“সেদিন কম বার চায়নি রে, ওর মতো কেউ চায়নি চার্জ এতবার, আজ আমার অনুশোচনা হয়…” নিজের মুখেই সত্যি স্বীকার দুর্নিবারের! ‘ওঁর মানসিকতাই খারাপ সবাইকে সন্দেহ করে’ এতদিন জিতুকেই ভুল বুঝেছেন দর্শক, হাসাহাসিও হয়নি কম! ভিডিও ফাঁস হতেই কি তবে মিলে গেল জিতুর দেওয়া ‘মাইন্ড গেম মাস্টার’ তকমা? সৃজলাকে প্রেমের স্বীকারোক্তিও তাঁর কোনও কৌশল?

বিগ বস বাংলার ঘরে বন্ধুত্ব, ভুল বোঝাবুঝি আর কৌশলের লড়াই যেন থামতেই চাইছে না। কখনও প্রতিযোগীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে, আবার কখনও একটি সিদ্ধান্তের জেরে বদলে যাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ। সম্প্রতি জিতু কমল এবং দুর্নিবার সাহাকে ঘিরে এমনই একটি পুরনো ঘটনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। রোবটের টাস্কে জিতুকে চার্জ দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেই সময় দুর্নিবার নাকি অন্যদের জিতুকে চার্জ দিতে বারণ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। টাস্কে জিতুর চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি প্রথমেই খেলা থেকে বাদ পড়েন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিতু ও দুর্নিবারের মধ্যে ঠান্ডা লড়াইয়ের জল্পনা শুরু হয়। এবার সেই পুরনো সিদ্ধান্ত নিয়েই অনুশোচনার কথা বলতে শোনা গেল দুর্নিবারকে।

রোবটের টাস্কে প্রতিযোগীদের মানুষ ও রোবট, এই দুই দলে ভাগ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, রোবটদের খেলায় টিকে থাকতে হলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর চার্জ দিতে হতো। সেই দায়িত্ব ছিল মানুষ দলের সদস্যদের উপর। প্রত্যেকেই নিজের পছন্দের প্রতিযোগীকে চার্জ দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন। সেই পর্বে সোনামণি সাহা জিতুকে চার্জ দিয়েছিলেন, অন্যদিকে নন্দিনী দত্ত রাজবীর দে এবং মনামী ঘোষকে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু খেলার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে এবং একের পর এক প্রতিযোগীর চার্জ শেষ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত জিতু প্রথমেই খেলা থেকে ছিটকে যান। এই ঘটনাকে ঘিরে দুর্নিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে জিতুর সঙ্গে তাঁর আগের সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে দর্শকদের একাংশের মনে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন।

এরপর গতকাল জিও হটস্টারের ২৪/৭ লাইভ সম্প্রচারে রাতের দিকে নিরঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের পুরনো সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেন দুর্নিবার। তিনি জানান, রোবটের টাস্কের আগে জিতুর সঙ্গে তাঁর আলাদা বন্ধুত্ব ছিল। সেই সময় জিতু বারবার চার্জ চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দুর্নিবারের কথায়, “রোবটের টাস্ক এর আগে জিতুর সাথে আলাদা বন্ধুত্ব ছিল। সেদিন ও কম বার চায়নি রে, অনেকবার চেয়েছে। ওর মতো কেউ চায়নি চার্জ এতবার।” অর্থাৎ জিতু যে বারবার চার্জ চেয়েছিলেন, তা তাঁর মনে ছিল। কিন্তু সেই সময় জিতুকে সাহায্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে এখন তাঁর মনে আক্ষেপ তৈরি হয়েছে।

কথোপকথনে দুর্নিবার আরও বলেন, “আজ আমার অনুশোচনা হয় আমার সিদ্ধান্তের জন্য, ওকে সেদিন একবার যদিও আমি হেল্প করতাম তাহলে ও রাজবীরের কাছে যেত না আর ওদের বন্ধুত্বটা এতটা স্ট্রং হত না।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিগ বসের ঘরে জিতু, রাজবীর এবং দুর্নিবারের সম্পর্ক নিয়ে। দুর্নিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সেদিন জিতুকে একবার সাহায্য করলেও পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের সমীকরণ অন্যরকম হতে পারত। কারণ বর্তমানে জিতু ও রাজবীরের বন্ধুত্ব নিয়ে ঘরের ভিতরে এবং বাইরে যথেষ্ট চর্চা চলছে। একে অপরের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া, সবকিছুই নজরে এসেছে দর্শকদের। তাই দুর্নিবারের এই স্বীকারোক্তিকে পুরনো ঘটনার দিকে ফিরে তাকানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আরও পড়ুনঃ “মেয়েটা একা নীরবে লড়াই করে যাচ্ছে…শুধুমাত্র প্রস্তাবে রাজি না হওয়াতে গায়ের জোরে খেলা থেকে বাদ দিল!” “একঘরে করুন কিন্তু মনে রাখবেন সবথেকে বেশিবার নমিনেশনে গিয়েও টিকে আছে, ক্যাপ্টেন হয়ে নিজেকে ইমিউনিটি দিতেও লাগে না!” দুর্নিবারকে ঘিরে প্রেমের জল্পনা থেকে জিতু বিতর্ক, সৃজলার লড়াইয়ে মুগ্ধ দর্শকরা দাঁড়ালেন পাশে! বললেন, অভিনেত্রীকে ভোট ভিক্ষা করতে হয় না!

সব মিলিয়ে, রোবটের টাস্কে জিতুর চার্জ পাওয়া এবং খেলা থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। দুর্নিবারের কথায় স্পষ্ট, সেই সময়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন তাঁর মনে অনুশোচনা রয়েছে। তবে জিতুকে সাহায্য করলে তাঁর সঙ্গে রাজবীরের বন্ধুত্ব এতটা গভীর হত না, এই ধারণা দুর্নিবারের ব্যক্তিগত উপলব্ধি হিসেবেই উঠে এসেছে। বাস্তবে সেদিন সাহায্য পেলে জিতুর খেলার ফল কী হত, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে জিতু ও রাজবীরের সম্পর্কও বিগ বসের ঘরে নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। এখন দুর্নিবারের এই মন্তব্যের পর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক কোন দিকে যায় এবং পুরনো মনোমালিন্য নতুন করে সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর দর্শকদের।

You cannot copy content of this page