“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই দূরদর্শিতাকে আজ স্যালুট জানাই, বিজেপি সরকারের এই অপদার্থতাকে ধিক্কার!” “প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রীর শাসনকালেই নাগরিক হিসেবে অনেক ভালো ছিলাম, বর্তমানের এই রূপ সহ্য করা যাচ্ছে না!” ২০২৬ অভিশ’প্ত দুর্গাপুজো? চোরবাগানকাণ্ডে ক্ষু’ব্ধ মধুমিতা রায়, মমতা ও বুদ্ধদেবের আমলের স্মৃতি টেনে বিতর্কিত পোস্ট অভিনেত্রীর! সমাজ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া?

দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কার্যত শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে কলকাতায়। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। প্রিয়জনের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি বহু মানুষ। এই ঘটনায় মণ্ডপের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এমন পরিস্থিতিতেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেত্রী মধুমিতা রায়। ছোটপর্দায় বিভিন্ন পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। চোরবাগানের ঘটনা ঘিরে তাঁর পোস্টে উঠে এসেছে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা, প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রীর শাসনকালের স্মৃতি এবং দুর্গাপুজোর চেনা আনন্দ হারিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ।

মধুমিতা তাঁর পোস্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজো পরিচালনার পদ্ধতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিড় সামলানোর কথা মাথায় রেখে মহালয়ার পরদিন অথবা পুজোর দ্বিতীয় দিন থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন। এর ফলে দর্শনার্থীদের ভিড় একসঙ্গে জমে যাওয়ার আশঙ্কা কমত এবং মানুষ তুলনামূলকভাবে শান্তিতে ঠাকুর দেখতে পারতেন বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। সেই পুরনো ব্যবস্থার কথা মনে করে মমতার দূরদর্শিতার প্রশংসা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মধুমিতার বক্তব্য, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাতে সকলে নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর তাঁর মনে হয়েছে, আগের দিনের পুজো পরিচালনার পদ্ধতি থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল। সেই কারণেই নিজের পোস্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্যালুট জানিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী।

তবে শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, রাজ্যের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শাসনকালের কথাও মনে পড়েছে মধুমিতার। ছোটবেলায় দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কীভাবে নিশ্চিন্তে ঠাকুর দেখতে বেরোতেন, সেই স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সেই সময় পুজোর পরিবেশে একটা শৃঙ্খলা ও শালীনতা ছিল, যা সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিত। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বন্ধুদের সঙ্গে পুজো উপভোগ করার মধ্যে যে নিরাপত্তার অনুভূতি ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার অভাব অনুভব করছেন অভিনেত্রী। নিজের পোস্টে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কাছে দুর্গাপুজো শুধু সাজসজ্জা, আলো কিংবা থিমের উৎসব নয়। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ছোটবেলার স্মৃতি, নিশ্চিন্তে রাস্তায় বেরোনোর স্বাধীনতা এবং চারপাশের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতি। সেই পরিচিত পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে বলেই তাঁর আক্ষেপ। প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রীর আমলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে নিজের হতাশার কথাই প্রকাশ করেছেন তিনি।

চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় আচমকা বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষা করা বহু মানুষ একসঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। আগে থেকেই সেখানে প্রচুর ভিড় ছিল। তার উপর সরু রাস্তা, প্রবেশ ও বেরোনোর পথে সমস্যা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মাইকে করা কিছু ঘোষণা থেকেও দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। হুড়োহুড়ির মধ্যে বহু মানুষ পড়ে যান এবং পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমন ভয়াবহ ঘটনার পর মণ্ডপের নিরাপত্তা ও বিপুল জনসমাগম সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মধুমিতার পোস্টেও এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মানুষের নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল পুজো আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: “সন্তানদের ভালো হলে বলা হয় মায়ের মতো, খারাপ হলে বাবার মতোই হয়েছে!” “দিনের শেষে সব বাবারাই সিঙ্গল ফাদার, সমাজ আমাদের খাওয়ায় না…” এত দিনের বিয়ে ভাঙার পর ডুবে যান অবসা’দে, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা পেরিয়ে এবার দুর্গাপুজোয় স্বস্তির নিঃশ্বাস! ছেলে যশোজিৎকে নিয়ে নতুন করে ভালো থাকার স্বপ্ন দেখছেন জয়জিৎ?

নিজের পোস্টের সবচেয়ে আবেগঘন অংশে মধুমিতা জানিয়েছেন, এবারের দুর্গাপুজো তাঁর কাছে যেন একেবারেই অন্যরকম। যে উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছর মানুষের মধ্যে আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং নতুন করে বাঁচার উদ্দীপনা তৈরি হয়, সেই উৎসবেই এমন প্রাণহানির ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। তিনি লিখেছেন, “২০২৬ এক অভিশপ্ত দুর্গাপূজা।” এই কথার মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, এবারের পুজো নিয়ে তাঁর মনে কতটা হতাশা জমেছে। তাঁর কাছে বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক শূন্যতার অনুভূতি তৈরি করেছে, যা সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। পোস্টে তিনি বাড়িতে মা-বাবা না থাকার সঙ্গে এবারের পুজোর পরিবেশের তুলনা করেছেন। তাঁর কথায়, মা-বাবা বাড়িতে না থাকলে যেমন ঘর ফাঁকা ও একলা লাগে, এবারের দুর্গাপুজোও তাঁর কাছে তেমনই ছন্নছাড়া এবং আনন্দহীন মনে হচ্ছে। উৎসবের চেনা আবহের মধ্যে এমন এক বিষণ্ণতা তৈরি হয়েছে, যা তাঁকে বারবার অতীতের পুজোর দিনগুলির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে মধুমিতা রায়ের এই পোস্ট ঘিরে উঠে এসেছে দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং উৎসবের পরিবেশ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষোভ। একদিকে চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষদের নিয়ে শোক, অন্যদিকে ছোটবেলার নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পুজোর স্মৃতি, এই দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, দুর্গাপুজোর আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সাধারণ মানুষ কোনও ভয় ছাড়াই পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে পারেন। শুধু আকর্ষণীয় মণ্ডপ তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হয়। চোরবাগানের ঘটনার পর এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। মধুমিতা তাঁর পোস্টে প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রীর শাসনকালের কথা স্মরণ করে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই বক্তব্যে যেমন রয়েছে পুরনো দিনের প্রতি নস্টালজিয়া, তেমনই রয়েছে এবারের দুর্গাপুজোকে ঘিরে তৈরি হওয়া গভীর মনখারাপ।

You cannot copy content of this page