টলিউড ও বলিউডের পরিচিত অভিনেতা আশিস বিদ্যার্থী। অভিনয়ের পাশাপাশি বর্তমানে সমাজ মাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয় তিনি। তবে অভিনয় বা কাজের বাইরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একসময় কম আলোচনা হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইতি টেনে ৫৫ বছর বয়সে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেতা। এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন অসমের উদ্যোগপতি রূপালি বড়ুয়াকে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছিল নানা আলোচনা ও কটাক্ষ। অনেকেই তাঁর বয়স এবং নতুন করে সংসার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এত দিন ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময় নিয়ে বিশেষ কিছু না বললেও এবার নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আনলেন আশিস। জানালেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জীবনে সুখী হওয়ার জন্য অন্য কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
প্রথম বিয়ের বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আশিস জানান, ২৪ বছরের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার সময়টা তাঁর জীবনের অত্যন্ত কঠিন একটি অধ্যায় ছিল। যে সম্পর্কে জীবনের এতটা সময়, ভালোবাসা এবং আবেগ বিনিয়োগ করেছিলেন, সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় নিজেকে পরাজিত মনে হত তাঁর। অভিনেতার কথায়, ”যখন ২৪ বছরের দাম্পত্য ভেঙে গেল, তখন সেটা অত্যন্ত যন্ত্রণার সময় ছিল। আমার বয়স তখন প্রায় ৫৫ বছর। নিজেকে পরাজিত মনে হয়। মনে হয়, যে সম্পর্কে এত কিছু দিয়েছিলাম, তার সবটাই যেন আর রইল না।” তবে ঠিক কী কারণে তাঁদের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাননি অভিনেতা। বিষয়টিকে একান্ত ব্যক্তিগত বলেই মনে করেন তিনি। আশিসের বক্তব্য, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পিছনে এমন কিছু ব্যক্তিগত কারণ ছিল, যা নিয়ে বাইরে আলোচনা করে কারও কোনও লাভ হবে না।
কেউই এমন পরিণতি চাননি, কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে আলাদা হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। তাই অতীতের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা করতে রাজি নন তিনি। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলেও আশিসকে শুনতে হয়েছিল নানা ধরনের মন্তব্য। শুধু সমাজমাধ্যমের অপরিচিত মানুষ নয়, তাঁর পরিচিতদের মধ্যেও অনেকে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কেউ তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, নতুন করে বিয়ে করার পরিবর্তে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকলেই ভালো হত। আবার কেউ বলেছিলেন, এই বয়সে আর নতুন করে সংসার পাতার কী প্রয়োজন! বরং ছেলের বড় হয়ে ওঠার দিকে মন দেওয়া উচিত। পরিচিতদের এমন মন্তব্যে বিরক্ত হয়েছিলেন অভিনেতা।
তাঁদের উদ্দেশে আশিস জানিয়েছিলেন, ”দয়া করে আমার হয়ে অবসরের চিঠি লিখে দেবেন না।” অর্থাৎ, জীবনের বাকি সময়টা কী ভাবে কাটাবেন, সেই সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিয়ে দিতে পারেন না। তাঁর মতে, জীবনে প্রত্যেক মানুষই কোনও না কোনও সময়ে ভেঙে পড়তে পারেন। কিন্তু সেই ভাঙা অংশগুলো জুড়ে আবার নতুন করে বাঁচার অধিকারও প্রত্যেকের রয়েছে। কারও ব্যক্তিগত যন্ত্রণা নিয়ে মজা করা বা তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিচার করার অধিকার অন্য কারও নেই। বয়স যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেকেরই সুখী হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সেই সুখ খুঁজে পাওয়ার জন্য সমাজের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী রূপালি বড়ুয়ার সঙ্গে বেশ ভালো সময় কাটছে আশিসের। একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, দীর্ঘ গাড়িসফর কিংবা এক কাপ চা নিয়ে গল্প করা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: “এই আকাশ, এই বাতাসকে সাক্ষী রেখে…আমি তোমাকে ভালোবাসি”, বিগ বস বাংলার ঘরে সৃজলার হাত ধরে প্রেম নিবেদন অভিনেতা জিতু কমলের! প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে মুখ খুললেন নবনীতা দাস, কী প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রীর?
কাজের প্রয়োজনে অভিনেতাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। অনেক সময় রূপালিও তাঁর সঙ্গে সফরে বেরিয়ে পড়েন। একসঙ্গে সময় কাটানো এবং নতুন জায়গা ঘুরে দেখার প্রতি দু’জনেরই আগ্রহ রয়েছে। আশিস জানিয়েছেন, রূপালি তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। শুধু ঘোরাঘুরি নয়, দু’জনে একসঙ্গে বসে চা খেতে এবং গল্প করতেও ভালোবাসেন। রূপালির কবিতা লেখার অভ্যাস রয়েছে। পাশাপাশি হাতের কাজ এবং হস্তশিল্পের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে, যা আশিসেরও পছন্দের বিষয়। অভিনেতার মতে, নতুন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি নিজেদের আলাদা পরিচয় এবং পছন্দ বজায় রাখাও জরুরি। সম্পর্ক মানেই একজন অন্যজনকে বদলে দেবেন, এমনটা নয়। বরং দু’জনের নিজস্বতা বজায় রেখেই একসঙ্গে পথ চলা উচিত। ষাটের কোঠায় পৌঁছে জীবনের এই উপলব্ধি আরও গভীর হয়েছে তাঁর।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী ও গায়িকা রাজোশী বড়ুয়ার সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয়েছিল আশিস বিদ্যার্থীর। তাঁদের এক পুত্রসন্তান রয়েছে, নাম অর্থ। দীর্ঘ ২৪ বছরের দাম্পত্যের পর ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। যদিও ২০২৩ সালের মে মাসে আশিসের দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৫ মে কলকাতায় অসমের উদ্যোগপতি রূপালি বড়ুয়ার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অভিনেতা। নতুন করে জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা কটাক্ষের মুখে পড়লেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন তিনি। আশিসের মতে, জীবনের কোনও পর্যায়েই সুখ খোঁজার অধিকার হারিয়ে যায় না। অতীতের সম্পর্কের স্মৃতি এবং বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সঙ্গে নিয়েও সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। জীবনে খারাপ সময় আসতেই পারে, কিন্তু সেই কষ্টকে আঁকড়ে ধরে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়ার কোনও মানে নেই। বরং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করাই উচিত। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই অন্যদের উদ্দেশে এই বার্তাই দিয়েছেন অভিনেতা।






“রামচন্দ্রকে আমি একদম পছন্দ করি না!” “লোকের কথায় নিজের স্ত্রীকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছিলেন! বলতে পারতেন না, আমার স্ত্রী, তাতে তোমাদের কী?” সীতাকে সবচেয়ে বড় অপমান করেছেন রাবণ না রাম? সতীত্বের প্রমাণ চেয়ে চরম সিদ্ধান্ত, প্রশ্ন তুলে ‘আদর্শ পুরুষ’ রামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মানসী সিনহা! অভিনেত্রীর যুক্তিতে সহমত দর্শক?