‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে রাজবীর দে ও নন্দিনী দত্তের সম্পর্ক নিয়ে প্রথম থেকেই নানা আলোচনা চলছে। কখনও তাঁদের ঘনিষ্ঠতা, কখনও আবার দু’জনের মধ্যে ঝগড়া, সব কিছুই নজর কেড়েছে দর্শকদের। তবে এই সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে অভিনেতা জিতু কমলকে। বিশেষ করে রাজবীর ও নন্দিনীর ব্যক্তিগত সমীকরণ নিয়ে তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার সেই বিতর্কই যেন নতুন করে উসকে দিলেন জিতু। গতকালের পর্বে রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দর্শকদের একাংশ। অনেকের প্রশ্ন, অন্যের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে জিতুর এত মাথাব্যথা কেন? একই সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা এবং নিজের শিবভক্তির পরিচয়ের মধ্যে কোনও মিল খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করছেন কয়েকজন দর্শক।
এর আগেও নন্দিনীকে উদ্দেশ্য করে একাধিক কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছিল জিতুকে। একবার নন্দিনীকে তিনি বলেছিলেন, রাজবীরের মাথা খেয়েছেন তিনি। এমনকী নন্দিনীকে ‘ছেলেধরা’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন বলে মনে করিয়ে দিচ্ছেন দর্শকরা। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে এমন ইঙ্গিতও ছিল যে, নন্দিনী নাকি ছেলে ছাড়া থাকতে পারেন না। এবার গতকালের পর্বে রাজবীরকে উদ্দেশ্য করে জিতুর মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, নন্দিনী নাকি রাজবীরকে নষ্ট করে দিয়েছেন। অর্থাৎ কখনও নন্দিনীকে রাজবীরের জীবনে সমস্যা তৈরির কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, আবার কখনও তাঁদের সম্পর্ক নিয়েই কটাক্ষ করা হচ্ছে। এই ধরনের মন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিগ বসের দর্শকদের একাংশ।
জিতুর এই আচরণ নিয়েই এবার সরব হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। এক দর্শকের বক্তব্য, যিনি নিজেকে শিবের উপাসক বলে পরিচয় দেন, তাঁর মুখে এমন নোংরা ভাষা কী ভাবে আসে? মনে এত হিংসে থাকলে তাঁর শিবভক্তির পরিচয় কি শুধুই লোক দেখানো? এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। রাজবীর ও নন্দিনী একে অপরের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক রাখবেন, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয় বলেই মনে করছেন দর্শকদের একাংশ। সেখানে তৃতীয় একজনের বারবার এমন মন্তব্য করার কারণ বুঝতে পারছেন না তাঁরা। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, নন্দিনী ও রাজবীরের সম্পর্ক নিয়ে জিতুর অস্বস্তির কারণ অন্য কিছু। তাঁদের প্রশ্ন, দু’জনের ঘনিষ্ঠতা দেখলে জিতুর এত গা জ্বলে কেন? নাকি এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করেই ক্যামেরার নজরে থাকতে চাইছেন অভিনেতা?
এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে সৃজলা পালের প্রসঙ্গও। বিগ বসের ঘরে সৃজলাকে কেন্দ্র করে আগেও একাধিক ঘটনা এবং মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সৃজলার সঙ্গে জিতুর সমীকরণ নিয়েও দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। কিন্তু সেই প্রসঙ্গ থেকে নজর সরিয়ে এখন কি রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ককেই নতুন বিতর্কের বিষয় করে তুলছেন তিনি? দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, সৃজলাকে নিয়ে ঠিকমতো ফুটেজ তৈরি করতে না পেরেই কি এ বার অন্য সমীকরণকে হাতিয়ার করছেন জিতু? যদিও এটি দর্শকদের একাংশের অনুমান, জিতুর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তবে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য যে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বারবার তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুনঃ “রাজ তোর বাবা আর নেই…” “বাবার মনে একটা অভিমান এবং আত্মসম্মানের বিষয় কাজ করত, আমার তখন ৬ বছর আর ভাইয়ের ৫ দিন…” ইলেক্ট্রিসিটি কেটে দেওয়া হয়েছিল, জলও ছিল না বাড়িতে! বাবার মৃ’ত্যুর সেই রাত এখনও ভুলতে পারেননি রাজবীর, বিগ বসে মনামীকে জানালেন ছোটবেলার ভয়ঙ্কর দিনগুলির কথা!
সব মিলিয়ে বিগ বস বাংলার ঘরে জিতু, রাজবীর ও নন্দিনীকে ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে রাজবীর ও নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে, অন্যদিকে জিতুর মন্তব্যের ধরন নিয়েও আপত্তি জানাচ্ছেন অনেকে। কারও মতে, প্রতিযোগিতার মঞ্চে একে অপরের খেলার সমালোচনা করা যেতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বারবার কটাক্ষ করা কতটা যুক্তিসংগত? বিশেষ করে শিবভক্তির পরিচয় দেওয়া একজন মানুষের মুখে এমন ভাষা শুনে হতাশ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন দর্শক। তাঁদের মতে, ভক্তি শুধু পরিচয়ে নয়, মানুষের কথাবার্তা ও আচরণেও প্রকাশ পাওয়া উচিত। অন্যদিকে জিতুর এই মন্তব্যের পর রাজবীর ও নন্দিনী কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেদিকেও নজর থাকবে দর্শকদের। আগামী পর্বে এই বিতর্ক আরও বড় আকার নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত জিতুর মন্তব্য এবং রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক নিয়েই সরগরম বিগ বসের দর্শকমহল।






