“বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র সুন্দরী নায়িকা কৌশানি, মা দুর্গার থেকেও বেশি সুন্দরী!” বেনারসি শাড়ি, গা ভর্তি সোনার গয়নায় হবু বৌমা, প্রশংসায় খেই হারিয়ে মন্তব্য পিয়া সেনগুপ্তর! ছেলে বনি আবার ঘুরছেন আঁচল ধরে! ‘হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না’, ‘আপনার থেকে সুন্দরী কেউ হতে পারে?’ ‘এমন শাশুড়ি আমাকেও দিও ভগবান’ নেটপাড়ায় তুমুল হাসাহাসি!

টলিউড অভিনেত্রী কৌশানি মুখোপাধ্যায়-এর কাছে এবারের দুর্গাপুজোটা বেশ স্পেশাল। একদিকে পুজোয় মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবি ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’, অন্যদিকে বাড়ির দুর্গাপুজো ঘিরেও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। চতুর্থীর দিন থেকেই অভিনেত্রীর বাড়িতে শুরু হয়ে যায় পুজোর উৎসব। চতুর্থীর দিন পুরোহিত ডেকে ঘট পুজো করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ। বাকি দিনগুলিতে নিয়ম মেনে বাড়ির সদস্যরাই পুজোর দায়িত্ব সামলান। মূর্তি পুজোর পরিবর্তে ঘট পুজোর মাধ্যমেই দুর্গার আরাধনা হয় তাঁদের বাড়িতে। চতুর্থীর দিন বাড়ির পুজোয় সবুজ বেনারসি শাড়ি, গা ভর্তি সোনার গয়না আর সাজগোজে নজর কাড়েন কৌশানি।

তাঁর রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন হবু স্বামী বনি সেনগুপ্ত এবং হবু শাশুড়ি পিয়া সেনগুপ্ত। কৌশানিকে এদিন এতটাই সুন্দর দেখাচ্ছিল যে, তাঁকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা বয়ে যায়। এমনকী, মজার ছলে হবু স্ত্রীর আঁচল ধরে বনিকে ঘুরতেও দেখা যায় একটি ভিডিওতে। তাঁদের এই খুনসুটি নজর কেড়েছে অনুরাগীদের। কৌশানিকে কেমন দেখতে লাগছে, সেই প্রশ্নের উত্তরে পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমি জানি এই কথাটা বললে আমি আবার ট্রোল হবো কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে সুন্দরী হল কৌশানি। হয়তো এই নিয়ে অনেকে লেখালেখি করবেন কিন্তু যেটা সত্যি সেটাই বলবো।’

মায়ের এই মন্তব্যে সমর্থন জানিয়ে পাশে বসে থাকা বনি বলেন, ‘সত্যি বলো কেউ ট্রোল করবে না।’ অন্যদিকে, হবু স্ত্রীর রূপের প্রশংসা করতে গিয়ে বনি বলেন, ‘ওকে অপূর্ব সুন্দরী লাগছে। মা দুর্গার থেকেও বেশি সুন্দরী লাগছে ওকে।’ তাঁর কথায়, কৌশানিকে এমনিতেই মিষ্টি দেখতে লাগে, তবে এদিন তাঁকে আরও বেশি সুন্দর লাগছিল। কিন্তু পিয়া সেনগুপ্তের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে কটাক্ষ। কৌশানিকে ‘ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে সুন্দরী নায়িকা’ বলার বিষয়টি অনেকেই সহজভাবে নেননি। কেউ শ্রাবন্তী, কোয়েল মল্লিক ও রুক্মিণী মৈত্রের নাম টেনে তুলনা করেছেন।

আবার কেউ সরাসরি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘শ্রাবন্তী রুক্মিণী কোয়েল এদের গু* হলো কৌশানি।’ আর একজনের মন্তব্য, ‘এ হয়তো শ্রাবন্তীকে ভুলে গেছে।’ অন্য এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘হাসবো কি কাঁদবো বুঝতে পারছি না। সবথেকে সুন্দরী!’ অর্থাৎ, হবু শাশুড়ির ভালোবাসা মেশানো প্রশংসাই এখন সমাজ মাধ্যমে ট্রোলের বিষয় হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে, কৌশানির বাড়ির পুজো, সবুজ বেনারসিতে তাঁর সাজ এবং বনি-পিয়ার প্রশংসা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়।

আরও পড়ুনঃ “ও যথেষ্ট ভালো ছিল, কার্তিকের থেকেও বেশি সুদর্শন…মহিষাসুরকে খারাপ বলব কেন?” “চাইলেই ক্ষমা করে দেওয়া যেত, কিন্তু অ’স্ত্রের প্রয়োগ করলেন মা দুর্গা!” চিরচেনা অসুরবধের কাহিনি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শিলাজিৎ মজুমদার? প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে কেন এমন অদ্ভুত ভাবনা? গায়কের মন্তব্যে শুরু চর্চা!

তবে পিয়া সেনগুপ্তের মন্তব্য যে কৌশানির প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত ভালোবাসা ও মুগ্ধতার প্রকাশ, তা বলাই যায়। এদিকে, ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’ ছবিতে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফের জুটি বেঁধেছেন অভিনেত্রী। ছবির দ্বিতীয় পর্বে কৌশানিকে আরও অন্যরকম চরিত্রে দেখা যাবে বলেও জানিয়েছিলেন শিবপ্রসাদ। এখন দেখার, পুজোর আনন্দের পাশাপাশি এই প্রশংসা ও ট্রোলিংয়ের চর্চা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়। আপনাদের কী মতামত, জানাতে ভুলবেন না?

You cannot copy content of this page