বাংলা সিনেমার ইতিহাসে খলনায়কের চরিত্র বরাবরই দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। পর্দায় তাঁদের দাপট, গম্ভীর কণ্ঠস্বর, চোখের চাহনি আর অভিনয়ের জোরে অনেক সময় নায়কের থেকেও বেশি নজর কেড়েছেন তাঁরা। বাংলা চলচ্চিত্রের তেমনই এক পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেতা সৌমিত্র ব্যানার্জি। তাঁর অভিনীত খলনায়কের চরিত্র আজও বহু দর্শকের মনে রয়ে গিয়েছে। পর্দায় তাঁর ব্যক্তিত্ব যতটা গম্ভীর ও ভয় ধরানো ছিল, বাস্তব জীবনে মানুষটি কেমন ছিলেন, তা নিয়েই এবার এক মজার স্মৃতি ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী রীনা চৌধুরী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সৌমিত্র ব্যানার্জির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, তাঁর সঙ্গে সৌমিত্রদার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো। অভিনেতার ডাকনাম ছিল নানুদা। রীনার কথায়, নানুদা মোটেই পর্দার মতো গম্ভীর স্বভাবের মানুষ ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত মজার এবং হাসিখুশি। তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময় নানা মজার ঘটনা ঘটত, যার মধ্যে একটি ঘটনা আজও অভিনেত্রীর মনে বিশেষভাবে জায়গা করে রয়েছে।
বাংলা ছবিতে সৌমিত্র ব্যানার্জি মূলত খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর অভিনয়ের মধ্যে ছিল আলাদা একটা দাপট। গম্ভীর সংলাপ বলার ধরন, অভিব্যক্তি এবং পর্দায় উপস্থিতি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। তবে সহকর্মীদের স্মৃতিতে তাঁর আরেকটি পরিচয় ছিল, তিনি ছিলেন প্রাণখোলা মনের মানুষ। শুটিংয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে মজা করতে ভালোবাসতেন।
রীনা চৌধুরী জানান, ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবির শুটিংয়ের সময়ের একটি ঘটনা তাঁর এখনও মনে আছে। বীরভূমে শুটিং চলছিল। সেই সময় প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। ছবিতে রীনা ও তাঁর সহ-অভিনেতারা বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে নানুদাই এক অভিনব পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সেখানকার তেঁতুলের ভর্তা জল ও নুনের সঙ্গে মিশিয়ে গ্লাসে করে সবাইকে খাওয়ানো যেতে পারে। তখন কোকা-কোলা বা এই ধরনের পানীয় সহজলভ্য ছিল না। তাই গরমে তেঁতুলের এই পানীয় বেশ উপকারী হবে বলেই তাঁর ধারণা ছিল। কিন্তু নানুদার সেই পরামর্শ যে শেষ পর্যন্ত এমন মজার কাণ্ডে পরিণত হবে, তা কেউ ভাবেননি।
আরও পড়ুনঃ“রাজবীর তো যা করে ফুটেজের জন্য…বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে থাকলেই ভালো” জনপ্রিয়তার জন্যই ক্যামেরার সামনে যত নাটক, ফের নতুন মন্তব্যে বিতর্ক উস্কে দিলেন ভরত কল! বিগ বস বাংলা শেষ হওয়ার পরেও রাজবীরকে কেন বাংলার ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরেই দেখতে চান অভিনেতা? তবে কি টলিউডেও ‘আউটসাইডার’-এর জায়গা নেই, ইঙ্গিত সেদিকেই?
একজন তেঁতুল খুঁজতে একটি বাড়িতে গেলে সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে তেঁতুল নিয়ে আসা হয়। এরপর সবাই মিলে সেই তেঁতুলের ভর্তা তৈরি করে খেয়ে ফেলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় বিপত্তি। রীনার কথায়, সবাই মিলে তেঁতুল খাওয়ার পর একে একে বমি করতে শুরু করেন। স্বাভাবিকভাবেই সকলেই নানুদার উপর প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন। পর্দায় যাঁকে দেখে দর্শকদের মনে ভয় তৈরি হতো, সেই সৌমিত্র ব্যানার্জিই যে শুটিংয়ের ফাঁকে এমন মজার কাণ্ড ঘটাতে পারতেন, অভিনেত্রীর স্মৃতিচারণায় উঠে এল তাঁর সেই অচেনা, প্রাণবন্ত দিক।






