“দুর্নিবার ক্যাপ্টেন হতেই গায়ে জ্বা*লা করছে নাকি?” “নিরঞ্জনের সময় তো এমন প্রতিবাদ করেননি!” বিগ বসের ঘরে মোনামীকে আ’ঘাতের পর, গায়কের বিছানায় জল ঢেলে নতুন বিতর্কে জিতু কমল! ‘ভণ্ড শিবভক্ত, সা*ইকো কোথাকার’ নেটপাড়ায় তকমা অভিনেতাকে, আচরণ নিয়ে ক্ষু’ব্ধ রাজবীর সহ প্রতিযোগীদের একাংশও!

বিগ বস বাংলার ঘরে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে অভিনেতা জিতু কমল। সম্প্রতি ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে মনামী ঘোষকে লক্ষ্য করে বল ছোড়ার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গায়ক দুর্নিবার সাহার ক্যাপ্টেনের বিছানায় বালতি করে জল ঢালার ঘটনায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিগ বসের বাড়িতে ক্যাপ্টেন নির্বাচনের পর থেকেই বদলাতে শুরু করেছে প্রতিযোগীদের সমীকরণ। দুর্নিবার ক্যাপ্টেন হওয়ায় ঘরের পরিবেশও বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জিতুর এই আচরণে শুধু দুর্নিবার বা নিরঞ্জন নন, বাড়ির অন্য সদস্যদের একাংশও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে জিতুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের মতে, খেলায় প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অন্য প্রতিযোগীকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো আচরণ কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

দুর্নিবারের ক্যাপ্টেন হওয়ার পিছনে রাজবীর দে-রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজবীর আগেই জিতুকে জানিয়েছিলেন, তিনি দুর্নিবারকে ক্যাপ্টেন হিসেবে দেখতে চান। ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক চলাকালীন জিতু একাধিকবার দুর্নিবারের হাঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করেন। কিন্তু রাজবীরের বাধার মুখে তাঁর সেই চেষ্টা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুর্নিবারই ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ক্যাপ্টেনের জন্য নির্দিষ্ট ঘর ও বিছানা ব্যবহারের সুযোগ পান গায়ক। কিন্তু এই নতুন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই জিতুর সঙ্গে দুর্নিবারের বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে। ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক শেষ হওয়ার পর জিতু দুর্নিবারকে জানিয়ে দেন, ক্যাপ্টেনের ঘরে তাঁকে একাই ঘুমোতে হবে। সেখানে নিরঞ্জনকে নিয়ে শোওয়ার অনুমতি তিনি দেবেন না বলেও স্পষ্ট করে দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ঘরটি যেহেতু শুধুমাত্র ক্যাপ্টেনের জন্য নির্দিষ্ট, তাই সেখানে অন্য কাউকে থাকতে দেওয়া উচিত নয়। তবে এই নিয়ম নিয়ে আপত্তি থাকলেও তা কার্যকর করার জন্য জিতু যে পদ্ধতি বেছে নেন, সেটাই পরবর্তী সময়ে বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জিতুর সতর্কবার্তার পরেও দুর্নিবার ও নিরঞ্জনকে পাশাপাশি ক্যাপ্টেনের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরই বালতি করে জল নিয়ে সেখানে হাজির হন জিতু এবং বিছানার উপর জল ঢেলে দেন। এই ঘটনার পর বিগ বসের বাড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভরত কল, মনামী ঘোষ ও নন্দিনী দত্তের মতো প্রতিযোগীরা জিতুর আচরণের সমালোচনা করেন। এমনকি রাজবীরও তাঁর এই কাজকে সমর্থন করেননি। রাজবীর সরাসরি জিতুকে জানান, তিনি যা করেছেন তা ঠিক হয়নি। অর্থাৎ, ক্যাপ্টেনের ঘরে কে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও বিছানায় জল ঢেলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘরের একাধিক সদস্য মেনে নিতে পারেননি। অন্যদিকে, জিতু নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। তাঁর দাবি ছিল, ঘরের নিয়ম ভাঙা আটকাতেই তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন নিয়মভঙ্গ হলে একই কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। ফলে নিয়ম মানানোর যুক্তি এবং সেই নিয়ম কার্যকর করার পদ্ধতি, দুটো বিষয় নিয়েই বাড়ির ভিতরে শুরু হয় বিতর্ক।

তবে জিতুর এই যুক্তি নিয়ে ঘরের অন্য সদস্যদের আপত্তিরও একটি কারণ ছিল। তাঁদের বক্তব্য, আগের সপ্তাহে নিরঞ্জন যখন ক্যাপ্টেন ছিলেন, তখন ক্যাপ্টেনের ঘরে রাতে নিরঞ্জন, ঝিলম ও দুর্নিবারকে একসঙ্গে থাকতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় জিতুকে একইভাবে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এবার দুর্নিবার ক্যাপ্টেন হওয়ার পর তাঁর বিছানায় জল ঢেলে দেওয়ার ঘটনাকে নিছক নিয়মরক্ষার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন না প্রতিযোগীদের একাংশ। তাঁদের সন্দেহ, দুর্নিবারের প্রতি ব্যক্তিগত অপছন্দ থেকেই জিতু এমন আচরণ করেছেন। যদিও এটি ঘরের সদস্যদের বক্তব্য ও অভিযোগ, জিতুর নিজের দাবি এর থেকে আলাদা। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিগ বসের মতো প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে টানাপোড়েন নতুন নয়, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা কখন ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত হচ্ছে, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। দুর্নিবারের নতুন দায়িত্ব ঘিরে জিতুর এই পদক্ষেপ তাই বাড়ির ভিতরের সমীকরণে আরও উত্তাপ যোগ করেছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে দাদার দরবারের পর্বে ঝিলমের মুখের দিকে থুতু ছেটানোর অভিযোগ এবং মনামীকে বারবার বল দিয়ে আঘাত করার ঘটনা নিয়েও জিতুকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার পরেই দুর্নিবারের বিছানায় জল ঢালার দৃশ্য সামনে আসায় দর্শকদের একাংশ আরও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কেউ কেউ জিতুকে ‘সাইকো’ বলে কটাক্ষ করেছেন, আবার তাঁর শিবভক্তির পরিচয় নিয়েও ব্যঙ্গ করে তাঁকে ‘ভণ্ড শিবভক্ত’ বলা হয়েছে। তবে এগুলি সামাজিক মাধ্যমে দর্শকদের একাংশের প্রতিক্রিয়া ও কটাক্ষ, কোনও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নয়। জিতুর সমালোচনার পাশাপাশি তাঁর আচরণকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠছে। প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এক বিষয়, আর ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে এমন পদক্ষেপ করা অন্য বিষয়, এই পার্থক্য নিয়েই আলোচনা করছেন অনেকে। বিশেষ করে পরপর কয়েকটি ঘটনায় জিতুকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁর খেলার কৌশল নিয়েও দর্শকদের মধ্যে মতভেদ দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ “আগে পাড়ার মানুষের মধ্যে অনেক বেশি মিলমিশ ছিল”, “পঞ্চমী থেকে নবমী পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলত, সবার বাড়ি গিয়ে ঘুঘনি, নাড়ু আর কুচো নিমকি খেতাম” এই সময়টা শহরের জন্য মন কাঁদে, শৈশবের দুর্গাপুজো কেমন ছিল ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের? অতীতের স্মৃতি থেকে বর্তমানের অনুভূতি, জানালেন সব কথা!

সব মিলিয়ে দুর্নিবারের ক্যাপ্টেন হওয়া থেকে শুরু করে তাঁর বিছানায় জল ঢালার ঘটনা, বিগ বস বাংলার ঘরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। একদিকে জিতু দাবি করছেন, তিনি ঘরের নিয়ম ভাঙা আটকাতে চেয়েছেন; অন্যদিকে ঘরের কয়েকজন প্রতিযোগী এবং দর্শকদের একাংশের মতে, তাঁর আচরণ পরিস্থিতিকে অকারণে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজবীরের মতো প্রতিযোগীও যেখানে জিতুর কাজের বিরোধিতা করেছেন, সেখানে এই ঘটনা শুধু দুর্নিবার ও জিতুর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে আটকে থাকছে না। বরং ঘরের অন্য সদস্যদের অবস্থানও প্রকাশ্যে চলে আসছে। আগামী দিনে ক্যাপ্টেন দুর্নিবার এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলান এবং জিতুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা। একইসঙ্গে, বিগ বসের নির্মাতারা এই ধরনের আচরণ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেন কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আপাতত একটি বিষয় স্পষ্ট, ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক শেষ হলেও তার রেশ কাটেনি, বরং নতুন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিগ বস বাংলার ঘরে বিতর্ক আরও বেড়েছে।

You cannot copy content of this page