বিনোদন জগতের তারকাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, পর্দার আড়ালে তাঁদের জীবনে লুকিয়ে থাকে ততটাই লড়াই, না-পাওয়ার গল্প আর নানা আক্ষেপ। কেউ স্বপ্ন পূরণের জন্য দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেন, আবার কেউ নিজের প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও মনের মতো সুযোগ পান না। টেলিভিশনের পরিচিত মুখদের জীবনেও এমন অনেক অজানা অধ্যায় রয়েছে, যা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। তেমনই এক অভিনেতার জীবনের গল্প উঠে এসেছে সম্প্রতি। বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেতা অনিন্দ্য চক্রবর্তী। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাংলা ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি।
কখনও নায়ক-নায়িকার বাবা, কখনও কাকা-জেঠা, আবার কখনও শ্বশুরমশাইয়ের চরিত্রে তাঁকে দেখেছেন দর্শক। অগ্নিপরীক্ষা, চেকমেট, শ্রীময়ী, পঞ্চমী’র মতো একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। তবে তাঁর অভিনয়জীবনের শুরুটা কিন্তু একেবারেই অন্য স্বপ্ন নিয়ে। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল ওড়িশার রাউরকেল্লায় জন্ম অনিন্দ্যর। সেখানেই কেটেছে তাঁর ছোটবেলা। ইস্পাত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করার সময় ক্রিকেটের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়।
বড় হয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই একসময় কলকাতায় আসেন তিনি। ভর্তি হন হেরম্বচন্দ্র কলেজে। পড়াশোনার পাশাপাশি চলত খেলাধুলাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। জীবিকার তাগিদে কাজের খোঁজ করতে গিয়ে টেলিভিশনে অভিনয়ের সুযোগ পান। নব্বইয়ের দশকে দূরদর্শনের ‘প্রতীক্ষা একটু ভালোবাসা’ ধারাবাহিকের হাত ধরেই অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে দীর্ঘ অভিনয়জীবনেও একটি আক্ষেপ আজও রয়ে গিয়েছে অভিনেতার মনে।
বাংলা টেলিভিশনে এত কাজ করলেও বড় পর্দায় অভিনয়ের সুযোগ পাননি তিনি। অনিন্দ্যর কথায়, ধারাবাহিক দিয়েই তাঁর অভিনয়জীবন শুরু, আবার সেখানেই যেন আটকে রয়ে গেলেন। অনেক চেষ্টা করেও সিনেমায় ছোট কোনও চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি। টেলিভিশনই এখন তাঁর উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। তাই সেই কাজকেই মন দিয়ে করে চলেছেন তিনি। একজন অভিনেতার কাছে বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাওয়ার আক্ষেপ যে কতটা গভীর, তাঁর কথাতেই তা স্পষ্ট। ব্যক্তিগত জীবনে অবশ্য বেশ সুখেই রয়েছেন অনিন্দ্য। ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি ভালোবেসে বিয়ে করেন বুটু এন্ডিকে।
আরও পড়ুনঃ “ছোটোবেলায় পাউরুটিকে পাউটুনি বলতিস, আমার পাশে থেকে তোকেও অনেক লড়াই করতে হয়েছে!” “৯২% থাকা সত্ত্বেও সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি হতে পারিসনি কারন…” ‘সন্তান মানুষ করতে পারবে না’ চ্যালেঞ্জ প্রাক্তন স্ত্রীর, এত বছরের লড়াই শেষে বাবার মুখ উজ্জ্বল করে নেদারল্যান্ডসের গ্রোনিঙ্গেন ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর’ হলেন মেয়ে সায়নী! আবেগঘন পোস্ট অভিনেতা সাগ্নিকের!
দীর্ঘ ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁরা একে অপরের সঙ্গী। এই দম্পতির কোনও সন্তান নেই। অভিনেতার বাবা-মা দুজনেই প্রয়াত হয়েছেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়েই তাঁর ছোট্ট সংসার। অভিনয়ের পাশাপাশি ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন অনিন্দ্য। বিশেষ করে জঙ্গলে বেড়ানো তাঁর ভীষণ পছন্দের। কাজের ফাঁকে স্ত্রীকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন অজানা জায়গার উদ্দেশে। ফটোগ্রাফির প্রতিও রয়েছে তাঁর বিশেষ আগ্রহ। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন অনিন্দ্য। তবে বড় পর্দায় কাজ করার অপূর্ণ ইচ্ছেটি আজও রয়ে গিয়েছে তাঁর মনে।






