদা। ফলে এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর মা ও রাজবীরের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তনুশ্রীর বোন জয়শ্রীও রাজবীর ও দিদির সম্পর্ককে একটু অন্যভাবেই দেখছেন। তাঁর মতে, বিগ বসের ঘরে দুজনের ঝগড়া এবং খুনসুটি দেখলে সেটিকে সবসময় শুধুই শত্রুতা বলে মনে হয় না। বরং তাঁদের আচরণের মধ্যে অনেকটা ভাই-বোনের মতো সম্পর্কের ছাপ রয়েছে বলেই মনে করেন জয়শ্রী। অর্থাৎ বাইরে থেকে যতই দুজনের মধ্যে তর্ক বা বিরোধ দেখা যাক, পরিবারের চোখে সমীকরণটা অন্যরকম। তনুশ্রীর পরিবার শুরু থেকেই তাঁর বিগ বস যাত্রার দিকে নজর রাখছে। বিশেষ করে প্রথমদিকে ভরত কলের সঙ্গে তনুশ্রীর বড়সড় ঝামেলা তৈরি হলে পরিবারের সদস্যরাও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। কারণ অন্যদিকে ছিলেন বহু পরিচিত তারকা, আর তনুশ্রী এসেছেন নিজের ব্যবসা ও সাধারণ জীবন থেকে তৈরি হওয়া পরিচয় নিয়ে। পরবর্তী সময়ে অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় এবং দর্শকদের ভালোবাসা পেতে থাকায় সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।

তনুশ্রীর জীবনের লড়াইটাও এই যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার পর সংসার এবং সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। জলপাইগুড়িতে ‘দ্য মোমেন্ট অফ মেমোরি’ নামে তাঁর শাড়ির ব্যবসা রয়েছে। অনলাইনেও শাড়ি, ব্লাউজ এবং অন্যান্য পোশাক বিক্রির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। বিগ বসের ঘরে প্রবেশের পর তাঁর অনুপস্থিতিতে বোন জয়শ্রীই বুটিকের দৈনন্দিন কাজ সামলাচ্ছেন। দোকানের দায়িত্বের পাশাপাশি এখন পরিবারের নজরও আটকে রয়েছে বিগ বসের ঘরের প্রতিটি ঘটনায়। রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্কের ওঠাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন টাস্ক এবং প্রতিযোগীদের কৌশল, সবকিছুই তাঁরা দেখছেন। তার মধ্যেই মায়ের সঙ্গে যাঁর নিয়মিত সংঘাত, সেই রাজবীরকে মেয়ের পছন্দের প্রতিযোগী হিসেবে বেছে নেওয়া নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

রাজবীরের সঙ্গে তনুশ্রীর এই টানাপোড়েন অবশ্য বিগ বসের শুরু থেকেই দর্শকদের নজরে। কখনও টাস্কের সিদ্ধান্ত নিয়ে, কখনও কোনও মন্তব্য ঘিরে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একাধিক ঘটনায় তনুশ্রী রাজবীরের আচরণ নিয়ে সরব হয়েছেন, আবার রাজবীরও তাঁকে নিয়ে নিজের মত জানিয়েছেন। এমনকী তনুশ্রীকে ঘিরে একটি টাস্কের ঘটনায় রাজবীরের ভূমিকা নিয়ে অন্য প্রতিযোগীরাও প্রশ্ন তুলেছিলেন। ফলে তাঁদের সম্পর্ককে ঘিরে ঘরের বাইরেও আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তনুশ্রীর পরিবারের বক্তব্যে সেই সম্পর্কের আরেকটি দিক সামনে এসেছে। মেয়ের চোখে রাজবীর এমন একজন প্রতিযোগী, যাঁকে তিনি মায়ের পরেও ট্রফির দাবিদার হিসেবে দেখতে চান। আর জয়শ্রীর মতে, তাঁদের ঝগড়ার মধ্যেও অনেক সময় ভাই-বোনের মতো খুনসুটির ছাপ দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ “সরকার পরিবর্তনের পর দুর্গাপুজোর চিত্রটা দেখার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু হল না!” “কলকাতার পুজো বরাবরই প্রিয়”, বলেও কেন শহর ছাড়তে বাধ্য হলেন লোপামুদ্রা মিত্র? আক্ষেপের সুরে পুজোর পরিকল্পনা নিয়ে কী জানালেন গায়িকা?

সব মিলিয়ে তনুশ্রীর মেয়ের এই পছন্দ ‘বিগ বস বাংলা’র বর্তমান সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে তিনি নিজের মাকে নিয়ে গর্বিত এবং মায়ের সাফল্যই চান। অন্যদিকে মায়ের সঙ্গে যাঁর এত মতবিরোধ, সেই রাজবীরকেও তিনি নিজের পছন্দের প্রতিযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এমনকী তনুশ্রী না জিতলে রাজবীরের হাতে ট্রফি দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে জয়শ্রীও রাজবীর ও তনুশ্রীর ঝগড়াকে শুধুই বিরোধ হিসেবে দেখছেন না। পরিবারের এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বোঝা যাচ্ছে, পর্দায় দেখা উত্তপ্ত মুহূর্তের বাইরেও তাঁদের সম্পর্ককে অন্যভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিগ বসের ঘরে তনুশ্রী ও রাজবীরের সমীকরণ কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার। আর দর্শকদের মতোই তনুশ্রীর পরিবারও আপাতত চোখ রাখছে তাঁদের দুজনের পরবর্তী লড়াই এবং গেমপ্লের দিকে।

You cannot copy content of this page