“ভানু জেঠু বাড়িতে এলেই আমাদের কাউকে কথা বলতে দিতেন না” ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ছোটবেলার এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার গল্প বললেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়! কেন বাচ্চাদের মুখ বন্ধ করে রাখতেন কিংবদন্তি অভিনেতা, ফাঁস করলেন ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠপুত্র?

বাংলা বিনোদন জগতে কৌতুকাভিনয়ের কথা উঠলেই আজও যে নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তিনি কিংবদন্তি অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয়, নিখুঁত সময়জ্ঞান এবং স্বতন্ত্র রসবোধের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। তাঁর সংলাপ ও হাস্যরসের জাদু আজও বাঙালির স্মৃতিতে অমলিন। শুধু পর্দায় নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁর রসিকতা ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি যে কতটা আকর্ষণীয় ছিল, তারই এক মজার স্মৃতি সামনে আনলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে আসছেন। বাণিজ্যিক ছবি থেকে শুরু করে ভিন্নধারার সিনেমা, নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং বাংলা বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিও উঠে আসে। এবার কিংবদন্তি কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নিজের ছোটবেলার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে প্রসেনজিৎ জানান, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি ‘ভানু জেঠু’ বলে ডাকতেন। তবে অভিনেতা হিসেবে তাঁর সঙ্গে খুব কাছ থেকে কাজ করার সুযোগ হয়নি। প্রসেনজিতের কথায়, ছোটবেলায় ভানু জেঠুকে বেশ ভালোভাবেই চিনতেন তিনি, যদিও সেই পরিচয় মূলত পারিবারিক সূত্রে। তাঁর বাবা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। সেই সুবাদে ভানু জেঠু তাঁদের পরিবারের অত্যন্ত পরিচিত একজন মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। ফলে ছোটবেলায় তাঁকে কাছ থেকে দেখার এবং তাঁর স্বভাব সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রসেনজিৎ।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বলতে গিয়ে প্রসেনজিৎ জানান, তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল এই কিংবদন্তি অভিনেতার অনর্গল কথা বলা এবং ঠাট্টা-রসিকতা করার অভ্যাস। ছোটবেলায় ভানু জেঠু তাঁদের বাড়িতে এলে বাচ্চাদের চুপ করে বসে থাকতে বলতেন। বড়রা যখন কথা বলছেন, তখন যেন কেউ কথা না বলে, এমন নির্দেশও দিতেন তিনি। কিন্তু এর পিছনে ছিল এক মজার কারণ। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এত গল্প করতেন, এত রসিকতা করতেন যে, অন্য কারও কথা বলার সুযোগ প্রায় থাকত না। তাঁর কথায় জমে উঠত গোটা আসর, আর উপস্থিত সবাই হাসিতে মেতে উঠতেন। প্রসেনজিতের স্মৃতিতে তাই ভানু জেঠু শুধু একজন কিংবদন্তি অভিনেতা নন, বরং পরিবারের সঙ্গে মিশে থাকা এক প্রাণবন্ত মানুষ।

আরও পড়ুনঃ যে গান বাঙালির মুখে মুখে ফেরে, আজও দুর্গাপুজোয় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক! ‘পালকিতে বউ চলে যায়’ গেয়েই জনপ্রিয়তার শীর্ষে মিতা চট্টোপাধ্যায়! অথচ গানটি সুপারহিট হলেও বন্ধ হয়ে যায় ক্যাসেট কোম্পানি! কেন এমনটা ঘটেছিল ‘আশাকণ্ঠী’ গায়িকার সঙ্গে? কীভাবে রাতারাতি বদলে গেল জীবনে?

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই স্মৃতিচারণে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্বের এক অন্য দিক সামনে এসেছে। পর্দায় তাঁর অসাধারণ কৌতুকাভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করলেও, বাস্তব জীবনেও যে তাঁর রসবোধ ও উপস্থিতি মানুষকে আনন্দে মাতিয়ে রাখতে পারত, তা স্পষ্ট। অভিনেতার সঙ্গে খুব বেশি কাজ করার সুযোগ না পেলেও পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে পাওয়া সেই ছোটবেলার স্মৃতি আজও প্রসেনজিতের মনে উজ্জ্বল। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান যেমন চিরস্মরণীয়, তেমনই তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এমন ব্যক্তিগত স্মৃতিও নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, কেন তিনি আজও বাঙালির কাছে এত আপন।

You cannot copy content of this page