“গার্লফ্রেন্ড নেই, অথচ এত স্বাভাবিক আছে কী করে?” “নন্দিনীর ডিমগুলো সরিয়ে রেখেছে নিজে খাবে, আবার রাতে না খেয়ে সহানুভূতি নিচ্ছিল!” নন্দিনীর বিদায়ে রাজবীরকে কটা’ক্ষ তনুশ্রীর, ‘যাঁর ফ্যানরা ভোট দিয়ে সেফ করল, এখন স্বার্থপর তনুশ্রী দুর্নিবারের সঙ্গে তাঁকে নিয়েই চুগলি করছে!’ ‘গার্লফ্রেন্ড ম’রে যায়নি যে সারা সপ্তাহ কাঁদতে হবে!’ তনুশ্রীকে তুলোধোনা বিগ বস বাংলার দর্শকদের!

বিগ বস বাংলার বাড়িতে প্রতিযোগীদের সমীকরণ প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। একদিকে নন্দিনী দত্তের বিদায়ের ঘোষণায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রাজবীর দে, অন্যদিকে তাঁকে সিক্রেট রুমে পাঠানোর বিষয়টি দর্শকদের কাছে ছিল বড় চমক। নন্দিনীর সঙ্গে রাজবীরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এতদিন কম আলোচনা হয়নি। তাঁদের একসঙ্গে সময় কাটানো, আলিঙ্গন কিংবা চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে যেমন সমালোচনা হয়েছে, তেমনই তাঁদের সম্পর্ককে সমর্থনও করেছেন অনেকে। নন্দিনী চলে যাওয়ার পর রাজবীরের আচরণ নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা। বিশেষ করে বাড়ির অন্য প্রতিযোগীরা তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কী মন্তব্য করছেন, তা নিয়েও দর্শকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিযোগী তনুশ্রী। দুর্নিবারের সঙ্গে বসে রাজবীরকে নিয়ে তাঁর আলোচনা এক দর্শকের নজরে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ওই দর্শকের অভিযোগ, রাজবীরের অনুরাগীরাই একসময় তনুশ্রীকে সমর্থন করে ভোট দিয়েছিলেন, যাতে তিনি বিগ বসের বাড়িতে টিকে থাকতে পারেন। অথচ এখন সেই তনুশ্রীকেই দুর্নিবারের সঙ্গে বসে রাজবীরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর। বিশেষ করে নন্দিনী চলে যাওয়ার পর রাজবীরের স্বাভাবিক থাকা নিয়ে তনুশ্রীর মন্তব্যে আপত্তি জানিয়েছেন ওই দর্শক। তাঁর বক্তব্য, নন্দিনী বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন বলেই রাজবীরকে সারাক্ষণ কাঁদতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। এই প্রসঙ্গেই ক্ষোভের সুরে তিনি লিখেছেন, ‘ওর গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে, মরে যায়নি যে সারা সপ্তাহে কাঁদবে।’ দর্শকের মতে, কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বিচ্ছেদের মুহূর্ত নিয়ে এভাবে মন্তব্য করা উচিত নয়। রাজবীর নিজের মতো করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন, সেটাকে নিয়েও কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা বুঝতে পারছেন না তিনি।

শুধু রাজবীরের স্বাভাবিক থাকা নয়, নন্দিনীর ডিম সরিয়ে রাখার অভিযোগ নিয়েও তনুশ্রীকে একহাত নিয়েছেন ওই দর্শক। তাঁর দাবি, তনুশ্রী ও দুর্নিবারের আলোচনায় বলা হয়েছে, নন্দিনীর ডিম রাজবীর সরিয়ে রেখেছেন। এই প্রসঙ্গে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন ওই অনুরাগী। তাঁর বক্তব্য, নন্দিনীর খাবার নিয়ে রাজবীর কী করেছেন, তা নিয়ে অন্যদের এত মাথাব্যথা কেন? ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘নন্দিনীর ডিমগুলো রাজবীর সরিয়ে রেখেছে, কেন ওর গার্লফ্রেন্ডের ডিম তোরা খাবি?’ অর্থাৎ রাজবীর ও নন্দিনীর ব্যক্তিগত সমীকরণকে কেন্দ্র করে বাড়ির অন্য প্রতিযোগীদের এই ধরনের আলোচনা তাঁর একেবারেই পছন্দ হয়নি। একই সঙ্গে রাজবীর রাতে খাবার খাননি, এমন মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। ওই দর্শকের অভিযোগ, রাজবীর নাকি সহানুভূতি পাওয়ার জন্য রাতে খাবার খাননি বলে আলোচনা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, একজন প্রতিযোগী কখন, কী কারণে খাবার খাচ্ছেন বা খাচ্ছেন না, তা নিয়ে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।

এই সমস্ত ঘটনার পরেই রাজবীরের অনুরাগীদের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন ওই দর্শক। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা রাজবীরকে সমর্থন করেন, তাঁরাই যদি তনুশ্রীকে নিরাপদ রাখতে ভোট দিয়ে থাকেন, তবে এখন তাঁর মুখে রাজবীরের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য শুনে হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘রাজবীর ফ্যানরা তোমরা এই তনুশ্রীকে সেফ রাখতে ভোট করেছো, ছি!’ তাঁর অভিযোগ, যাঁকে সমর্থন করে বাড়িতে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, তিনিই এখন সেই প্রতিযোগীকে নিয়ে অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। যদিও এটি সম্পূর্ণ ওই দর্শকের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া, তবু বিগ বসের বাড়িতে প্রতিযোগীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দর্শকদের ভোটের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজবীরের অনুরাগীদের একাংশের কাছে বিষয়টি তাই শুধু তনুশ্রীর মন্তব্য নয়, বরং তাঁদের সমর্থনের মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ “জ্যাকেটের নীচে একটু উদ্দাম, লাগামহীন প্রেম থাক না, ক্ষতি কী?” “ভালোবাসাহীন, স্বার্থে ঘেরা বিগ বসের বাড়িতে এক টুকরো বসন্ত ছিল রাজনন্দিনী!” রাজবীর ও নন্দিনীর মাত্রাতিরিক্ত ঘনি*ষ্ঠতায় বিরক্ত একাংশ, বিদায়বেলায় চু’ম্বনে চোখে জল অন্যদের! বিগ বস বাংলার এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তুঙ্গে দ্বন্দ্ব, আপনি কোন দলে?

নন্দিনী সিক্রেট রুমে যাওয়ার পর রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সমীকরণ কীভাবে এগোয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন দর্শকরা। অন্যদিকে, নন্দিনীর অনুপস্থিতিতে রাজবীরের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং বাড়ির অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তাও এখন বিশেষভাবে নজরে আসছে। কেউ তাঁর স্বাভাবিক থাকাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ নন্দিনীকে নিয়ে তাঁর আবেগের সঙ্গে বর্তমান আচরণের তুলনা করছেন। একইভাবে তনুশ্রীর মন্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে মতভেদ। একাংশ দর্শক মনে করছেন, প্রতিযোগীদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা বিগ বসের খেলারই অংশ। আবার অন্যদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে একটা সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে রাজবীর, নন্দিনী এবং তনুশ্রীকে ঘিরে বিগ বসের বাড়ির বাইরেও উত্তেজনা অব্যাহত। এবার এই দর্শক প্রতিক্রিয়ার পর তনুশ্রীকে নিয়ে রাজবীরের অনুরাগীদের মনোভাব কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার।

You cannot copy content of this page