“দুর্নিবারের আড়াই বছরের সন্তান রয়েছে, সৃজলার একবারও কি মনে হয়নি তাঁর একটা সংসার আছে?” ‘এখান থেকে আমাকে ছিঁড়ে দাও, একদিকে একটা আর অন্যদিকে একটা দাও’ সৃজলার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য ও আচরণ নিয়ে বি*স্ফোরক ভরত কল ও জয়শ্রী! দুর্নিবারের পর জিতু, প্রেমের সমীকরণ ঘিরে আপত্তি কিন্তু কাউকেই সরাসরি না করছেন না কেন অভিনেত্রী?

বিগ বস বাংলা সিজন ৩-কে ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। প্রতিযোগীদের খেলার কৌশল, একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক, ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং ঘরের ভিতরের সমীকরণ নিয়ে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা। বিশেষ করে জিতু কমল, সৃজলা গুহ, দুর্নিবার সাহা, নন্দিনী এবং রাজবীরকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে একাধিক বিতর্কিত বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা ভরত কল। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী জয়শ্রী মুখোপাধ্যায়ও। সৃজলার আচরণ থেকে শুরু করে জিতুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, এমনকী দুর্নিবারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

বিগ বসের ঘরে ৫৬ দিনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ভরত কল জানান, বাইরে থেকে কোনও প্রতিযোগীর খেলা বিচার করা আর একই ছাদের নীচে দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে থাকা এক বিষয় নয়। একসঙ্গে থাকতে থাকতে মানুষের আসল স্বভাব এবং সম্পর্কের সমীকরণ অনেকটাই বোঝা যায়। স্ত্রী জয়শ্রীও জানান, ভরতকে নিয়ে তাঁর একটি অভিযোগ রয়েছে। নন্দিনী ও রাজবীরকে বারবার ভোট দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে সম্প্রতি ঝগড়াও হয়েছে। জয়শ্রীর বক্তব্য, নন্দিনীর সমর্থকরা তাঁকে ভোট দিতেই পারেন, কিন্তু ভরত নিজে বিগ বসে থাকাকালীন একাধিকবার নমিনেশনে গেলেও অন্য প্রতিযোগীদের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সেভাবে সমর্থন করেননি। অন্যদিকে ভরতের দাবি, নন্দিনী একটি পরোটার ঝগড়া ছাড়া প্রায় সবসময়ই তাঁর পাশে থেকেছে। এমনকী তাঁর জন্য নন্দিনী সবচেয়ে বেশি কেঁদেছে বলেও জানান অভিনেতা। মনামির খেলার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বেশি চর্চা তৈরি হয়েছে সৃজলা গুহকে নিয়ে ভরত কলের মন্তব্যে। দুর্নিবার সাহার সঙ্গে সৃজলার ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁদের কথাবার্তা নিয়ে আগে থেকেই বিগ বসের দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই ভরত প্রশ্ন তোলেন, দুর্নিবারের যে স্ত্রী এবং আড়াই বছরের সন্তান রয়েছে, সেই বিষয়টি কি একবারও সৃজলার মাথায় আসেনি? তাঁর বক্তব্য, ঘরের ভিতরে দুর্নিবারকে কেন্দ্র করে যেভাবে বিভিন্ন সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, এখন জিতু কমলকে ঘিরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। সোনার সঙ্গে সৃজলার কথোপকথনে ‘এখান থেকে আমাকে ছিঁড়ে দাও, একদিকে একটা আর অন্যদিকে একটা দাও’ ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানান তিনি। ভরতের মতে, এ ধরনের কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। দুর্নিবারের সঙ্গে সৃজলার সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি যেন জিতুকে ঘিরেও দেখা যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত করেন অভিনেতা।

আরও পড়ুনঃ “রামচন্দ্রকে আমি একদম পছন্দ করি না!” “লোকের কথায় নিজের স্ত্রীকে অগ্নিপরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছিলেন! বলতে পারতেন না, আমার স্ত্রী, তাতে তোমাদের কী?” সীতাকে সবচেয়ে বড় অপমান করেছেন রাবণ না রাম? সতীত্বের প্রমাণ চেয়ে চরম সিদ্ধান্ত, প্রশ্ন তুলে ‘আদর্শ পুরুষ’ রামকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন মানসী সিনহা! অভিনেত্রীর যুক্তিতে সহমত দর্শক?

পাশাপাশি জিতু কমলকে নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ভরত। বিগ বসে প্রবেশের সময় জিতু হয়তো তাঁকে প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখেছিলেন বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু ঘরের ভিতরে তাঁদের মধ্যে ভালো ব্যবহার এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার কারণে জিতুর মনোভাবেও পরিবর্তন এসেছে বলে তাঁর ধারণা। তবে জিতুর সঙ্গে সৃজলার বর্তমান সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভরত। তাঁর দাবি, সৃজলা প্রথমদিকে দুর্নিবারকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছিলেন। এখন জিতুকে ঘিরেও একই ধরনের খেলার ছক তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে সৃজলাকে মিথ্যেবাদী বলার প্রসঙ্গে ভরত জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো একটি দুর্ঘটনার পরিকল্পনা সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল এবং পরবর্তী সময়ে নিরঞ্জন নিজেও তাঁর কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে জিতু বিগ বস থেকে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই কিছু বিষয় পরিষ্কার করতে চান অভিনেতা। সব মিলিয়ে বিগ বসের ঘরের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং খেলার কৌশল নিয়ে ভরত কলের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।

You cannot copy content of this page