“অনুভূতি বিক্রি করে আর কতদিন?” “আর দেখতে চাই না আপনার বাড়িতে কী হচ্ছে!” “অনেক তো রোজগার হয়েছে, এবার সত্যিই ঘরকন্নায় মন দিন!” ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ বন্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করতেই, নেটিজেনদের কটা’ক্ষের মুখে মহুয়া! পেজটি বন্ধ হয়ে যাক সেটাই চাইছেন সবাই?

সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় সকল বাঙালিদের কাছে ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ দীর্ঘদিন ধরেই একটি পরিচিত নাম। বিদেশের মাটিতে থেকেও বাঙালি সংস্কৃতি, রান্নাবান্না, পারিবারিক মুহূর্ত এবং দৈনন্দিন জীবনের নানান অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, ফেসবুকের বিভিন্ন নিয়ম, কপিরাইট স্ট্রাইক এবং পেজ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তিনি আর হয়তো ভিডিও বানাবেন না। এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে অবাক করার মতো বিষয় হল, যেখানে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সেখানে একাংশের প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মহুয়ার পোস্ট সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যে মানুষটি নিয়মিত কনটেন্টের মাধ্যমে প্রবাস জীবনের নানান দিক তুলে ধরেছেন, তাঁর পেজ যদি কোনও সমস্যার মুখে পড়ে তাহলে তা হতাশাজনক হবে। কেউ কেউ ইউটিউব চ্যানেলে তাঁকে অনুসরণ করার আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে এই সমর্থনের পাশাপাশি আরও একটি বড় অংশের মন্তব্যও নজর কেড়েছে, যেখানে সহানুভূতির বদলে উঠে এসেছে প্রবল সমালোচনা এবং পুরনো বিতর্কের প্রসঙ্গ।

সমালোচকদের অনেকেই কয়েক মাস আগের একটি ঘটনাকে সামনে এনেছেন। সেই সময় শাশুড়ির মৃ’ত্যুর খবর পেয়ে মহুয়া বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। অভিযোগ, সেই কঠিন পারিবারিক মুহূর্তেও তিনি শেষকৃত্যের বিভিন্ন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে ভিডিওতে প্রকাশ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, মৃ’তদেহ থেকে শুরু করে শ্মশানের একাধিক অংশও সেই ভিডিওতে দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেন অনেক দর্শক। সেই সময় থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং বহু মানুষ প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্ত কতটা প্রকাশ্যে আনা উচিত।

সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট অংশ। ভিডিওতে সন্তানদের প্রশ্নের উত্তরে চুল্লির কাজ বোঝাতে তিনি সেটিকে ওভেনে কেক বানানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে দাবি করেন দর্শকদের একাংশ। সেই মন্তব্য বহু মানুষের কাছে অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া তাঁর সংযত এবং মার্জিত ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা লাগে বলে মত অনেকের। যদিও সেই বিতর্কের পরেও মহুয়া নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করে গিয়েছেন এবং নিজের কাজ থামাননি।

এবার যখন তিনি পেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন, তখন সেই পুরনো ঘটনাগুলিই আবার নতুন করে সামনে এসেছে। কমেন্ট বক্সে কেউ লিখেছেন, “অনেক তো রোজগার হলো, এবার সত্যিই ঘরকন্নায় মন দিন।” আবার অন্য একজনের মন্তব্য, “অনুভূতি বিক্রি করে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, এবার বন্ধ হওয়াই ভালো।” অনেকেই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তাঁরা আর ব্যক্তিগত জীবনের এত বিস্তারিত প্রকাশ দেখতে আগ্রহী নন। তাঁদের মতে, একজন কনটেন্ট নির্মাতার জীবন সম্পর্কে প্রতিদিন আপডেট জানার মধ্যে দর্শকদের বিশেষ কোনও লাভ নেই।

আরও পড়ুনঃ ভালোবাসা কোনদিনও চাপা রাখা যায় না! মা’তাল অবস্থায় রাহুলকে মনের কথা জানিয়ে দিল রাহি! জন্মদিনের পার্টিতেই কি বদলে যাবে সব সমীকরণ? আসছে ‘শুধু তোমারই জন্য’-এর রোমান্সে মোড়া জমজমাট পর্ব!

তবে অন্যদিকে এখনও এমন বহু অনুরাগী রয়েছেন, যারা মনে করেন একটি বিতর্কিত ঘটনার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের কাজকে বিচার করা ঠিক নয়। তাঁদের দাবি, মহুয়ার কনটেন্ট বহু মানুষের কাছে প্রবাস জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মতভেদ স্পষ্ট হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটাই প্রশ্ন। সত্যিই যদি ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ একদিন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটি কি দর্শকদের বৃহত্তর অংশের ইচ্ছা, নাকি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় একাংশের ক্ষোভই শুধুমাত্র বেশি করে সামনে আসছে?

You cannot copy content of this page