পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নানা মন্তব্য ও রাজনৈতিক তরজা সামনে আসছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসানের পর রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের নেতানেত্রীদের বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হচ্ছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী পাপিয়া অধিকারীর একটি মন্তব্য নতুন করে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে চর্চা।
অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত পাপিয়া অধিকারী। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় তিনি। বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পাপিয়া। রাজনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। এবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং নরেন্দ্র মোদির পেশাগত পরিচয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য সামনে আসতেই তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাহিত্যচর্চার প্রসঙ্গ টেনে পাপিয়া অধিকারী বলেন, “সাহিত্যের মানুষ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে মুখ্যমন্ত্রীর চাকরি দেওয়া হয়েছিল!” অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাহিত্যিক পরিচয়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বের তুলনা উঠে এসেছে। তবে এখানেই শেষ নয়, এই প্রসঙ্গ ধরেই যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চা-বিক্রেতা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন পাপিয়ার জবাব ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রধানমন্ত্রী মোদির পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁকে কার্যত দেবতার আসনে বসান পাপিয়া।
তাঁর কথায়, “মোদিজি মানুষ নন, উনি দেবতা, ঠাকুর। উনি আধ্যাত্মিকতায় এতটা উত্তীর্ণ। উনি ওই বরফের মধ্যে ধ্যান করেছেন। লোকে তো বলেছিল, পারবেন না। উনি পেরেছেন। ওঁর ভাব সমাধি হয়েছিল। সবার হয় না।” অর্থাৎ মোদির আধ্যাত্মিক জীবন, বরফের মধ্যে ধ্যান এবং ভাব সমাধির প্রসঙ্গ তুলে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করেন বিজেপি বিধায়ক। এমনকী মোদিকে নিয়ে আর কোনও মন্তব্য না করার অনুরোধও জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ “নানুদার সেই পরামর্শ যে শেষ পর্যন্ত এমন কাণ্ডে পরিণত হবে…খেয়ে ব*মি করেছিল সবাই!” পর্দায় দাপট, গম্ভীর কণ্ঠস্বর ও চোখের চাহনি, টলিউডের ভয়ংকর খলনায়ক সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে অজানা স্মৃতি প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী রীনা চৌধুরী! বাস্তবে কেমন মানুষ ছিলেন অভিনেতা? তাঁর ব্যতিক্রমী স্বভাবের কথা শুনলে চমকে যাবেন আপনিও!
সব মিলিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাহিত্যিক পরিচয় নিয়ে মন্তব্য এবং নরেন্দ্র মোদির আধ্যাত্মিক পরিচয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যে পাপিয়া অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য ধরা পড়েছে। বিশেষ করে একজনের ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও অন্যজনের ক্ষেত্রে চা-বিক্রেতার পরিচয়ের প্রসঙ্গে তাঁকে দেবতা ও ঠাকুর বলে উল্লেখ করা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক তরজা কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার।






