কলকাতার চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নন্দনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি নন্দনের নামফলক থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এবার সেই বিতর্কেই মুখ খুললেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে সমাজ মাধ্যমে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ মিঠুন চক্রবর্তী একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীকালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি বাংলা বিনোদন জগতেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে। নন্দন বিতর্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে শুরুতেই এমন একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরানো নিয়ে তাঁর মতামত জানতে চাইলে মিঠুন পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা এখনও ওঁর নাম দেখতে চান?’ এরপর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নন্দনের নামফলকে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম থাকে, তাহলে তিনি এই চলচ্চিত্র উৎসবে থাকবেন না।
পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে কেন তিনি বাংলা বিনোদন জগতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেননি, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, ‘আমাকে কেউ ডাকেনি, আমি বাঙালি না, আমি অভিনেতা না, আমাকে কেউ ডাকেনি।’ তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার তাঁকে সম্মান দিয়েছে এবং আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেই তিনি আবার সক্রিয় হয়েছেন। তবে মিঠুনের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয়েছে পাল্টা কটাক্ষ। একাংশের নেটিজেন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একজন ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘মিঠুনদা ঠিক আছে, যখন যেমন তখন তেমন।
যেখানে যেমন সেখানে তেমন। তুমি যেমন আমি তেমন। পারেন বটে। চালিয়ে যান, কারণ এটাও তো একধরনের অভিনয়, মানুষ বোঝে।’ এমন মন্তব্যের মাধ্যমে অনেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা ও বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, মিঠুনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে টেনে এনেছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে থাকা মামলা এবং সেই প্রসঙ্গে অভিনেতার রাজনৈতিক দলবদল নিয়ে সমাজ মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই নানা দাবি ও জল্পনা চলে। মিঠুন চক্রবর্তীর বড় ছেলে মহাক্ষয় (মিমোহ) এবং স্ত্রী যোগিতা বালির বিরুদ্ধে এক অভিনেত্রী বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তার শিখরে, সব ছেড়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা ও পিএইচডি! শৈশবের বিপুল তারকাখ্যাতির পরও বড় হয়ে আর কখনও ক্যামেরার সামনে ফিরলেন না কেন? ‘মাস্টার স্বর্ণেন্দু’ এখন সম্পূর্ণ অন্য পরিচয়ে সুখী সংসারী! স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে কোথায় গড়েছেন নিজের আস্তানা?
২০১৫ সাল থেকে চলা সম্পর্কের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং ২০২০ সালে মুম্বাই পুলিশে আনুষ্ঠানিক এফআইআর (FIR) রেজিস্টার করা হয়। অভিযোগের কারণে মিমোহ-র বিয়ে সাময়িকভাবে থমকে গেলেও পরবর্তীতে তাঁরা আদালত থেকে আগাম জামিন পান। বর্তমানে এই হাই-প্রোফাইল মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা এসব মন্তব্যের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবুও নন্দন বিতর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়ার পর সেই প্রসঙ্গ ফের উস্কে দিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। একজন কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘এভাবে কতদিন তেল দিয়ে ছেলেকে বাঁচাবেন?’ সব মিলিয়ে নন্দন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরানো নিয়ে মিঠুনের মন্তব্য এখন রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি সমাজ মাধ্যমেও চর্চার কেন্দ্রে।






