“রেগে গেলে কী করবে, কী বলে বসবে নিজেই জানে না!” “খেলতে গিয়ে দুর্নিবারের সংসার নিয়ে ওই কথাগুলো বলা ঠিক হয়নি ওর একদম!” “ওই বকাটা যথেষ্ট যুক্তিসংগত ছিল” বিগ বসের ঘরে সৌরভের বকুনিতে কান্নায় ভেঙে পড়তেই, মেয়ের আবেগপ্রবণ আচরণে চিন্তায় মুখ খুললেন রণিতা দাসের বাবা-মা! মেয়ের জেদ আর স্বভাব নিয়ে কী জানালেন তারা?

বিগ বস বাংলার ঘর মানেই প্রতিদিন নতুন সমীকরণ, ঝগড়া, মান-অভিমান আর নানা রকম আবেগের ওঠাপড়া। এক ছাদের তলায় দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকতে গিয়ে প্রতিযোগীদের মধ্যে কখনও বন্ধুত্ব তৈরি হচ্ছে, আবার কখনও ছোটখাটো বিষয় নিয়েই তৈরি হচ্ছে মনোমালিন্য। এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী রণিতা দাস। বিগ বসের ঘরে তাঁর আচরণ, অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আবেগপ্রবণ মুহূর্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি দাদার বকুনি খেয়ে তাঁর কেঁদে ফেলার দৃশ্য নজর এড়ায়নি দর্শকদের। ছোটপর্দার পরিচিত মুখ রণিতা দাস অভিনয়ের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন রিয়্যালিটি শোয়ের সঙ্গে যুক্ত।

এবার বিগ বস বাংলার মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে পরিবারের থেকে দূরে সম্পূর্ণ অপরিচিত পরিবেশে এতজন মানুষের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা কাটানো যে তাঁর কাছে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন তাঁর বাবা-মাও। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মেয়ের বিগ বসের অভিজ্ঞতা, স্বভাব, খেলা এবং অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তাঁরা। বাবা-মায়ের কথায়, রণিতা বরাবরই কিছুটা আবেগপ্রবণ। বিশেষ করে রাগ হলে অনেক সময় কী বলা উচিত আর কী বলা উচিত নয়, তা বুঝে উঠতে পারে না সে। বিগ বসের ঘরে দাদার কাছ থেকে বকুনি খেয়ে মেয়ের কেঁদে ফেলার প্রসঙ্গে তাঁর বাবা জানান, ওই বকুনি যথেষ্ট যুক্তিসংগত ছিল।

তাঁর কথায়, রনিতা হয়তো ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই অন্য একজনকে কিছু বলতে গিয়েছিল, কিন্তু নিজের ক্ষতির দিকটা বুঝতে পারেনি। বিগ বসের ঘরে চারদিকে ক্যামেরা রয়েছে, এমনকী প্রতিযোগীদের শরীরেও মাইক্রোফোন লাগানো থাকে। তাই সেখানে কী বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মেয়েকে বকুনি খেতে দেখে খারাপ লাগলেও বাবা মনে করেন, ওই পরিস্থিতিতে তাকে বোঝানো দরকার ছিল। অন্যদিকে, রণিতার মা জানান, মেয়েকে তিনি বরাবরই একটু বেশি আবেগপ্রবণ হিসেবে দেখেছেন। মেয়ের ব্যক্তিগত জীবনের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। রণিতার পোষ্য কুকুরের জন্মদিনে পাওয়া একটি উপহারের কথা মনে করে তাঁর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন মা।

পোষ্যদের সঙ্গে রণিতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বিগ বসের ঘরে রাজবীর ও নন্দিনীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তৈরি হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বয়স কম হওয়ায় সবসময় আবেগ সামলানো সহজ নয়। চ্যানেলও সেই মুহূর্তগুলি দেখাচ্ছে, তাই সব দায় প্রতিযোগীদের উপর চাপানো ঠিক হবে না। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকতে থাকতে কারও সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার মতো সম্পর্ক তৈরি হতেই পারে। সেটাকে গেম প্ল্যান বলা যায় কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে চাননি তাঁরা। এদিকে, মেয়ের খেলার ধরন নিয়েও বেশ কিছু কথা জানিয়েছেন রণিতার বাবা-মা। তাঁদের মতে, প্রথমদিকে নতুন পরিবেশে অনেক মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল রণিতার।

আরও পড়ুনঃ “মনামী আর সোনামণি তো আলুর মতো! এদিকে ভরত দাকে বেরিয়ে যেতে হল, আর এরা এতদিন ধরে টিকে আছে কী করে কে জানে?” বিগ বস বাংলার ঘরে দুই জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রীর খেলায় বিরক্ত কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! শুধু জনপ্রিয়তা থাকলেই হয় না, নিজের উপস্থিতি বোঝানোর প্রয়োজন নিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় কী বললেন অভিনেত্রীর?

তবে গত কয়েকদিনে তাঁকে তুলনামূলক স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দ মনে হচ্ছে। মেয়ের খাওয়া-দাওয়ার পর দুপুরে অন্তত আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা ঘুমের অভ্যাস রয়েছে বলেও মজা করে জানান তাঁরা। রাত জেগে কাজ করতে সমস্যা না হলেও সকালে ঘুম থেকে উঠতে রণিতার একটু সময় লাগে। অন্যদিকে, কোমরের সমস্যার কারণে টাস্কে আগের মতো ঝুঁকি নিতে পারছে না বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। জেতার জন্য মেয়ের উপর কোনও চাপ নেই পরিবারের। তাঁদের একটাই চাওয়া, রণিতা যেন নিজের মতো করে খেলাটা উপভোগ করে। এমনকী কোনও সময় যদি মনে হয় আর ভালো লাগছে না, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তও নিতে পারে সে। তবে বাবা-মায়ের পাশাপাশি দর্শকদেরও আশা, বিগ বসের ঘরে নিজের জায়গা তৈরি করে অন্তত সেরা পাঁচে পৌঁছাক রনিতা।

You cannot copy content of this page