“রাজবীর তো যা করে ফুটেজের জন্য…বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে থাকলেই ভালো” জনপ্রিয়তার জন্যই ক্যামেরার সামনে যত নাটক, ফের নতুন মন্তব্যে বিতর্ক উস্কে দিলেন ভরত কল! বিগ বস বাংলা শেষ হওয়ার পরেও রাজবীরকে কেন বাংলার ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরেই দেখতে চান অভিনেতা? তবে কি টলিউডেও ‘আউটসাইডার’-এর জায়গা নেই, ইঙ্গিত সেদিকেই?

বাংলার রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-কে ঘিরে দর্শকদের উত্তেজনা বরাবরই তুঙ্গে থাকে। প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত সমীকরণ, ঝামেলা, বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে তাঁদের গেমপ্ল্যান সবকিছু নিয়েই চলে আলোচনা। বিশেষ করে শো থেকে কোনও প্রতিযোগী বেরিয়ে আসার পর তাঁর অভিজ্ঞতা ও সহ-প্রতিযোগীদের সম্পর্কে করা মন্তব্য নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। এবার বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে আলোচনায় অভিনেতা ভরত কল। তবে নিজের এলিমিনেশন কিংবা শোয়ের অভিজ্ঞতার থেকেও বেশি নজর কেড়েছে সহ-প্রতিযোগী রাজবীরকে নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য। রাজবীরের গেমপ্ল্যান থেকে শুরু করে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর ভবিষ্যৎ, সবকিছু নিয়েই মুখ খুলেছেন অভিনেতা।

সম্প্রতি রিয়েলিটি শো থেকে এলিমিনেটেড হওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে বিগ বসের ঘরের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ভরত কল। সেই আলোচনায় উঠে আসে রাজবীরের প্রসঙ্গ। শো চলাকালীন রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, রাজবীরের খেলার ধরন এবং অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন ভরত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজবীরের খেলার কৌশল এবং ক্যামেরার সামনে নিজেকে তুলে ধরার ধরন তাঁর নজর এড়ায়নি। এমনকী রাজবীরের এই আচরণই পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে বলেও মনে করেন অভিনেতা।

রাজবীরের গেমপ্ল্যান নিয়ে ভরত কলের বক্তব্য, রাজবীর যা কিছু করে, তার পিছনে মূল উদ্দেশ্য থাকে ক্যামেরার নজর কাড়া এবং বেশি করে ফুটেজ পাওয়া। ভরতের মতে, এটাই একটা সময় তাঁর জন্য নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। নন্দিনী, ঝিলাম, তনুশ্রী-সহ ঘরের অন্যান্য মহিলা প্রতিযোগীদের সঙ্গে রাজবীরের বিভিন্ন মুহূর্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বোঝান, রাজবীরের প্রতিটি পদক্ষেপের পিছনে কোনও না কোনও পরিকল্পনা থাকে। তবে রাজবীরের এই কৌশলকে পুরোপুরি খারাপ চোখে দেখেননি ভরত। বরং তাঁকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলেও উল্লেখ করেছেন। ভরতের কথায়, রাজবীর তাঁকে জানিয়েছিল যে ভরত ছাড়া ঘরের আর কাউকে সে ভালোভাবে চেনে না এবং তাঁর অভিনয়ের কাজ দেখেছে। যদিও এই ধরনের প্রশংসাকে নিজের কাছে কোনও বিশেষ স্বীকৃতি বলে মনে করেন না অভিনেতা।

অন্যদিকে, বিগ বসের ঘরের একঘেয়ে পরিবেশ বদলাতেও রাজবীরের ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন ভরত। তাঁর কথায়, দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে প্রতিযোগীরা যখন ঘুমিয়ে পড়তেন, তখন রাজবীরই নিজের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গোটা বাড়িকে জাগিয়ে তুলত। অর্থাৎ, রাজবীরের কিছু আচরণ নিয়ে আপত্তি থাকলেও শোয়ের পরিবেশে তাঁর উপস্থিতির গুরুত্ব অস্বীকার করেননি ভরত। তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা তৈরি হয়েছে রাজবীরের কেরিয়ার নিয়ে তাঁর মন্তব্যে। ভরতের দাবি, রাজবীর বাংলা টেলিভিশনে কাজ করতে বিশেষ আগ্রহী নয়। এমনকী বাংলা ছবির প্রতিও তাঁর আগ্রহ খুব একটা নেই। অভিনেতার ধারণা, রাজবীরের মূল লক্ষ্য মুম্বই।

আরও পড়ুনঃ “আই লাভ ইউ ব্রাদার, ভাই তুমি আমাদের সবার মন জিতে নিয়েছ!” ট্রফি পাবে বা জিতবে না আমি জানি না, তবে মানুষ যখন প্রেমে পড়ে…” হাত ছাড়তে নারাজ, নন্দিনী চলে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন রাজবীর! যাঁর আচরণ নিয়ে করতেন কটাক্ষ, আজ তাঁর অবস্থা দেখে চোখে জল! এবার পাশে দাঁড়িয়ে কী বললেন রাজা গোস্বামী?

কলকাতায় এসে ছোটখাটো কাজ করার পরিবর্তে সেই কাজ মুম্বইতেই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি অভিনয়ের বাইরেও ব্র্যান্ডিং ও বিজ্ঞাপনের জগতে রাজবীরের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভরত। রাজবীরের বাংলা ভাষায় সাবলীল না হওয়া এবং বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে ভরত কলের এই মন্তব্য রাজবীরের ভবিষ্যৎ কেরিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাজবীর কোন পথে এগোবেন, তা সময়ই বলবে।

You cannot copy content of this page