গায়িকা জয়তী চক্রবর্তীকে নিয়ে সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি। তাঁর নাকি ভয়ঙ্কর গলার অসুখ হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সেই সমস্যায় ভুগেছেন তিনি, এমনই খবর ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে। বিষয়টি নজরে আসতেই এবার মুখ খুললেন গায়িকা নিজেই। ষষ্ঠীর দিন ফেসবুক লাইভে এসে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরের প্রতিবাদ জানান তিনি। জয়তীর দাবি, তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। এমনকী তাঁর অসুস্থতা নিয়ে নানা ধরনের মনগড়া গল্পও প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই ধরনের খবর দেখে তাঁর অনুরাগীদের অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। তাই গোটা বিষয়টি পরিষ্কার করতেই লাইভে আসার সিদ্ধান্ত নেন গায়িকা।
জয়তী জানান, গত দু’মাস ধরে বিষয়টি তাঁর নজরে আসছে। বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে তাঁর গলার অসুখ নিয়ে নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, তিনি নাকি প্রায় দু’বছর ধরে ভয়ঙ্কর গলার সমস্যায় ভুগেছেন। এই ধরনের প্রচারের বিরোধিতা করে গায়িকা বলেন, তিনি সাধারণত শান্ত স্বভাবের মানুষ এবং কাউকে আঘাত করে কথা বলতে পছন্দ করেন না। তাঁর বিশ্বাস, কাউকে কষ্ট দিয়ে কথা বললে সেই আঘাত কোনও না কোনওভাবে নিজের কাছেও ফিরে আসে। তাই যাঁরা তাঁর সম্পর্কে ভুল খবর ছড়াচ্ছেন, তাঁদেরও পালটা আঘাত করতে চান না তিনি। তবে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধ হওয়া দরকার বলেই মনে করছেন গায়িকা। সেই কারণেই প্রকাশ্যে এসে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন তিনি।
নিজের ছবি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জয়তী চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ছবি বদলে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী তাঁর স্বামীর সঙ্গে থাকা ছবিতেও নানা পরিবর্তন করে সেগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শুধু ছবিই নয়, তাঁর মুখ এবং চেহারারও বিভিন্ন রকম পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানান গায়িকা। এসব ছবির সঙ্গে এমন কিছু বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তিনি আদৌ বলেননি বলে দাবি তাঁর। একটি শিল্পীর পডকাস্টে গিয়ে নাকি জয়তী জানিয়েছিলেন যে তিনি গত দেড় বছর ধরে ভয়ঙ্কর গলার অসুখে ভুগছেন। এই দাবিকেও সম্পূর্ণ ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিজের সম্পর্কে এমন কোনও কথা তিনি বলেননি, অথচ সেই বক্তব্যকে সত্যি বলে প্রচার করা হচ্ছে।
নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সমস্ত জল্পনার জবাব দিয়ে জয়তী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর কখনও কোনও ভয়ঙ্কর গলার অসুখ হয়নি। বরং সুস্থ গলা নিয়েই গান গাওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন তিনি। তবে পেশার কারণে গায়কদের গলার উপর যে বাড়তি চাপ পড়ে, সেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন জয়তী। বছরের যে সময়ে অনুষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকে, তখন একটানা গান গাওয়া, গলার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং পরিবেশের দূষণের কারণে অস্বস্তি হতে পারে। তাঁর ক্ষেত্রেও মাঝেমধ্যে এমনটা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তার সঙ্গে গুরুতর কোনও অসুখের সম্পর্ক নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন গায়িকা। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষের যেমন জ্বর হতে পারে বা শরীর খারাপ হতে পারে, তেমনই গলার অস্বস্তিও স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সেই সাময়িক সমস্যাকে বড় অসুখ হিসেবে তুলে ধরে প্রচার করা একেবারেই ঠিক নয়।
কীভাবে এই ভুল খবর ছড়িয়ে পড়ল, সেই বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেছেন জয়তী। সম্প্রতি গায়িকা মেখলা দাশগুপ্তর পডকাস্ট শোয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেখানে গান নিয়ে নিজের খুঁতখুঁতে মনোভাব এবং কীভাবে প্রতিনিয়ত নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশকে ভুলভাবে তুলে ধরে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ জয়তীর। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে বলা কোনও কথা থেকে ফুটেজ নিয়ে তার অর্থ বদলে দেওয়া কিংবা মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেওয়া কাম্য নয়। তাঁর মতে, এই ধরনের ভিডিও দেখে অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে তাঁর সত্যিই কোনও অসুখ হয়েছে কি না। এমনকী কেউ কেউ তাঁর ক্যানসারের মতো কোনও গুরুতর অসুখ হয়েছে কি না, তা নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। ফলে এই প্রচার শুধু তাঁকে নয়, তাঁর অনুরাগীদেরও অকারণে মানসিক কষ্ট দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পুজোর আনন্দে মাটি, ঘটে গেল অঘটন! চোখের নিমিষে চুরি হয়ে গেল সব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করে নিয়ে এলেন? দুর্গাপুজোর অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার গল্প শোনালেন গায়িকা শ্রাবণী সেন!
এই ধরনের গুজবের কারণে পেশাগত ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জয়তী। তাঁর কথায়, যাঁরা তাঁকে ভালোবাসেন এবং তাঁর গান শোনেন, তাঁরা এই খবর দেখে অযথা চিন্তিত হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের আয়োজকরাও তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরের কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন বলে জানান তিনি। অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, সত্যিই কি গুরুতর গলার অসুখ নিয়ে তিনি অনুষ্ঠান করছেন? এই পরিস্থিতিতে জয়তী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নেতিবাচক প্রচারের জন্য কারও ব্যক্তিগত বক্তব্যকে এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার বিরোধিতা করেছেন তিনি। লাইভের শেষে গায়িকা জানিয়ে দেন, আগামী দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে এই ধরনের ভুল খবর বা বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানো হলে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আর নীরব থাকবেন না জয়তী চক্রবর্তী।






